শ্রেণী পঞ্চম বিষয় বাংলা পাঠ ১১ : কুটির শিল্প
শ্রেণী পঞ্চম
বিষয় বাংলা
পাঠ ১১ : কুটির শিল্প
মূল শব্দ ও অর্থ
১. কুটির শব্দের অর্থ হলো ছোট ঘর, কুঁড়েঘর, পর্ণকুটির বা সাধারণ বাসস্থান।
উদাহরণ:
ঋষি বনে একটি কুটিরে বাস করতেন।
গ্রামের প্রান্তে একটি ছোট কুটির ছিল।
সমার্থক শব্দ: কুঁড়েঘর, পর্ণকুটির, ছোট ঘর।
২. ধামা বলতে সাধারণত বাঁশ বা বেত দিয়ে তৈরি বড় গোলাকার পাত্র বোঝায়। এতে ধান, চাল, শস্য, সবজি বা অন্যান্য জিনিস রাখা ও বহন করা হয়।
উদাহরণ: কৃষক ধান ধামায় ভরে বাড়িতে নিয়ে এলেন।
৩. তাঁত বলতে কাপড় বোনার যন্ত্র বা কাপড় বোনার কাজ বোঝায়।
উদাহরণ:
গ্রামের অনেক মানুষ তাঁতে শাড়ি বোনেন।
এই শাড়িটি হাতে বোনা তাঁতের শাড়ি।
সহজ করে বললে, তাঁত = কাপড় বোনার মেশিন বা যন্ত্র।
৪. সমাদর শব্দের অর্থ হলো সম্মান, আদর, যথাযথ মর্যাদা প্রদান বা সাদরে গ্রহণ করা।
উদাহরণ:
অতিথিদের আন্তরিক সমাদর করা হলো।
তাঁর কাজ সমাজে ব্যাপক সমাদর পেয়েছে।
সমার্থক শব্দ: সম্মান, আদর, মর্যাদা, শ্রদ্ধা।
মূল শব্দ ও অর্থ
কুটির শিল্প: ঘরে বসে ছোট স্কেলে তৈরি করা হস্তশিল্প।
কুটির পণ্য: কুটিরে বা ঘরে তৈরি করা জিনিসপত্র।
পণ্য: বিক্রির জন্য তৈরি করা জিনিস বা সামগ্রী।
বেতের ঝুড়ি: বেত দিয়ে বোনা পাত্র।
মাটির হাঁড়ি: কাদা মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা পাত্র।
পাটের শিকা: ছাদ বা চাল থেকে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাখার জন্য পাট দিয়ে তৈরি জাল।
হাতে বানানো: কোনো যন্ত্র ছাড়া নিজের হাতে তৈরি করা।
মেলা: উৎসব বা কেনাবেচার জন্য অনেক মানুষের এককালীন সমাবেশ।
জামদানি শাড়ি: এক ধরণের ঐতিহ্যবাহী নকশা করা সুতি শাড়ি।
তাঁতের শাড়ি: তাঁত মেশিনে বোনা সুতি শাড়ি।
শীতলপাটি: মুর্তা গাছের বেত দিয়ে তৈরি এক ধরণের আরামদায়ক ঠাণ্ডা মাদুর।
শতরঞ্জি: এক ধরণের ঐতিহ্যবাহী মোটা সুতি বা উলের মেঝেতে পাতার গালিচা।
নকশিকাঁথা: কাপড়ের ওপর সূচিকর্ম বা সুই-সুতা দিয়ে সুন্দর নকশা করা কাঁথা।
হাতপাখা: বাতাস করার জন্য হাত দিয়ে ঘোরানো ছোট পাখা।
গয়না: অলঙ্কার (যেমন: মালা, কানের দুল ইত্যাদি)।
মর্যাদা: সম্মান বা বিশেষ স্থান।
ভ্রমণ: এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বেড়াতে যাওয়া।
বিবরণ: কোনো বিষয় বা ঘটনার লিখিত বা মৌখিক বর্ণনা।
সমৃদ্ধ: উন্নত বা ধনধান্যে ভরা।
কারখানা: যেখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বেশি পরিমাণে জিনিস তৈরি করা হয়।
বিখ্যাত: নামকরা বা সুপরিচিত।
মসলিন: অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং হালকা এক ধরণের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সুতি কাপড়।
সূক্ষ্ম সুতা: অত্যন্ত চিকন এবং মিহি সুতা।
মুঘল বাদশাহ-বেগম: প্রাচীন ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের রাজা ও রানি।
বণিক: ব্যবসায়ী বা যারা কেনাবেচা করে।
মূল শব্দ ও অর্থ
থালা-বাটি: খাবার খাওয়ার এবং পরিবেশন করার মাটির বা ধাতুর তৈরি পাত্র।
হাঁড়ি-পাতিল: রান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আকারের পাত্র।
হাতি-ঘোড়া: মাটির তৈরি খেলনা হাতি ও ঘোড়া।
বেড়া: ঘর বা আঙিনা ঘিরে রাখার জন্য বাঁশ বা কাঠের তৈরি আড়াল।
ঝুড়ি: জিনিসপত্র রাখার জন্য বাঁশ বা বেতের তৈরি পাত্র।
কুলা: শস্য বা চাল ঝাড়ার জন্য বাঁশের তৈরি এক ধরণের চ্যাপ্টা পাত্র।
চালুনি: চাল বা আটা ছাঁকার জন্য ব্যবহৃত ছিদ্রযুক্ত পাত্র।
মোড়া: বসার জন্য বাঁশ বা বেতের তৈরি ছোট গোল আসন।
দোলনা: শিশুদের ঘুমানোর বা দোলার জন্য ঝুলন্ত বিছানা।
বই রাখার তাক: বই সাজিয়ে রাখার খোপ বা আলমারি।
ধামা: শস্য মাপার বা রাখার জন্য বেত বা বাঁশের তৈরি বড় পাত্র।
বস্তা: পাট বা চটের তৈরি বড় থলে।
দড়ি: পাট বা সুতা পাকিয়ে তৈরি রশি।
পাপোশ: ঘরের দরজায় পা মোছার জন্য ব্যবহৃত ছোট মাদুর।
কানের দুল: কানে পরার অলঙ্কার।
গলার মালা: গলায় পরার হার বা অলঙ্কার।
হাতের চুড়ি: হাতে পরার গোল অলঙ্কার।
কাঁসা-পিতল: তামা ও দস্তার মিশ্রণে তৈরি এক ধরণের বিশেষ ধাতু।
তেজসপত্র: থালা, বাসন বা রান্নাবান্নার সামগ্রী (বাসনকোসন)।
নমুনা: উদাহরণ বা আদর্শ রূপ।
আবিষ্কার: নতুন কোনো কিছু তৈরি বা খুঁজে বের করা।
লুঙ্গি: পুরুষদের পরিধানের এক ধরণের সেলাই করা ঐতিহ্যবাহী কাপড়।
গামছা: শরীর মোছার জন্য বোনা পাতলা সুতি কাপড়।
নিদর্শন: প্রমাণ, চিহ্ন বা উদাহরণ।
বিশ্বে সুপরিচিত: সারা পৃথিবীতে খুব ভালোভাবে চেনা বা নামকরা।
খেজুরপাতা: খেজুর গাছের পাতা (যা দিয়ে পাটি বোনা হয়)।
চটা: বাঁশ বা বেত চিরে তৈরি করা পাতলা ফালি।
পাটি: মেঝেতে বসার বা শোয়ার জন্য বোনা মাদুর।
আসন: বসার জায়গা বা মাদুর।
মুর্তা গাছ: এক ধরণের বুনো গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যার ছাল দিয়ে শীতলপাটি তৈরি হয়।
নকশাকাঁথা: সুঁই-সুতা দিয়ে সুন্দর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী কাঁথা।
মেঝেতে: ঘরের মেঝের ওপর বা মাটিতে।
কাপড় পেড়ে: পুরনো শাড়ি বা ধুতি স্তরে স্তরে সাজিয়ে বা বিছিয়ে।
তালপাতা: তাল গাছের পাতা (যা দিয়ে হাতপাখা তৈরি হয়)।
শীতল করে: ঠাণ্ডা বা জুড়ায়।
আকর্ষণীয়: যা সহজে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বা দেখতে খুব সুন্দর।
দৈনন্দিন: প্রতিদিনের বা রোজকার।
গৃহসজ্জায়: ঘর সুন্দর করে সাজানোর কাজে।
সমাদর: কদর, সম্মান বা খুব পছন্দ করা।
নাগরিক মানুষের: শহরে বসবাসকারী মানুষের।
প্রবল চাহিদা: অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষা বা টান।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান: যেখানে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য তৈরি করা হয় (যেমন ফ্যাক্টরি বা কোম্পানি)।
পাঠ ১১ - কুটির শিল্প
★ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. বেতের ঝুড়ি কুটির শিল্পের একটি পণ্য।
২. মাটির হাঁড়ি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
৩. পাটের শিকা কুটির শিল্পের একটি নিদর্শন।
৪. আগে গ্রামবাংলার কুটিরে হাতে এসব পণ্য তৈরি হতো।
৫. এসব পণ্য বাজার ও মেলায় বিক্রি করা হতো।
৬. কুটিরে তৈরি হওয়ায় এসবকে কুটির পণ্য বলা হয়।
৭. কুটির পণ্যের শিল্পমূল্য থাকায় একে কুটির শিল্প বলা হয়।
৮. জামদানি শাড়ি কুটির শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য।
৯. তাঁতের শাড়িও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
১০. শীতলপাটি একটি বিখ্যাত কুটির শিল্পজাত পণ্য।
১১. শতরঞ্জি কুটির শিল্পের আরেকটি উদাহরণ।
১২. নকশিকাঁথা কুটির শিল্পের একটি বিশেষ নিদর্শন।
১৩. হাতপাখা কুটির শিল্পের একটি ব্যবহারিক পণ্য।
১৪. কুটির শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যও তৈরি হয়।
১৫. পর্যটক ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
১৬. ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার কুটির শিল্পের কথা আছে।
১৭. বর্তমানে কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না।
১৮. এখন কারখানাতেও কুটির পণ্য তৈরি হয়।
১৯. বাংলাদেশের কিছু কুটির পণ্য বিশ্ববিখ্যাত।
২০. মসলিন কাপড় ছিল একটি বিখ্যাত কুটির শিল্পজাত পণ্য।
২১. মসলিন সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি হতো।
২২. মোঘল বাদশাহ ও বেগমরা মসলিন ব্যবহার করতেন।
২৩. আরব ও ইউরোপের বণিকেরা মসলিন কিনে নিয়ে যেত।
২৪. মাটি দিয়ে থালা-বাটি তৈরি করা হয়।
২৫. মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল বানানো হয়।
২৬. মাটি দিয়ে পুতুল ও পশুর আকৃতি বানানো হয়।
২৭. বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরি করা হয়।
২৮. বাঁশ দিয়ে ঝুড়ি ও কুলা বানানো হয়।
২৯. বাঁশ দিয়ে চালুনি ও মোড়া বানানো হয়।
৩০. বেত দিয়ে চেয়ার তৈরি করা হয়।
৩১. বেত দিয়ে টেবিল ও দোলনা বানানো হয়।
৩২. বেত দিয়ে বই রাখার তাক বানানো হয়।
৩৩. পাট দিয়ে দড়ি তৈরি করা হয়।
৩৪. পাট দিয়ে পাপোশ বানানো হয়।
৩৫. পাট দিয়ে শিকা তৈরি করা হয়।
৩৬. সোনা দিয়ে কানের দুল বানানো হয়।
৩৭. রুপা দিয়ে গলার মালা বানানো হয়।
৩৮. কাঁসা-পিতল দিয়ে তৈজসপত্র বানানো হয়।
৩৯. তাঁতে তৈরি কাপড় কুটির শিল্পের একটি দিক।
৪০. কলকারখানা আবিষ্কারের আগে তাঁতের কাপড় ব্যবহৃত হতো।
৪১. এখনো তাঁতিরা শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেন।
৪২. তাঁতিরা চাদর ও গামছাও তৈরি করেন।
৪৩. জামদানি শাড়ি বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে।
৪৪. খেজুরপাতা দিয়ে পাটি বানানো হয়।
৪৫. বেতের চাটাই তৈরি করা হয়।
৪৬. শীতলপাটি বসার আসন বা মাদুর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪৭. শীতলপাটি মূর্তা গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়।
৪৮. শীতলপাটিও বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
৪৯. নকশিকাঁথা গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি হয়।
৫০. কুটির পণ্য দৈনন্দিন ব্যবহার ও গৃহসজ্জায়
প্রশ্নোত্তর
১. জ্ঞানমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: কুটির শিল্প কাকে বলে?
উত্তর: কুটিরে বা ঘরে বসে ছোট স্কেলে হাতে যে সব শিল্পকর্ম বা জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।
প্রশ্ন: কুটির পণ্য কী?
উত্তর: কুটিরে তৈরি হওয়া জিনিসপত্রকে কুটির পণ্য বলা হয়।
প্রশ্ন: গ্রামবাংলার মানুষ অতীতে ঘরে বসে হাতে কী কী তৈরি করত?
উত্তর: গ্রামবাংলার মানুষ অতীতে বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি এবং পাটের শিকা তৈরি করত।
প্রশ্ন: কুটিরে তৈরি জিনিসগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো?
উত্তর: বাজারে বা মেলায় নিয়ে বিক্রি করা হতো।
প্রশ্ন: অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী কুটির পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: জামদানি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, হাতপাখা এবং গয়না।
প্রশ্ন: বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা কত শতকে বাংলাদেশে এসেছিলেন?
উত্তর: চতুর্দশ শতকে।
প্রশ্ন: ইবনে বতুতার বিবরণীতে বাংলার কোন শিল্পের কথা উল্লেখ আছে?
উত্তর: বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন: বর্তমানে কুটির পণ্য শুধু কুটিরেই নয়, আর কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: বড় বড় কারখানাতেও তৈরি হয়।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন কুটির পণ্য একসময় পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল?
উত্তর: মসলিন কাপড়।
প্রশ্ন: মসলিন কাপড় কী দিয়ে বানানো হতো?
উত্তর: অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা দিয়ে।
প্রশ্ন: মসলিন কাপড় কারা ব্যবহার করতেন?
উত্তর: মুঘল বাদশাহ এবং বেগমরা মসলিন কাপড় ব্যবহার করতেন।
প্রশ্ন: কোন দেশের বণিকরা বাংলাদেশ থেকে মসলিন কিনে নিয়ে যেতেন?
উত্তর: আরব ও ইউরোপের বণিকরা।
২. অনুধাবনমূলক ও বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: কোন জিনিসগুলোকে কেন কুটির শিল্প বলা হয়?
উত্তর: গ্রামবাংলার ঘরে বসে মানুষ নিজস্ব মেধা ও শ্রম দিয়ে হাত দিয়ে যেসব জিনিস তৈরি করে, সেগুলোকে কুটির শিল্প বলা হয়। যেমন— নকশিকাঁথা, মাটির হাঁড়ি ইত্যাদি। এগুলো কোনো বড় যন্ত্র ছাড়া সম্পূর্ণ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় পণ্যের মর্যাদা পায় বলে এদের কুটির শিল্প বলা হয়।
প্রশ্ন: মসলিন কাপড়ের বিশেষত্ব বা বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: মসলিন কাপড়ের মূল বিশেষত্ব ছিল এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা দিয়ে তৈরি হতো। এটি এতই হালকা ও পাতলা ছিল যে এর রাজকীয় সৌন্দর্যের কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের বাদশাহ এবং বেগমরা এটি পরিধান করতেন। সারা পৃথিবীতে এই কাপড়ের ব্যাপক নামডাক ছিল।
প্রশ্ন: অতীত ও বর্তমানের কুটির শিল্পের মধ্যে কী পরিবর্তন এসেছে?
উত্তর: অতীতে কুটির শিল্পের পণ্যগুলো কেবল গ্রামের মানুষ নিজেদের ঘরে বসে সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করত এবং স্থানীয় বাজার বা মেলায় বিক্রি করত। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার কারণে এই জিনিসগুলো শুধু কুটিরেই সীমাবদ্ধ নেই, আধুনিক কারখানাতেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে।
৩. শূন্যস্থান পূরণ
১. কুটিরে তৈরি হতো বলে এসব জিনিসকে বলা হয় কুটির পণ্য।
২. ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন।
৩. এ দেশের কুটির শিল্পের কোনো কোনো পণ্য পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছিল।
৪. সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বানানো হতো মসলিন।
৫. মসলিন কিনে নিয়ে যেতেন আরব ও ইউরোপের বণিকরা।
৪. সঠিক উত্তরটি বাছাই করো (MCQ)
১. কুটির পণ্যের মর্যাদা দেওয়া হয় কোনটিকে?
(ক) প্লাস্টিকের খেলনা
(খ) লোহার তৈরি যন্ত্রপাতি
(গ) পণ্যকে শিল্পের মর্যাদা দিলে
(ঘ) বিদেশ থেকে আনা জিনিস
উত্তর: (গ) পণ্যকে শিল্পের মর্যাদা দিলে
২. মসলিন কাপড়ের মূল ক্রেতা কারা ছিলেন?
(ক) সাধারণ কৃষক
(খ) মুঘল বাদশাহ-বেগম
(গ) স্থানীয় তাঁতিরা
(ঘ) পাল বংশের রাজারা
উত্তর: (খ) মুঘল বাদশাহ-বেগম
৩. শীতলপাটি, শতরঞ্জি এগুলো কী ধরণের শিল্প?
(ক) ভারী শিল্প
(খ) কুটির শিল্প
(গ) তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প
(ঘ) রাসায়নিক শিল্প
উত্তর: (খ) কুটির শিল্প
১. জ্ঞানমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় এমন ৪টি কুটির পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, হাতি-ঘোড়া এবং পুতুল।
প্রশ্ন: বাঁশ দিয়ে কী কী জিনিস তৈরি করা হয়?
উত্তর: বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি ও মোড়া।
প্রশ্ন: বেত দিয়ে তৈরি করা হয় এমন কয়েকটি জিনিসের নাম লেখো।
উত্তর: চেয়ার, টেবিল, দোলনা, বই রাখার তাক এবং ধামা।
প্রশ্ন: পাট দিয়ে প্রস্তুত করা হয় এমন ৫টি জিনিসের নাম লেখো।
উত্তর: বস্তা, দড়ি, পাপোশ, শিকা এবং ঝুড়ি।
প্রশ্ন: সোনা-রূপা দিয়ে কী কী অলঙ্কার বানানো হয়?
উত্তর: কানের দুল, গলার মালা এবং হাতের চুড়ি।
প্রশ্ন: কাঁসা-পিতল দিয়ে প্রধানত কী বানানো হয়?
উত্তর: তেজসপত্র (বাসনকোসন)।
প্রশ্ন: কলকারখানা আবিষ্কারের আগে এ দেশের মানুষ কেমন কাপড় পরত?
উত্তর: তাঁতে বোনা কাপড় পরত।
প্রশ্ন: বর্তমানে তাঁতিরা তাঁতে কী কী কাপড় তৈরি করেন?
উত্তর: শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর ও গামছা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন শাড়ি বিশ্বে সুপরিচিত?
উত্তর: তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি।
প্রশ্ন: পাটি বা মাদুর তৈরিতে কী কী কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: খেজুরপাতা ও বেতের চটা।
প্রশ্ন: শীতলপাটি কী দিয়ে বানানো হয়?
উত্তর: চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে শীতলপাটি বানানো হয়।
প্রশ্ন: নকশিকাঁথা তৈরিতে গ্রামের নারীরা প্রথমে কী করতেন?
উত্তর: গ্রামের নারীরা প্রথমে মেঝেতে কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাতেন।
প্রশ্ন: নকশিকাঁথায় কী কী নকশা আঁকা হতো?
উত্তর: ফুল, লতা এবং পাতা একে নকশা করা হতো।
প্রশ্ন: হাতপাখা বানাতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা এবং কাপড়।
প্রশ্ন: শহরে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: নাগরিক বা শহরের মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে।
২. অনুধাবনমূলক ও বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: জামদানি শাড়িকে কেন বিশ্বে সুপরিচিত কুটির শিল্পের নিদর্শন বলা হয়?
উত্তর: জামদানি শাড়ি সম্পূর্ণ হাতে চালিত তাঁত মেশিনে অত্যন্ত নিপুণ নকশায় তৈরি করা হয়। এর বুনন শৈলী ও ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে সমাদৃত। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের কুটির শিল্পের একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত।
প্রশ্ন: শীতলপাটি কীভাবে তৈরি হয় এবং এর নাম শীতলপাটি কেন?
উত্তর: শীতলপাটি এক ধরণের বিশেষ বুনো উদ্ভিদ 'মুর্তা গাছ' দিয়ে তৈরি করা হয়। এই গাছের ছালকে চিকন বাঁশের ফালির মতো করে কেটে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই পাটি বোনা হয়। এই পাটি মেঝেতে পেতে বসলে বা শুলে শরীর জুড়িয়ে যায় এবং ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়, তাই একে শীতলপাটি বলা হয়।
প্রশ্ন: গ্রামীণ নারীরা কীভাবে একটি সাধারণ কাঁথাকে নকশিকাঁথায় রূপ দিতেন?
উত্তর: গ্রামের নারীরা প্রথমে পুরনো কাপড়ের স্তর মেঝেতে সুন্দর করে মেলে বা পেড়ে কাঁথা সেলাই করতেন। এরপর সেই সাধারণ কাঁথার ওপর তারা সুই আর রঙিন সুতা দিয়ে নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল, লতা, পাতা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ দৃশ্যের নকশা আঁকতেন। এভাবেই একটি সাধারণ কাঁথা আকর্ষণীয় নকশিকাঁথায় রূপ পেত।
প্রশ্ন: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং গৃহসজ্জায় কুটির পণ্যের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রান্নাবান্না, বসা বা জিনিসপত্র রাখার জন্য মাটির হাঁড়ি, বাঁশের মোড়া, ঝুড়ি বা পাটের বস্তা দারুণভাবে ব্যবহৃত হয়। আবার ঘরকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে শীতলপাটি, নকশিকাঁথা, দেয়ালে ঝুলানো শিকা বা পাটের তৈরি অলঙ্কৃত সামগ্রী গৃহসজ্জায় সমাদর পায়। এগুলো আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়।
৩. শূন্যস্থান পূরণ করো
১. কাঁসা-পিতল দিয়ে বানানো হয় তেজসপত্র।
২. তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত।
৩. চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে বানানো হয় শীতলপাটি।
৪. গরমে শরীরকে শীতল করে পাখার বাতাস।
৫. নাগরিক মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
৪. সঠিক উত্তরটি বাছাই করো (MCQ)
১. নিচের কোনটি তৈরিতে 'মুর্তা গাছ' ব্যবহার করা হয়?
(ক) মোড়া
(খ) শীতলপাটি
(গ) কুলা
(ঘ) হাতপাখা
উত্তর: (খ) শীতলপাটি
২. নকশিকাঁথায় নিচের কোনটি এঁকে নকশা করা হতো না?
(ক) ফুল
(খ) লতা
(গ) প্লাস্টিকের খেলনা
(ঘ) পাতা
উত্তর: (গ) প্লাস্টিকের খেলনা
৩. শহরের মানুষের চাহিদার কারণে কী গড়ে উঠেছে?
(ক) বড় লোহার কারখানা
(খ) কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
(গ) গাড়ি তৈরির কারখানা
(ঘ) বিদ্যুৎ কেন্দ্র
উত্তর: (খ) কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
পাঠ ১১ - কুটির শিল্প
অনুশীলনী অংশ : প্রশ্ন ও উত্তর
১. শব্দ দিয়ে বাক্য লিখি।
কুটির :
সমৃদ্ধ :
সূক্ষ্ম :
তৈজসপত্র :
নিদর্শন :
মোড়া :
কুলা :
কুটির শিল্প :
উত্তর:
কুটির : গ্রামের মানুষ কুটিরে বসে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করেন।
সমৃদ্ধ : বাংলাদেশের কুটির শিল্প খুবই সমৃদ্ধ।
সূক্ষ্ম : মসলিন কাপড় সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি হতো।
তৈজসপত্র : কাঁসা-পিতল দিয়ে সুন্দর তৈজসপত্র বানানো হয়।
নিদর্শন : জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের একটি নিদর্শন।
মোড়া : বাঁশ দিয়ে তৈরি মোড়ায় বসে দাদু গল্প করেন।
কুলা : মা কুলা দিয়ে চাল ঝাড়েন।
কুটির শিল্প : হাতে তৈরি পণ্যের শিল্পকে কুটির শিল্প বলা হয়।
২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. কুটির শিল্প কাকে বলে?
উত্তর: যেসব জিনিস কুটির বা ছোট ঘরে হাতে তৈরি করা হয়, সেগুলোকে কুটির পণ্য এবং এ পণ্য তৈরির কাজকে কুটির শিল্প বলে।
খ. ইবনে বতুতা কে? তিনি কোন সময়ে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন?
উত্তর: ইবনে বতুতা ছিলেন মরক্কোর একজন বিখ্যাত ভ্রমণকারী ও পর্যটক। তিনি চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন।
গ. বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে কোন পণ্য?
উত্তর: জামদানি শাড়ি ও শীতলপাটি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।
ঘ. নকশিকাঁথা কীভাবে তৈরি করা হয়?
উত্তর: গ্রামের নারীরা কাপড় পেতে তার ওপর নকশা এঁকে ফুল, লতা, পাতা সেলাই করে নকশিকাঁথা তৈরি করেন।
ঙ. কুটির পণ্য কোন কাজে লাগে?
উত্তর: কুটির পণ্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয় বসার জন্য, রান্নাঘরের কাজে, সাজসজ্জায়, ঘর সাজাতে এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে।
চ. আমার বাড়িতে কী কী কুটির পণ্য আছে তার তালিকা করি।
উত্তর: আমার বাড়িতে যেসব কুটির পণ্য আছে তার তালিকা নিম্নরূপ:
১. নকশিকাঁথা; ২. হাতপাখা; ৩. বাঁশের মোড়া; ৪. মাটির হাঁড়ি; ৫. পাটের দড়ি।
৩. একটি বাক্য থেকে দুটি বাক্য বানাই।
ক. ইবনে বতুতা বাংলাদেশে ঘুরে সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা লিখেছেন।
------------------------------
খ. কুটির পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মধ্য দিয়ে এর সমৃদ্ধি ঘটতে পারে।
------------------------------
গ. আমি বৈশাখী মেলায় গিয়ে নানা রকম কুটির পণ্য দেখেছি।
------------------------------
ঘ. কুটির শিল্পে পুঁজি কম লাগে এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়।
------------------------------
ঙ. হাতপাখাটি দামে সস্তা হলেও ভালো বাতাস দেয়।
------------------------------
উত্তর:
ক. ইবনে বতুতা বাংলাদেশে ঘুরেছিলেন। তিনি সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা লিখেছেন।
খ. কুটির পণ্য আমরা বেশি ব্যবহার করতে পারি। এতে কুটির শিল্পের সমৃদ্ধি ঘটতে পারে।
গ. আমি বৈশাখী মেলায় গিয়েছিলাম। সেখানে নানা রকম কুটির পণ্য দেখেছি।
ঘ. কুটির শিল্পে পুঁজি কম লাগে। এতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়।
ঙ. হাতপাখাটি দামে সস্তা। এটি ভালো বাতাস দেয়।
৪. কুটির পণ্যের নাম ও ব্যবহার লিখি।
উত্তর:
৫. পেশার নাম লিখি।
উত্তর:
৬. কাজ বোঝায় এমন শব্দ বাছাই করে লিখি।
নবীন তার মামা-মামির সঙ্গে মেলায় এসেছে। সে মামার হাত ধরে রেখেছে। মেলায় অনেক রকম জিনিস সে দেখতে পাচ্ছে। এগুলো দেখে তার ভালো লাগছে। হঠাৎ মামি বললেন, ‘নবীন, নাগরদোলায় চড়বে?’ নবীন মাথা নাড়িয়ে সায় জানাল। মামা দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেন। নবীন ভয়ে ভয়ে নাগরদোলায় চড়ল। চরকির মতো ঘুরতে লাগল নাগরদোলা।
উত্তর: কাজ বোঝায় এমন শব্দ নিম্নে বাছাই করা হলো:
এসেছে, ধরে রেখেছে, দেখতে পাচ্ছে, বললেন, মাথা নাড়াল, কাটলেন, চড়ল, ঘুরতে লাগল।
■ ধারাবাহিক, সামষ্টিক ও বৃত্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ■
■ প্রশ্নের ধারা : সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।
১. কুটির শিল্প বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কুটির শিল্প বলতে বোঝায় গ্রামের কুটিরে বা ছোট ঘরে হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদন। এসব পণ্য সাধারণত পরিবারের সদস্যদের শ্রমে তৈরি হয়। যেমন মাটির হাঁড়ি, বেতের ঝুড়ি, পাটের শিকা, নকশিকাঁথা, জামদানি ইত্যাদি। এগুলো তৈরি হয় স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে, কোনো যন্ত্র ব্যবহার না করেই। কুটির শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. কেন এসব পণ্যকে কুটির পণ্য বলা হয়?
উত্তর: একসময় এসব জিনিস বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে হাতে বানানো হতো। মানুষ নিজ ঘরে বা ছোট কুটিরে বসেই পণ্য তৈরি করত। তাই যেসব জিনিস কুটিরে বানানো হতো, সেগুলোকে বলা হতো কুটির পণ্য। যেমন – বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি, নকশিকাঁথা ইত্যাদি। কুটিরে তৈরি বলেই এসব পণ্যের নামের সঙ্গে ‘কুটির’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে।
৩. কুটির শিল্পের পণ্যগুলোর মধ্যে কোন কোনটি বিখ্যাত?
উত্তর: বাংলাদেশের কুটির শিল্পের পণ্যগুলোর মধ্যে জামদানি শাড়ি, শীতলপাটি, মসলিন কাপড়, নকশিকাঁথা, পাটের পণ্য ও বেতের আসবাব খুবই বিখ্যাত। বিশেষ করে মসলিন ও জামদানি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে। মসলিন এত সূক্ষ্ম ছিল যে একটি শাড়ি নাকি আঙুলে মুড়িয়ে রাখা যেত। এসব পণ্য বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের প্রতীক।
৪. ইবনে বতুতা কে ছিলেন এবং তিনি কী লিখেছিলেন?
উত্তর: ইবনে বতুতা ছিলেন চৌদ্দ শতকের এক বিখ্যাত ভ্রমণকারী ও লেখক। তিনি বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে এখানকার কুটির শিল্প সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর বিবরণে বাংলার সুসমৃদ্ধ কুটির শিল্প, যেমন তাঁতের কাপড়, মসলিন ইত্যাদির প্রশংসা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এখানকার মানুষ খুবই দক্ষ ও পরিশ্রমী ছিল।
৫. মসলিন কাপড় সম্পর্কে যা জানো লিখো।
উত্তর: মসলিন ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত কুটির পণ্য। এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে হাতে তাঁতে বোনা হতো। মসলিনের গুণ ও সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে মোঘল বাদশাহ ও বেগমরা এটি ব্যবহার করতেন। মসলিন এতই পাতলা ছিল যে এক টুকরো কাপড় আঙুলে জড়িয়ে রাখা যেত। আরব ও ইউরোপের বণিকেরা এটি কিনে নিয়ে যেত।
৬. বাংলাদেশে কোন কোন উপাদান দিয়ে কুটির পণ্য তৈরি হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের কুটির শিল্পে ব্যবহৃত উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাটি, বাঁশ, বেত, পাট, সোনা, রূপা, কাঁসা, পিতল, তালপাতা ও কাপড়। এসব প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে থালা-বাটি, পুতুল, গহনা, পাখা, জামদানি, নকশিকাঁথা ইত্যাদি তৈরি হয়।
৭. বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করা হয় ঝুড়ি, কুলা, মোড়া, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, চালনি, বই রাখার তাক ইত্যাদি। এসব পণ্য টেকসই, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব। গ্রামের মানুষ এখনও এসব ব্যবহার করে।
৮. পাট দিয়ে তৈরি জিনিসগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: পাট দিয়ে তৈরি হয় দড়ি, পাপোশ, শিকা, থলে ইত্যাদি। পাট বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। পাটের তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব ও মজবুত। বর্তমানে বিদেশেও এসব পণ্যের চাহিদা অনেক।
৯. তাঁতে তৈরি পণ্যগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: তাঁতে তৈরি হয় জামদানি শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা ইত্যাদি। এসব পণ্য হাতে বোনা হয়, যন্ত্রে নয়। তাঁতিরা অত্যন্ত নিপুণভাবে সুতা দিয়ে নকশা তৈরি করেন। জামদানি শাড়ি এখন বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে বিশ্বে পরিচিত।
১০. শীতলপাটি কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: শীতলপাটি মুর্তা নামের এক ধরনের উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি দেখতে চিকন বাঁশের মতো। মুর্তার পাতা শুকিয়ে ও রঙ দিয়ে নানা নকশায় বোনা হয়। শীতলপাটি গরমে ঠান্ডা অনুভব দেয়; তাই নাম হয়েছে ‘শীতলপাটি’।
১১. নকশিকাঁথা কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেতে তার ওপর ফুল, লতা, পাতা ইত্যাদি নকশা সেলাই করে নকশিকাঁথা তৈরি করেন। এটি এক ধরনের শিল্পকর্ম, যা নারীদের সৃজনশীলতা ও শ্রমের প্রতীক। নকশিকাঁথা শুধু উষ্ণ রাখতেই নয়, ঘর সাজাতেও ব্যবহার হয়।
১২. হাতপাখা কী দিয়ে বানানো হয় এবং এর কাজ কী?
উত্তর: হাতপাখা তৈরি করা হয় তালপাতা, বাঁশ, বেত ও কাপড় দিয়ে। এটি গরমে বাতাস করে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। প্রাচীনকাল থেকে হাতপাখা ঘরোয়া জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৩. কুটির পণ্যের ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: কুটির পণ্য দৈনন্দিন জীবনে যেমন দরকারি, তেমনি ঘর সাজাতেও ব্যবহৃত হয়। মাটির বাসন, পাটি, পাপোশ, গয়না ও নকশিকাঁথা গৃহসজ্জায় আকর্ষণ জোগায়।
১৪. বর্তমানে কুটির শিল্পের অবস্থা কী?
উত্তর: বর্তমানে কুটির শিল্প শুধু গ্রামে নয়, শহরেও জনপ্রিয়। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করছে। দেশি ও বিদেশি বাজারে চাহিদা বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।
১৫. কুটির শিল্প বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কুটির শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অন্যতম অংশ। এটি গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।
প্রশ্নের ধারা: রচনামূলক প্রশ্নোত্তর
১. কুটির শিল্প কী এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কুটির শিল্প হলো হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ছোট কুটিরে বা বাড়িতে তৈরি হয়। যেমন মাটির হাঁড়ি, বেতের ঝুড়ি, জামদানি, নকশিকাঁথা ইত্যাদি। এসব পণ্য তৈরি করতে বেশি যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। কুটির শিল্প বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি গ্রামীণ নারীদের আয়, আত্মনির্ভরতা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। কুটির শিল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, নান্দনিক ও ঐতিহ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
২. ইবনে বতুতা কুটির শিল্প সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: ইবনে বতুতা ছিলেন একজন বিখ্যাত মরক্কোর ভ্রমণকারী। তিনি চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে এসে এখানে কুটির শিল্পের বিকাশ দেখে বিস্মিত হন। তাঁর ভ্রমণ বিবরণে তিনিবাংলার তাঁতের কাপড়, মসলিন, মাটির পণ্য ও বেতের জিনিসের প্রশংসা করেছেন। তাঁর লেখায় বোঝা যায়, তৎকালীন বাংলার শিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষ ও পরিশ্রমী ছিলেন।
৩. মসলিন কাপড়ের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর: মসলিন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের গর্ব। এটি হাতে তাঁতে বোনা এক ধরনের সূক্ষ্ম কাপড়। মসলিন এত পাতলা ছিল যে এক গজ কাপড় আঙুলে মুড়িয়ে রাখা যেত। মোগল যুগে এটি রাজকীয় পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আরব ও ইউরোপের বণিকেরা মসলিন কিনে নিয়ে যেতেন; ফলে এটি বিদেশেও খ্যাতি লাভ করে। মসলিন বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও দক্ষ কারিগরি নিদর্শন।
৪. কুটির শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান ও পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের কুটির শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান হলো মাটি, বাঁশ, বেত, পাট, সোনা, রূপা, কাঁসা, পিতল ও কাপড়। এসব দিয়ে তৈরি হয় মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বেতের ঝুড়ি, মোড়া, পাটের পাপোশ, জামদানি, নকশিকাঁথা, গয়না ও শীতলপাটি। প্রতিটি পণ্যের নিজস্ব সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।
৫. বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বর্ণনা করো।
উত্তর: বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে বাঁশ ও বেতের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। এগুলো দিয়ে তৈরি হয় ঝুড়ি, কুলা, মোড়া, চেয়ার, দোলনা, চালুন ইত্যাদি। এসব জিনিস হালকা, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। গৃহস্থালির কাজে ও গৃহসজ্জায় বেতের আসবাব খুব জনপ্রিয়।
৬. তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ির ইতিহাস ও গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের গৌরব। এটি ঢাকার আশপাশে হাতে বোনা হয়। জামদানির নকশা সূক্ষ্ম ও নান্দনিক। একসময় বিদেশেও এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে জামদানি বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।
৭. শীতলপাটি কীভাবে তৈরি হয় এবং এর ব্যবহার কী?
উত্তর: মুর্তা গাছের চিকন কাণ্ড কেটে, শুকিয়ে ও রঙ দিয়ে বুনে শীতলপাটি তৈরি করা হয়। এটি দেখতে সুন্দর ও স্পর্শে ঠান্ডা। শীতলপাটি বসার আসন বা বিছানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পপণ্য।
৮. নকশিকাঁথা তৈরির প্রক্রিয়া ও এর সৌন্দর্য বর্ণনা করো।
উত্তর: গ্রামের নারীরা কাপড় পেতে হাতে সেলাই করে নকশিকাঁথা তৈরি করেন। তাঁরা ফুল, লতা, পাতা, পাখি, সূর্য ইত্যাদি নকশা করেন। এটি শুধু ব্যবহারিক নয়, শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। নকশিকাঁথা নারীদের সৃজনশীলতার প্রতীক।
৯. কুটির শিল্পে হাতপাখার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হাতপাখা প্রাচীনকাল থেকেই কুটির শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। এটি তৈরি হয় তালপাতা, বেত ও কাপড় দিয়ে। গরমে হাতপাখা বাতাস করে শরীর ঠান্ডা রাখে। বর্তমানে হাতপাখা শুধু ব্যবহারিক নয়, শোভা বর্ধনেও ব্যবহৃত হয়।
১০. কুটির শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ভূমিকা রাখে?
উত্তর: কুটির শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি গ্রামীণ মানুষকে কর্মসংস্থান দেয়, নারীদের আত্মনির্ভর করে তোলে এবং বিদেশে রপ্তানি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বে পরিচিত করেছে।
প্রশ্নের ধারা: শব্দার্থ
প্রশ্নর ধারা: শূন্যস্থান পূরণ
১. বাংলাদেশের গ্রামের — এ কুটির পণ্য তৈরি হতো।
২. কুটিরে তৈরি জিনিসকে বলা হয়— —।
৩. জামদানি শাড়ি ও নকশীকাঁথা— শিল্পের উদাহরণ।
৪. ইবনে বতুতা বাংলাদেশে — শতকে ভ্রমণ করেছিলেন।
৫. মসলিন কাপড় তৈরি হতো — সূতা দিয়ে।
৬. মসলিন ব্যবহার করতেন— বাদশাহ ও বেগমরা।
৭. বেত দিয়ে বানানো হয় চেয়ার, টেবিল ও—।
৮. পাট দিয়ে তৈরি করা হয় দড়ি, চট, গালিচা ও—।
৯. কাঁসা-পিতল দিয়ে তৈরি হয় —।
১০. তাঁতের কাপড় কুটির শিল্পের একটি —।
১১. মূর্তা গাছ দিয়ে তৈরি হয় —।
১২. নকশিকাঁথা বানাত— নারীরা।
১৩. তালপাতা ও বেত দিয়ে তৈরি হয় —।
১৪. কুটির পণ্য দৈনন্দিন — কাজে ব্যবহৃত হয়।
১৫. নাগরিক মানুষের — সৃষ্টি করলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।
উত্তর: ১. কুটিরে; ২. কুটির; ৩. কুটির; ৪. চৌদ্দ; ৫. সূক্ষ্ম; ৬. মোগল; ৭. দোলনা; ৮. শিকা; ৯. তৈজসপত্র; ১০. নমুনা; ১১. শীতলপাটি; ১২. গ্রামের; ১৩. হাতপাখা; ১৪. প্রয়োজনীয়; ১৫. চাহিদা।
প্রশ্নর ধারা: বাক্য গঠন
প্রশ্নর ধারা: মিলকরণ
১. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ: (১ × ৫ = ৫)
উত্তর:
১. কুটিরে হাতে তৈরি পণ্যকে বলে ➡️ ঘ. কুটির পণ্য
২. জামদানি শাড়ি ➡️ ক. কুটির শিল্পের নিদর্শন
৩. মসলিন কাপড় ➡️ খ. সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি
৪. শীতলপাটি তৈরি হয় ➡️ ঙ. মূর্তা গাছ দিয়ে
৫. নকশিকাঁথা বানান ➡️ গ. গ্রামের নারীরা
২. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ: (১ × ৫ = ৫)
উত্তর:
১. মাটি দিয়ে বানানো হয় ➡️ ড. থালা-বাটি ও হাঁড়ি
২. বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় ➡️ গ. কুড়ি ও মোড়া
৩. বেত দিয়ে বানানো হয় ➡️ ক. চেয়ার ও দোলনা
৪. পাট দিয়ে প্রস্তুত হয় ➡️ খ. শিকা ও দড়ি
৫. কাঁসা-পিতল দিয়ে বানানো হয় ➡️ ঘ. তৈজসপত্র
👉 প্রশ্নের ধারা: বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. কুটির পণ্য কোথায় তৈরি হতো?
(ক) কারখানায় (খ) কুটিরে
(গ) দোকানে (ঘ) নদীতে
২. জামদানি শাড়ি কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত?
(ক) কারখানা (খ) কুটির
(গ) কৃষি (ঘ) খনি
৩. মসলিন কাপড় বানানো হতো কিসে?
(ক) পাটে (খ) সূক্ষ্ম সুতায়
(গ) তুলো (ঘ) সুতিতে
৪. মসলিন ব্যবহার করতেন কারা?
(ক) বণিক (খ) কৃষক
(গ) বাদশাহ-বেগম (ঘ) ছাত্র
৫. মসলিন কোথায় বিখ্যাত ছিল?
(ক) আরব ও ইউরোপে (খ) আফ্রিকায়
(গ) জাপানে (ঘ) চীনে
৬. পাট দিয়ে তৈরি হয় —
(ক) পাটি (খ) গয়না
(গ) দড়ি (ঘ) কাঁথা
৭. বেত দিয়ে তৈরি হয় —
(ক) টেবিল (খ) কাপড়
(গ) হাঁড়ি (ঘ) নকশা
৮. কাঁসা-পিতল দিয়ে তৈরি হয় —
(ক) পোশাক (খ) তৈজসপত্র
(গ) চটা (ঘ) পুঁজি
৯. শীতলপাটি তৈরি হয় —
(ক) বেতে (খ) মূর্তা গাছে (গ) পাটে (ঘ) মাটিতে
১০. নকশিকাঁথা বানাত কারা?
(ক) পুরুষ (খ) তাঁতি
(গ) নারীরা (ঘ) বণিকেরা
১১. হাতপাখা তৈরি হয় —
(ক) তালপাতা ও বেত দিয়ে (খ) পাট দিয়ে
(গ) মাটি দিয়ে (ঘ) সোনা দিয়ে
১২. গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হয় —
(ক) কুটির পণ্য (খ) গাছ
(গ) পশু (ঘ) মাটি
১৩. ইবনে বতুতা ভ্রমণ করেছিলেন —
(ক) ১৪শ শতকে (খ) ১৫শ শতকে
(গ) ১৬শ শতকে (ঘ) ১৭শ শতকে
১৪. শীতলপাটি ব্যবহৃত হয় —
(ক) পরিধানে (খ) বসার আসন হিসেবে
(গ) রান্নায় (ঘ) মাছ ধরতে
১৫. কুটির পণ্য উৎপাদন করে কারা?
(ক) শ্রমিক (খ) কুটির প্রতিষ্ঠান
(গ) কৃষক (ঘ) ব্যবসায়ী
উত্তর: ১. (খ) কুটিরে; ২. (খ) কুটির; ৩. (খ) সূক্ষ্ম সুতায়; ৪. (গ) বাদশাহ-বেগম; ৫. (ক) আরব ও ইউরোপে; ৬. (গ) দড়ি; ৭. (ক) টেবিল; ৮. (খ) তৈজসপত্র; ৯. (খ) মূর্তা গাছে; ১০. (গ) নারীরা; ১১. (ক) তালপাতা ও বেত দিয়ে; ১২. (ক) কুটির পণ্য; ১৩. (ক) ১৪শ শতকে; ১৪. (খ) বসার আসন হিসেবে; ১৫. (খ) কুটির প্রতিষ্ঠান।
👉 প্রশ্নের ধারা: বিপরীত শব্দ লিখন
👉 প্রশ্নের ধারা: সমার্থ শব্দ লিখন
প্রশ্নের ধারা : মূলভাব লিখন
মূলভাব : বাংলাদেশের কুটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় গ্রামের কুটিরে হাতে বানানো হতো বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি, পাটের দড়ি, তাঁতের শাড়ি, নকশি কাঁথা ইত্যাদি। এসব পণ্যকে বলা হয় কুটির পণ্য। ইবনে বতুতা তাঁর বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। মসলিন কাপড় একসময় সারা বিশ্বে বিখ্যাত ছিল। মাটি, বাঁশ, বেত, পাট, সোনা, রুপা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার হয়। শীতলপাটি ও নকশিকাঁথা বাংলাদেশের গৌরবময় নিদর্শন। কুটির শিল্প কেবল অর্থনৈতিক নয়, নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই শিল্প রক্ষায় আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত।
প্রশ্নের ধারা : বিরাম চিহ্ন বসিয়ে অনুচ্ছেদ পুনর্লিখন
১. বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে এসব জিনিস হাতে বানানো হতো তারপর সেগুলো বিক্রি করা হতো বাজারে বা মেলায় নিয়ে কুটিরে তৈরি হতো বলে এসব জিনিসকে বলা হয় কুটির পণ্য
উত্তর : বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে এসব জিনিস হাতে বানানো হতো। তারপর সেগুলো বিক্রি করা হতো বাজারে বা মেলায় নিয়ে। কুটিরে তৈরি হতো বলে এসব জিনিসকে বলা হয় কুটির পণ্য।
২. ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন তাঁর বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা আছে এখন কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না
উত্তর : ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। তাঁর বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা আছে। এখন কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না।
৩. বাংলাদেশে অনেক ধরনের কুটির পণ্য রয়েছে যেমন—মাটি দিয়ে বানানো হয় থালা-বাটি হাঁড়ি-পাতিল হাতি-ঘোড়া পুতুল বেড়া ঝুড়ি কুলা চালুন ও মোড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় বাঁশ
উত্তর : বাংলাদেশে অনেক ধরনের কুটির পণ্য রয়েছে। যেমন—মাটি দিয়ে বানানো হয় থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, হাতি-ঘোড়া, পুতুল। বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুন ও মোড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় বাঁশ।
প্রশ্নের ধারা : প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে প্রশ্ন তৈরিকরণ
১. তাঁতে তৈরি করা কাপড় কুটির শিল্পের আরেকটি নমুনা। কলকারখানা আবিষ্কারের আগে এ দেশের মানুষ তাঁতে বোনা কাপড় পরত। এখনও তাঁতিরা শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা ইত্যাদি তৈরি করেন। তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত।
ক. কে তাঁতে কাপড় বোনা পরত?
খ. কী তাঁতে তৈরি করা হতো?
গ. কীভাবে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়?
ঘ. কোথায় জামদানি শাড়ি বিশ্বে সুপরিচিত?
ঙ. কেন তাঁতে তৈরি কাপড় কুটির শিল্পের নমুনা হিসেবে পরিচিত?
২. বাংলাদেশের বিশেষ একধরনের পাটির নাম শীতলপাটি। চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে বানানো হয় শীতলপাটি। শীতলপাটি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।
ক. কী বাংলাদেশের বিশেষ পাটির নাম?
খ. কীভাবে শীতলপাটি তৈরি করা হয়?
গ. কোন গাছ ব্যবহার করে শীতলপাটি বানানো হয়?
ঘ. কেন শীতলপাটি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে?
ঙ. কোথায় শীতলপাটির মর্যাদা সুপরিচিত?
৩. বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প নকশিকাঁথা। গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাত। তারপর সেই কাঁথায় নকশা করে ফুল, লতা, পাতা এঁকে তৈরি করত নকশিকাঁথা। তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে হাতপাখাও বানানো হয়। গরমে শরীরকে শীতল করে পাখার বাতাস।
ক. কে নকশিকাঁথা বানাত?
খ. কী নকশিকাঁথার মধ্যে আঁকা হতো?
গ. কীভাবে নকশিকাঁথা তৈরি করা হতো?
ঘ. কোথায় গ্রামীণ নারীরা কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাত?
ঙ. কেন হাতপাখা ব্যবহার করা হয়?
প্রশ্নের ধারা : পদ নির্ণয়
১. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।
ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। তাঁর বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা আছে। এখন কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না। 'কারখানাতেও এসব জিনিস তৈরি করা হয়। এ দেশের কুটির শিল্পের কোনো কোনো পণ্য পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছিল। যেমন মসলিন কাপড়।
উত্তর : ভ্রমণ = বিশেষ্য; সমৃদ্ধ = বিশেষণ; শুধু = অব্যয়; এসব = সর্বনাম; হয়েছিল = ক্রিয়া।
২. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।
বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প নকশিকাঁথা। গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাত। তারপর সেই কাঁথায় নকশা করে ফুল, লতা, পাতা এঁকে তৈরি করত নকশিকাঁথা। তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে হাতপাখাও বানানো হয়। গরমে শরীরকে শীতল করে পাখার বাতাস।
উত্তর : নকশিকাঁথা = বিশেষ্য; বানাত = ক্রিয়া; তারপর = অব্যয়; বাঁশ = বিশেষ্য; শীতল = বিশেষণ।