পঞ্চম শ্রেণি | বিষয় বাংলা| পাঠ ৯ | রাখাল ছেলে | বৃত্তি কোচিং ২০২৬
পাঠ ১০ - রাখাল ছেলে
কবি পরিচিতি:
'রাখাল ছেলে' কবিতার রচয়িতা জসীমউদ্দীন। তিনি 'পল্লীকবি' নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর কবিতায় বাংলাদেশের পল্লীপ্রকৃতি ও মানুষের সহজ-সরল রূপটি ফুটে উঠেছে। পল্লীর মাটি ও মানুষের জীবনচিত্র তাঁর কবিতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। পল্লীর মানুষের আশা-স্বপ্ন, আনন্দ-বেদনা ও বিরহ-মিলনের এমন আবেগময় চিত্র আর কোনো কবির কাব্যে খুঁজে পাওয়া ভার। এ কারণে তিনি পল্লীকবি নামে খ্যাত। এ ছাড়া জসীমউদ্দীন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক গান রচনা করেছেন। তিনি ১৯০৩ সালে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। জসীমউদ্দীনের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে 'নক্সী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'রাখালী', 'হাসু', 'এক পয়সার বাঁশি' ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৭৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। মহান এই কবি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
অজানা গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ
আবির রং – লালচে রং।
কুটির – কুঁড়েঘর।
কোথা ধাও – কোথায় ছুটে চলেছ?
চামর — পাখা।
নাও — নৌকা।
নীল-নোয়ানো — নীল আকাশ নেমে এসেছে এমন।
প্রভাত হাওয়া — সকাল বেলার বাতাস।
বাঁকা গাঁয়ের পথ — গ্রামের বাঁকা রাস্তা।
বারেক — একবার মাত্র।
মিঠেল রোদ — কোমল রোদ।
(কোমল মানে হলো নরম, মৃদু, স্নিগ্ধ বা আরামদায়ক।
তাই "মিঠেল রোদ — কোমল রোদ" বলতে এমন রোদকে বোঝায় যা খুব বেশি তীব্র নয়, বরং নরম ও আরামদায়ক লাগে।)
সবুজ ঘেরা গাঁ — সবুজ গাছগাছালিতে ভরা গ্রাম।
সাঁঝ-আকাশ — সন্ধ্যার আকাশ।
সোনার পাতায় ছাওয়া — শুকনো সোনালি পাতা দিয়ে ঢাকা।
কবিতা
রাখাল ছেলে
জসীমউদ্দীন
‘রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও।
বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?’
‘ওই যে দেখো নীল-নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ,
কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা,
সেথায় আছে ছোট্ট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া,
সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবির রঙে নাওয়া;
সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা—
সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না!’
রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! আবার কোথা ধাও,
পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও।’
‘ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে,
সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে।
আমার সাথে করতে খেলা প্রভাত হাওয়া ভাই,
সরষে ফুলের পাপড়ি নাড়ি ডাকছে মোরে তাই।
চলতে পথে মটরশুঁটি জড়িয়ে দু-খান পা,
বলছে ডেকে, ‘গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা!’
সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই!
সাঁঝের বেলা কইব কথা এখন তবে যাই!’
কবিতার প্রতিটি লাইনের ব্যাখ্যা:
১. লাইন: ‘রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও।
কঠিন শব্দের অর্থ:
রাখাল ছেলে: যে ছেলে মাঠে গরু চরায়।
বারেক: একবার।
লাইনটির অর্থ: কবি বা কোনো পথচারী রাখাল ছেলেকে ভালোবেসে ডাকছেন এবং তাকে অন্তত একবার পিছন ফিরে তাকাতে অনুরোধ করছেন।
২. লাইন: বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?’
কঠিন শব্দের অর্থ:
গাঁয়ের: গ্রামের।
বেয়ে: অনুসরণ করে বা পথ ধরে।
লাইনটির অর্থ: কবি রাখাল ছেলেকে জিজ্ঞেস করছেন যে, সে গ্রামের এই আঁকাবাঁকা পথটি ধরে একা একা কোথায় হেঁটে চলে যাচ্ছে।
৩. লাইন: ‘ওই যে দেখো নীল-নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ,
কঠিন শব্দের অর্থ:
নীল-নোয়ানো: নিচের দিকে ঝুঁকে থাকা নীল আকাশ।
গাঁ: গ্রাম।
লাইনটির অর্থ: প্রশ্নের উত্তরে রাখাল ছেলে দূরের একটি গ্রামকে দেখিয়ে বলছে—ঐ যে দেখা যাচ্ছে সবুজ গাছপালায় ঘেরা একটি গ্রাম, যার ওপর নীল আকাশ পরম মমতায় ঝুঁকে আছে।
৪. লাইন: কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা,
কঠিন শব্দের অর্থ:
চামর: লেজ বা চুল দিয়ে তৈরি এক ধরণের পাখা বা মাঙ্গলিক ঝালর (এখানে কলার পাতার দোলানোকে চামর দোলাইয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে)।
শিশির: ভোরের কুয়াশার জলবিন্দু।
লাইনটির অর্থ: গ্রামটির রূপ বর্ণনা করে রাখাল বলছে, সেখানে কলার পাতাগুলো বাতাসে চামরের মতো দুলতে থাকে এবং সকালের শিশিরবিন্দু যেন পরম যত্নে সেই গ্রামের পা ধুয়ে দেয়।
৫. লাইন: সেথায় আছে ছোট্ট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া,
কঠিন শব্দের অর্থ:
সেথায়: সেখানে।
কুটির: ছোট কুঁড়েঘর।
ছাওয়া: ছাদ বা চালা ঢাকা।
লাইনটির অর্থ: সেই সুন্দর গ্রামের ভেতর একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর আছে, যার খড়ের চালের ওপর সূর্যের আলো পড়লে মনে হয় ঘরটি যেন সোনার পাতায় ঢাকা।
৬. লাইন: সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবির রঙে নাওয়া;
কঠিন শব্দের অর্থ:
সাঁঝ-আকাশের: সন্ধ্যার আকাশের।
আবির: এক ধরণের লাল বা রঙিন গুঁড়ো রঙ।
নাওয়া: গোসল করা বা স্নান করা (এখানে রঙে ভিজে থাকার অর্থে)।
লাইনটির অর্থ: সন্ধ্যার সময় আকাশের লালচে-রঙিন আলো যখন সেই ঘরের ওপর পড়ে, তখন মনে হয় পুরো ঘরটি যেন সন্ধ্যার আবির রঙে স্নান করে সেজে উঠেছে।
৭. লাইন: সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা—
কঠিন শব্দের অর্থ:
একলা: একা একা।
লাইনটির অর্থ: রাখাল ছেলে বলছে, সেই সুন্দর কুঁড়েঘরটিতে তার মা একা বসে আছেন এবং পরম স্নেহে তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে তাকে ডাকছেন।
৮. লাইন: সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না!’
কঠিন শব্দের অর্থ:
ছাড় না: যেতে দাও বা ছেড়ে দাও।
লাইনটির অর্থ: মায়ের টানে ব্যাকুল হয়ে রাখাল ছেলে কবিকে অনুরোধ করছে—সে তার মায়ের কাছে ঐ ঘরে ফিরে যাবে, তাই ভাই হিসেবে তাকে আর আটকে না রেখে এখন যেন ছেড়ে দেওয়া হয়।
৯. লাইন: ‘রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! আবার কোথা ধাও,
কঠিন শব্দের অর্থ:
কোথা: কোথায়।
ধাও: ছুটে চলা বা দ্রুত বেগে যাওয়া।
লাইনটির অর্থ: কবি বা পথচারী আবারও রাখাল ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞেস করছেন—হে রাখাল ছেলে, তুমি সকাল সকাল আবার কোন দিকে ছুটে চলেছ?
১০. লাইন: পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও।’
কঠিন শব্দের অর্থ:
পুব আকাশে: পূর্ব আকাশে (যেদিক থেকে সূর্য ওঠে)।
সবে: এইমাত্র বা মাত্র।
নাও: নৌকা।
লাইনটির অর্থ: কবি বলছেন, পূর্ব আকাশে মাত্র সূর্য ওঠার সময়ে রঙিন মেঘগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে, যা দেখতে ঠিক মেঘের নৌকার মতো লাগছে; আর এমন ভোরেই তুমি ছুটে চলেছ।
১১. লাইন: ‘ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে,
কঠিন শব্দের অর্থ:
জেগেই: ঘুম থেকে উঠে।
লাইনটির অর্থ: এবার প্রশ্নের উত্তরে রাখাল ছেলে বলছে, আজ ঘুম থেকে উঠেই আমি যখন মাঠের দিকে তাকালাম, তখন শিশিরে ভেজা নরম ঘাসগুলো আমার চোখে পড়ল।
১২. লাইন: সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে।
কঠিন শব্দের অর্থ:
স্বপন: স্বপ্ন।
মিঠেল: মিষ্টি বা আরামদায়ক মৃদু রোদ।
লাইনটির অর্থ: রাখাল ছেলে বলছে, রাতের বেলা সে মনে মনে যে সুন্দর স্বপ্নগুলো দেখেছিল, সকালের মিষ্টি রোদে চারপাশ ঝলমল করতে দেখে তার মনে হচ্ছে সেই স্বপ্নগুলোই যেন মাঠের মাঝে হাসছে।
১৩. লাইন: আমার সাথে করতে খেলা প্রভাত হাওয়া ভাই,
কঠিন শব্দের অর্থ:
প্রভাতে হাওয়া: সকালের ঠান্ডা বাতাস।
লাইনটির অর্থ: ভোরের এই স্নিগ্ধ ও মৃদু বাতাসকে রাখাল নিজের ভাইয়ের মতো মনে করে এবং তার মনে হচ্ছে এই বাতাস যেন তার সাথে খেলা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে।
১৪. লাইন: সরষে ফুলের পাপড়ি নাড়ি ডাকছে মোরে তাই।
কঠিন শব্দের অর্থ:
নাড়ি: নাড়িয়ে বা দুলিয়ে।
মোরে: আমাকে।
লাইনটির অর্থ: বাতাস যখন হলুদ সরষে ক্ষেতের ওপর দিয়ে বয়ে যায়, তখন ফুলের পাপড়িগুলো দোলে; রাখালের মনে হয় সরষে ফুলগুলো হাত নেড়ে তাকেই মাঠে ডাকছে।
১৫. লাইন: চলতে পথে মটরশুঁটি জড়িয়ে দু-খান পা,
কঠিন শব্দের অর্থ:
দু-খান: দুটি।
লাইনটির অর্থ: মাঠের পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় মটরশুঁটি গাছের লতাগুলো আলতো করে রাখাল ছেলের দুটি পা জড়িয়ে ধরে।
১৬. লাইন: বলছে ডেকে, ‘গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা!’
কঠিন শব্দের অর্থ:
গাঁয়ের: গ্রামের।
লাইনটির অর্থ: মটরশুঁটির লতা পায়ে জড়িয়ে ধরলে রাখালের মনে হয়, এই অবুঝ গাছগুলোও তাকে ভালোবেসে বলছে—হে গ্রামের রাখাল, তুমি কাজে যাওয়ার আগে আমাদের সাথে একটু খেলে যাও।
১৭. লাইন: সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই!
কঠিন শব্দের অর্থ:
ডাক এসেছে: প্রকৃতির ডাক বা আহ্বান এসেছে।
লাইনটির অর্থ: রাখাল ছেলে কবিকে বোঝাচ্ছে যে, বাতাস, ফুল, লতাপাতাসহ পুরো মাঠ তাকে খেলার জন্য ডাকছে; তাই মাঠে যাওয়া তার জন্য খুবই জরুরি।
১৮. লাইন: সাঁঝের বেলা কইব কথা এখন তবে যাই!’
কঠিন শব্দের অর্থ:
সাঁঝের বেলা: সন্ধ্যার সময়।
কইব: বলব বা কথা বলব।
লাইনটির অর্থ: সবশেষে রাখাল ছেলে বিদায় নিয়ে বলছে, এখন তার আর কথা বলার সময় নেই; সন্ধ্যার সময় যখন সে কাজ শেষে ফিরবে, তখন মনের সুখে গল্প করবে—আপাতত সে মাঠের দিকে রওনা
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. কবিতাটির নাম রাখাল ছেলে।
২. কবিতাটির রচয়িতা জসীমউদ্দীন।
৩. কবিতার প্রধান চরিত্র একজন রাখাল ছেলে।
৪. কবিতায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
৫. কবিতায় বাঁকা গাঁয়ের পথের কথা বলা হয়েছে।
৬. রাখাল ছেলে সেই পথ ধরে এগিয়ে চলে।
৭. নীল-নোয়ানো সবুজে ঘেরা একটি গ্রাম কবিতায় বর্ণিত হয়েছে।
৮. কলার পাতায় শিশির ঝরার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
৯. কবিতায় ছোট কুটিরের কথা উল্লেখ আছে।
১০. কুটিরটি সোনার পাতায় ছাওয়া বলে কল্পনা করা হয়েছে।
১১. সাঁঝ-আকাশের আবির রঙের সৌন্দর্য কবিতায় এসেছে।
১২. কুটিরের ভেতরে একা বসে মায়ের ডাক শোনা যায়।
১৩. রাখাল ছেলে মায়ের কাছে যেতে চায়।
১৪. খুব আকাশে রঙিন মেঘের নাও ভাসার কথা বলা হয়েছে।
১৫. শিশির-ঝরা ঘাসে সকালের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
১৬. প্রভাতের হাওয়াকে খেলাধুলার সঙ্গী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
১৭. সর্ষে ফুলের পাপড়ির ডাক কবিতায় এসেছে।
১৮. মাঠ-ঘাট ও ফসল রাখাল ছেলেকে খেলতে ডাকছে।
১৯. সারাক্ষণ খেলাধুলার আনন্দ রাখাল ছেলে মেতে থাকে।
২০. কবিতায় শিশুমনোর সরলতা ও গ্রামবাংলার জীবনধারা প্রকাশ পেয়েছে।
অনুশীলনী অংশ: প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাক্য তৈরি করি।
একলা ঘরে: ..........................................
রঙিন মেঘ: ..........................................
কলার পাতা: ..........................................
শিশির-ঝরা: ..........................................
ছোটো কুটির: ..........................................
উত্তর:
একলা ঘরে: একলা ঘরে বসে মা রাখাল ছেলেকে ডাকছে।
রঙিন মেঘ: সকালে আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যায়।
কলার পাতা: হাওয়ায় দুলছে সবুজ কলার পাতা।
শিশির-ঝরা: শিশির-ঝরা ঘাসে সকালে পা ভিজে যায়।
ছোটো কুটির: গাঁয়ের ভেতরে একটি ছোটো কুটির আছে।
২. মিল-শব্দ লিখি।
চাও: ..........................................
ডাকছে: ..........................................
জেগে: ..........................................
হাসে: ..........................................
জড়িয়ে: ..........................................
উত্তর:
চাও: যাও
ডাকছে: পাকছে
জেগে: রেগে
হাসে: ভাসে
জড়িয়ে: পড়িয়ে
৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. রাখাল ছেলে কেমন পথ ধরে, কোথায় যাচ্ছে?
উত্তর: বাঁকা গাঁয়ের পথ ধরে সে মাঠ ও গ্রামের দিকে যাচ্ছে।
খ. গ্রামটিকে 'সবুজ ঘেরা' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: গ্রামটিকে 'সবুজ ঘেরা' বলা হয়েছে কারণ গ্রামের চারপাশে কলার পাতা, গাছগাছালি ও মাঠের সবুজে ঘেরা।
গ. রাখাল ছেলে কেন মায়ের কাছে যেতে চায়?
উত্তর: রাখাল ছেলে মায়ের কাছে যেতে চায় কারণ তার মা একা ঘরে বসে তাকে ডাকছে।
ঘ. কবিতা থেকে গ্রামের সকালের বিবরণ দাও।
উত্তর: সকালে শিশির-ভেজা ঘাস, মিঠে রোদ, প্রভাত হওয়া, সরষে ফুলের ডাকে গ্রামের সকল মুখ সুপ্ত ও তৃপ্ত।
ঙ. কবিতার প্রকৃতির সাথে আমার চারপাশের প্রকৃতির তুলনা করি।
উত্তর: কবিতায় নদী, মাঠ, সবুজ গাছ আর শিশির-ভরা ঘাসের কথা আছে। আমার চারপাশে যদিও তত মাঠ নেই, তবে মাঝে মাঝে সবুজ গাছ, সকালবেলার হাওয়া ও পাখির ডাক পাই যা কবিতার প্রকৃতির কথা মনে করায়।
৪. এক শব্দে উত্তর দিই।
গাঁয়ের পথটি কেমন? : ...........
কুটিরটি কেমন? : ...........
সকালের রোদটি কেমন? : ...........
কোন আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যাচ্ছে? : ...........
ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন ঘাস দেখা যায়? : ...........
উত্তর:
গাঁয়ের পথটি কেমন? : বাঁকা
কুটিরটি কেমন? : ছোট
সকালের রোদটি কেমন? : মিঠেল
কোন আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যাচ্ছে? : পুব
ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন ঘাস দেখা যায়? : শিশির-ভরা
৫. কবিতাটি দুজনে মিলে আবৃত্তি করি।
উত্তর: নিজেরা চেষ্টা কর।
৬. কবিতায় যেসব জিনিসের কথা আছে সেগুলোর রঙ লিখি।
কলার পাতা : সবুজ
গাঁয়ের পথ : ...........
উত্তর:
কলার পাতা : সবুজ
গাঁয়ের পথ : বাঁকা/ধূসর (মাটির রঙ)
সরষে ফুল : হলুদ
আকাশ : নীল
মেঘ : রঙিন
আবির রঙ : লাল/গোলাপি
■ ধারাবাহিক, সামষ্টিক ও বৃত্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ■
■ প্রশ্নের ধারা: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ■
১. কবিতার প্রধান চরিত্র কে?
উত্তর: কবিতার প্রধান চরিত্র হলো রাখাল ছেলে। সে গ্রামের পথে চলাফেরা করছে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছে এবং মায়ের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক প্রদর্শন করছে। তার কৌতূহল, খেলার আনন্দ এবং গ্রামীণ জীবনের সাথে সংযোগ পাঠকের কাছে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
২. রাখাল ছেলে কোথায় যাচ্ছিল?
উত্তর: সে বাঁকা গাঁয়ের পথ ধরে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। কবিতায় তার চলাফেরার বর্ণনা গ্রামের সবুজ পরিবেশ, শিশির কণা ঘাস, সরষে ফুল ও বেলার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত।
৩. কবিতায় গ্রামীণ পরিবেশ কেমন বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় গ্রামের পথ, সবুজ মাঠ, সরষে ফুল, শিশিরভরা ঘাস, নীল-নোয়ানো আকাশ এবং সোনার কুটির চিত্রিত হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আনন্দের পরিবেশ শিশুর খেলা ও উদ্দীপনা প্রকাশ করে।
৪. রাখাল ছেলের মায়ের প্রতি কেমন আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ছেলের মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং মায়ের ডাক শোনার ব্যাকুল আনন্দ পায়। সে তার মায়ের কথা মানে এবং মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে আগ্রহী।
৫. ছেলেটি খেলতে বা কী নিয়ে আনন্দ পায়?
উত্তর: ছেলেটি প্রভাত হাওয়া, মটরশুঁটি এবং মাঠের প্রাণীদের সাথে খেলাধুলায় আনন্দ পায়। প্রকৃতি ও খেলাধুলা তার আনন্দকে দ্বিগুণ করে।
৬. কবিতায় শিশিরভরা ঘাস ও সরষে ফুলের ভূমিকা কী?
উত্তর: শিশিরভরা ঘাস ও সরষে ফুল ছেলেটিকে ডাকছে, খেলার আনন্দে উদ্দীপিত করছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য তার মনোরঞ্জন ( মনের আনন্দ বা বিনোদন) ও খেলার পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
৭. 'বারেক ফিরে চাও' বাক্যে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'বারেক ফিরে চাও' বাক্যে বোঝানো হয়েছে একবার পেছনে ফিরে তাকাও বা একটু ফিরে দেখো।
অর্থাৎ, রাখাল ছেলে দ্রুত চলে যাচ্ছে, তাই তাকে অনুরোধ করা হচ্ছে একবার ফিরে তাকাতে এবং তার (কবির) সঙ্গে একটু কথা বলতে।
৮. ছেলেটির আনন্দ কেমন?
উত্তর: ছেলের আনন্দ জীবন্ত, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। সে প্রকৃতি, খেলা এবং গ্রামের সৌন্দর্যে আনন্দ উপভোগ করে।
৯. কবিতায় রাতের ও দিনের পরিবেশ কেমন চিত্রিত হয়েছে?
উত্তর: রাতে ছেলের স্বপ্ন, শিশিরভরা ঘাসে খেলাধুলা এবং সকালে প্রভাত হাওয়া ও মটরশুঁটির আওয়াজের মাধ্যমে দিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
১০. ছেলেটি মায়ের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করে?
উত্তর: সে মায়ের ডাক শোনে এবং নিজের কথা বলতে দ্বিধা করে না। সে মায়ের কাছ থেকে অনুমতি চায় এবং তাকে আশ্বস্ত করতে চায়।
১১. মটরশুঁটির উপস্থিতি কীভাবে খেলার আনন্দ বাড়ায়?
উত্তর: মটরশুঁটি ছেলের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেয়, মাঠের খেলায় প্রাণবন্ততা যোগ করে। এটি প্রকৃতির খেলার আনন্দের চিত্রায়ণ।
১২. কবিতায় রঙের ব্যবহার কেমন?
উত্তর: নীল-নোয়ানো আকাশ, সবুজ ঘাস, সরষে ফুল এবং আবির রঙ গ্রামীণ পরিবেশকে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে।
১৩. ছেলেটির চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ছেলেটি কৌতূহলী, খুশিমনো, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম এবং মায়ের প্রতি স্নেহশীল।
১৪. কবিতায় গ্রামীণ জীবনের কোন দিক ফুটে উঠেছে?
উত্তর: গ্রামীণ জীবনের সরলতা, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ এবং শিশুর আনন্দ ও খেলার পরিবেশ ফুটে উঠেছে।
১৫. কবিতার মূল বার্তা কী?
উত্তর: কবিতার বার্তা হলো শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক, আনন্দ, খেলা এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখা।
প্রশ্নের ধারা: রচনামূলক প্রশ্নোত্তর
১. রাখাল ছেলের চরিত্র বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাখাল ছেলে কৌতূহলী, প্রাণবন্ত ও খুশিমনো। সে গ্রামের পথে চারপাশ দেখছে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছে এবং মায়ের প্রতি আন্তরিক। তার খেলার আনন্দ, শিশিরভেজা ঘাসে দৌড়ানো, সরষে ফুলের সঙ্গে খেলা এবং মটরশুঁটির সঙ্গে খেলাধুলা তার জীবন্ত চরিত্রকে প্রকাশ করে। শিশুর মানসিকতা, মায়ের প্রতি স্নেহ এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার চিত্র এই চরিত্রে ফুটে উঠেছে।
২. কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্য কেমন চিত্রিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় গ্রামের সবুজ মাঠ, শিশিরভেজা ঘাস, নীল-নোয়ানো আকাশ, সরষে ফুল এবং সোনার কুঁটিরের চিত্রায়ণ রয়েছে। প্রভাত হাওয়া, মটরশুঁটির আওয়াজ এবং আবির রঙ প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ছেলেটিকে আনন্দ দেয় এবং এক খেলার পরিবেশে সমৃদ্ধ করে।
৩. রাখাল ছেলের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: ছেলের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আন্তরিক ও স্নেহময়। মায়ের ডাক শোনার আগ্রহ, অনুমতি চাওয়া এবং মায়ের কথা মেনে চলা এ সম্পর্কের উদাহরণ।
৪. শিশিরভেজা ঘাস ও সরষে ফুলের গুরুত্ব কী?
উত্তর: শিশিরভেজা ঘাস ও সরষে ফুল ছেলেকে খেলার আমন্ত্রণ জানায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য তার আনন্দ ও খেলার পরিবেশ তৈরি করে।
৫. প্রভাত হাওয়া ও মটরশুঁটির ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রভাত হাওয়া ও মটরশুঁটি ছেলেটিকে খেলার আনন্দ দেয়, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করে এবং গল্পকে প্রাণবন্ত করে।
৬. কবিতার রঙের ব্যবহার কীভাবে পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে?
উত্তর: নীল-নোয়ানো আকাশ, সবুজ ঘাস, সরষে ফুল এবং আবির রঙ গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশকে জীবন্ত করে। এসব রঙ শিশুদের আনন্দ ও খেলার প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
৭. ছেলের আনন্দ কেমন?
উত্তর: ছেলের আনন্দ উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম। সে মাঠে খেলে, খুশি হয় এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে।
৮. কবিতায় গ্রামের জীবন কেমন ফুটে উঠেছে?
উত্তর: গ্রামের সরলতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিশুদের খেলার আনন্দ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কবিতায় ফুটে উঠেছে।
৯. ছেলেটির কৌতূহল কেমন প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ছেলেটি পথ ধরে চলার সময় চারপাশ দেখছে, প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছে এবং খেলার আনন্দে উদ্দীপিত হচ্ছে। এতে তার কৌতূহল ও জীবন্ত মন প্রকাশ পেয়েছে।
১০. কবিতার শিক্ষামূলক বার্তা কী?
উত্তর: কবিতা শেখায় শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ, খেলা, আনন্দ এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব। এটি শিশুদের প্রকৃতির সৌন্দর্য ও গ্রামের জীবন উপলব্ধি করতে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রশ্নের ধারা: শব্দার্থ
প্রশ্নের ধারা: শূন্যস্থান পূরণ
১. রাখাল ছেলে — মাঠে খেলতে গেল।
২. নীল — আকাশে পাখি উড়ছে।
৩. কলার পাতা — দুলছে।
৪. ছোট — মা বসে আছে।
৫. সোনার ঘাসের নিচে — রয়েছে।
৬. সাঁঝ-আকাশে — ছড়িয়ে আছে।
৭. শিশির ভেজা মাঠে — খেলছে।
৮. স্বপন — হলে আনন্দ হবে।
৯. প্রভাত — শিশুর মুখে হাসি ফুটাচ্ছে।
১০. সরষে ফুলের পাপড়ি — নাড়ছে।
১১. মটরশুঁটি মাঠে — আছে।
১২. পথ ধরে রাখাল ছেলে —।
১৩. ডাকে মা —।
১৪. ছেলের খেলা মাঠে — বাড়াচ্ছে।
১৫. রাখাল ছেলে সবুজ — খেলছে।
উত্তর: ১. ঘাসের; ২. আকাশ; ৩. হাওয়ায়; ৪. কুটিরে; ৫. শিশির; ৬. আবির; ৭. বাচ্চারা; ৮. সত্যি; ৯. হওয়া; ১০. হাওয়া; ১১. জড়িয়ে; ১২. দৌড়ে; ১৩. ঘরে ফিরে আস; ১৪. আনন্দ; ১৫. ঘাসে।
প্রশ্নের ধারা: বাক্য গঠন
প্রশ্নের ধারা: বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. রাখাল ছেলে কোথায় খেলছিল?
ক. নদীতে
খ. মাঠে
গ. ঘরে
ঘ. স্কুলে
২. নীল-সোয়ানো কোন জায়গায় ছিল?
ক. পাহাড়ে
খ. নদীর তীরে
গ. ঘাসের মাঠে
ঘ. গাঁয়ে
৩. ছোট কুটিরে কে বসে ছিল?
ক. টুকটুক
খ. মা
গ. ভাইবোন
ঘ. রাখাল
৪. ছেলের পায়ে কী পড়ে ছিল?
ক. জুতো
খ. চপ্পল
গ. শিশির
ঘ. মোজা
৫. আবির ছড়ানো হয়েছিল কবে?
ক. সকাল
খ. দুপুর
গ. সাঁঝ
ঘ. রাত
৬. রাখাল ছেলের খেলা কোন ফুলের পাপড়িতে প্রভাব ফেলেছিল?
ক. গোলাপ
খ. সরষে
গ. কমলালেবু
ঘ. জুঁই
৭. প্রভাত হওয়া কী করেছিল?
ক. মাটি ভিজিয়েছিল
খ. ঘাস কেটে ফেলেছিল
গ. মাছ ধরেছিল
ঘ. শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছিল
৮. মটরশুঁটি মাঠে কেমন ছিল?
ক. শুকনো
খ. জড়িয়ে
গ. পরিষ্কার
ঘ. খোলা
৯. রাখাল ছেলে কার ডাক শুনল?
ক. মায়ের
খ. ভাইয়ের
গ. ফুলের
ঘ. বন্ধুগণের
১০. রাখাল ছেলের খেলা শেষ হলো কখন?
* ক. দুপুরে
* খ. প্রভাতে
* গ. রাতে
* ঘ. সাঁঝে
১১. রাখাল ছেলের পথ কেমন ছিল?
* ক. সোজা
* খ. বাঁকা
* গ. পাথুরে
* ঘ. খালি
১২. স্বপন কী বোঝায়?
* ক. সত্যি ঘটনা
* খ. ছবি
* গ. স্বপ্ন
* ঘ. গান
১৩. রাখাল ছেলে কী খেলছিল?
* ক. ফুটবল
* খ. মটরশুঁটির সঙ্গে
* গ. পুতুল
* ঘ. কাগজের নাও
১৪. শিশির কী?
ক. শুকনো পাতা
খ. ফুল
গ. পাথর
ঘ. জলকণিকা
১৫. কবি কাকে ডাকছেন?
ক. রাখাল ছেলে
খ. মা
গ. ভাই
ঘ. বন্ধু
উত্তর: ১. খ. মাঠে; ২. ঘ. গাঁয়ে; ৩. খ. মা; ৪. গ. শিশির; ৫. গ. সাঁঝ; ৬. খ. সরষে; ৭. ঘ. শিশুর মুখে হাসি ফোটাছিল; ৮. খ. জড়িয়ে; ৯. ক. মায়ের; ১০. ঘ. সাঁঝ; ১১. খ. বাঁকা; ১২. গ. স্বু; ১৩. খ. মটরশুঁটির সঙ্গে; ১৪. ঘ. জলকণিকা; ১৫. ক. রাখাল ছেলে।
প্রশ্নের ধারা: বিপরীত শব্দ লিখন
প্রশ্নের ধারা: সমার্থক শব্দ লিখন
প্রশ্নের ধারা: মূলভাব লিখন
মূলভাব: কবিতা 'রাখাল ছেলে'-তে গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে শিশুর আনন্দময় খেলাধুলার চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি দেখিয়েছেন কিভাবে একটি ছেলে বাঁকা গাঁয়ের পথে ঘাসের মাঠে খেলতে বের হয়। নীল-নোয়ানো সবুজ পরিবেশ, কলার পাতা, শিশির এবং সন্ধ্যার আবিরের রঙ মিলিয়ে গ্রামের সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে। ছোট্ট কুটির, সোনার ধান, মটরশুঁটি, সরষে ফুলের পাপড়ি সবই শিশুর খেলার সঙ্গে মিশে এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রভাত হাওয়া ও শিশিরে ভেজা ঘাস ছেলেকে আনন্দিত করেছে। কবি বলতে চেয়েছেন শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে খেলার সুযোগ দাও, যেন তারা স্বাধীনভাবে খেলতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে। এছাড়া কবিতা দেখিয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে খেলাধুলা শিশুদের শৃঙ্খলহীন আনন্দ দেয় এবং তাদের মনকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে। সুতরাং কবি 'রাখাল ছেলে'-র মাধ্যমে প্রকৃতির গুরুত্ব, শিশুর আনন্দ এবং খেলার মূল্য সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।