কুইজ পরীক্ষার উত্তরমালা শ্রেণি: পঞ্চম বিষয়: বাংলা (পাঠ ১১: কুটির শিল্প)
Shiuly's Class Room
Aklima Shiuly
কুইজ পরীক্ষার উত্তরমালা
শ্রেণি: পঞ্চম
বিষয়: বাংলা (পাঠ ১১: কুটির শিল্প)
১. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর:
(ক) উত্তর: ঘরের মধ্যে বা কুটিরে বসে ছোট পরিসরে প্রধানত নিজের হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে যেসব শিল্পকর্ম বা জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।
(খ) উত্তর: বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি এবং পাটের শিকা হাতে বানানো হতো।
(গ) উত্তর: কুটির পণ্য বলা হয়।
(ঘ) উত্তর: বাজারে বা মেলার মাঠে নিয়ে যেত।
(ঙ) উত্তর: জামদানি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি এবং গয়না।
(চ) উত্তর: চতুর্দশ শতকে।
(ছ) উত্তর: বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা আছে।
(জ) উত্তর: আধুনিক কারখানাতেও তৈরি করা হয়।
(ঝ) উত্তর: মসলিন কাপড়।
(ঞ) উত্তর: অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা।
(ট) উত্তর: মুঘল বাদশাহ এবং বেগমরা।
(ঠ) উত্তর: আরব ও ইউরোপের বণিকরা।
(ড) উত্তর: থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, হাতি-ঘোড়া, পুতুল এবং বেড়া।
(ঢ) উত্তর: ঝুড়ি, কুলা, चालूনি, মোড়া এবং বেড়া।
(ণ) উত্তর: চেয়ার, টেবিল, দোলনা, বই রাখার তাক এবং ধামা।
(ত) উত্তর: বস্তা, দড়ি, পাপোশ, শিকা এবং ঝুড়ি।
(থ) উত্তর: কানের দুল, গলার মালা এবং হাতের চুড়ি।
(দ) উত্তর: রান্না ও খাবার পরিবেশনের তেজসপত্র (বাসনকোসন)।
(ধ) উত্তর: তাঁতে বোনা নিজস্ব কাপড় পরত।
(ন) উত্তর: শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর ও গামছা।
(প) উত্তর: জামদানি শাড়ি।
(ফ) উত্তর: খেজুরপাতা ও বেতের চটা।
(ব) উত্তর: মুর্তা গাছ ব্যবহার করা হয় এবং এটি দেখতে চিকন বাঁশের মতো।
(ভ) উত্তর: ঘরের মেঝেতে পেড়ে বা বিছিয়ে নিতেন।
(ম) উত্তর: ফুল, লতা এবং পাতা আঁকা হতো।
(য) উত্তর: তালপাতা, বাঁশ বা কাপড়ের তৈরি হাতপাখা।
(র) উত্তর: তালপাতা, বাঁশ, বেতের চটা এবং কাপড়।
(ল) উত্তর: কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (বাণিজ্যিক শোরুম বা ফ্যাক্টরি)।
২. কাঠামোবদ্ধ ও বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর:
(ক) জামদানি শাড়িকে কেন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের কুটির শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা হয়?
উত্তর: জামদানি শাড়ি সম্পূর্ণ হাতে চালিত তাঁতে অত্যন্ত নিপুণ কারুকাজ ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি করা হয়। এর সুক্ষ্ম বুনন শৈলী এবং অতুলনীয় গুণগত মান সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে সমাদৃত। আবহমান বাংলার এই নিজস্ব শিল্পটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে সগৌরবে তুলে ধরে বলেই একে কুটির শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা হয়।
(খ) গ্রামীণ নারীরা কীভাবে একটি সাধারণ কাঁথাকে আকর্ষণীয় নকশিকাঁথায় রূপ দিতেন?
উত্তর: গ্রামীণ নারীরা প্রথমে পুরনো কাপড়ের কয়েকটি স্তর ঘরের মেঝেতে সুন্দর করে মেলে বা পেড়ে কাঁথা সেলাই করতেন। এরপর সেই সাধারণ কাঁথার ওপর তারা সুই আর রঙিন সুতা ব্যবহার করে নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল, লতা, পাতা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ দৃশ্যের কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতেন। এভাবেই তাদের নিখুঁত ও নিপুণ পরিশ্রমে একটি সাধারণ কাঁথা আকর্ষণীয় নকশিকাঁথায় রূপ পেত।
(গ) শীতলপাটি কীভাবে তৈরি হয়? একে 'শীতলপাটি' বলার পেছনের কারণটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শীতলপাটি এক ধরণের বিশেষ বুনো উদ্ভিদ 'মুর্তা গাছ' দিয়ে তৈরি করা হয়। এই গাছের ছালকে চিকন বাঁশের ফালির মতো করে কেটে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই পাটি বোনা হয়। এই পাটি মেঝেতে পেতে বসলে বা শুলে গ্রীষ্মকালে শরীর জুড়িয়ে যায় এবং এক ধরণের চমৎকার ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়, তাই একে শীতলপাটি বলা হয়।
(ঘ) আমাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে এবং ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে কুটির পণ্যের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: কুটির পণ্যের গুরুত্ব নিচে ৫টি বাক্যে দেওয়া হলো:
১. মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশের মোড়া, ঝুড়ি ইত্যাদি আমাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হয়।
২. গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ছাড়াও হাতপাখা ও শীতলপাটি আমাদের শরীরকে শান্তি দেয়।
৩. নকশিকাঁথা, দেয়ালে ঝুলানো শিকা বা পাটের তৈরি শৈল্পিক সামগ্রী ঘর সুন্দর করে সাজাতে সমাদর পায়।
৪. বাঁশ, বেত বা মাটির তৈরি জিনিসপত্র প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ রক্ষা করে।
৫. এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ লোকশিল্প টিকে থাকে।
(ঙ) প্রাচীনকালের মসলিন কাপড় কেন বিশ্ববিখ্যাত ছিল এবং এই কাপড়ের সাথে কাদের রাজকীয় সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: মসলিন কাপড় অত্যন্ত সূক্ষ্ম, হালকা ও মিহি সুতা দিয়ে তৈরি হতো। এর সুতা ও বুনন এতই মিহি ছিল যে এটি সাধারণ কাপড়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও রাজকীয় দেখাত, যার কারণে এটি সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল। এই কাপড়ের রাজকীয় সৌন্দর্যের কারণে প্রাচীন ভারতের মুঘল বাদশাহ এবং বেগমরা এটি পরিধান করতেন এবং আরব ও ইউরোপের বণিকরা এটি বিপুল আগ্রহে কিনে নিয়ে যেতেন।
(চ) অতীত ও বর্তমানের কুটির শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: অতীতে কুটির শিল্পের পণ্যগুলো গ্রামের মানুষ নিজেদের ঘরে বসে সম্পূর্ণ হাতে নিজেদের মেধা ও শ্রমে তৈরি করত এবং কেবল স্থানীয় গ্রামীণ বাজারে বা মেলায় বিক্রি করত। কিন্তু বর্তমানে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে শহরের মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে এই জিনিসগুলো আর শুধু ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক কারখানাতেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পণ্য তৈরি ও দেশ-বিদেশে বাজারজাত করা হচ্ছে।