পঞ্চম শ্রেণী | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | পঞ্চম অধ্যায় - আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
পঞ্চম শ্রেণী
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
পঞ্চম অধ্যায় - আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতির স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার মহা সংগ্রাম। পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন ঘটে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করলেও শাসকচক্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ৭ই মার্চ ১৯৭১ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার আহ্বান জানান। ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' চালিয়ে ঢাকা শহরে গণহত্যা চালায় এবং শেখ মুজিবকে বন্দি করে। ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, যার রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তাজউদ্দীন আহমদ এবং প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী। মুক্তিবাহিনী ছাত্র, যুবক, কৃষক ও সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত হয় এবং 'কে', 'এস', 'জেড' ফোর্সে ভাগ হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালায়। নারীরা সেবা, চিকিৎসা ও অস্ত্র বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। ভারত শরণার্থী আশ্রয় ও মিত্রবাহিনী সহায়তা প্রদান করে। ১৬ই ডিসেম্বর জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত হয়। শহীদ, বীরত্বপূর্ণ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তান বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার।
প্রথম আঘাত বাংলা ভাষার উপর করা হয়।
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা হয়।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন হয়।
যুক্তফ্রন্ট সরকার বেশি দিন টিকতে পারেনি।
১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।
পাকিস্তানি শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে।
১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।
শাসকচক্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।
৭ই মার্চ ১৯৭১ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন।
ভাষণে তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামের আহ্বান জানান।
ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো এর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়।
২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় হামলা চালায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল লক্ষ্য করা হয়।
পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স আক্রমণ করা হয়।
অপারেশন সার্চলাইট নামে গণহত্যা চালানো হয়।
ঐ রাত 'কালরাত' নামে পরিচিত।
শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়।
২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মেজর জিয়াউর রহমান।
২৬শে মার্চ আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
১০ই এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার গঠন হয়।
মুজিবনগর সরকারের উদ্দেশ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও সমর্থন আদায়।
১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরে সরকার শপথ নেয়।
রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান।
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এমএজি ওসমানী।
দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এমএজি ওসমানী।
উপ-প্রধান সেনাপতি ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
মুক্তিবাহিনীকে ৩টি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়: কে, এস ও জেড ফোর্স।
ফোর্স দায়িত্বে ছিলেন:
Z Force (জেড ফোর্স) ➡️ জিয়াউর রহমান
S Force (এস ফোর্স) ➡️ কে এম শফিউল্লাহ
K Force (কে ফোর্স) ➡️ খালেদ মোশাররফ
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে।
নারী মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র বহন ও সহায়তা প্রদান করেন।
সাংস্কৃতিক কর্মীরা গান, কবিতা ও সংবাদ প্রচার ভূমিকা রাখেন।
সাধারণ মানুষ খাবার, চিকিৎসা, অর্থ ও আশ্রয় প্রদান করেন।
পাকিস্তান সরকার শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠন করে।
১০-১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
২১শে নভেম্বর যৌথবাহিনী গঠন করা হয়।
১৬ই ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।
মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব স্বীকৃতির জন্য চারটি খেতাব দেওয়া হয়: বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক।