টেস্ট পরীক্ষার উত্তরপত্র শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: বাংলা পাঠ ১৩ : পাখির মতো (আল মাহমুদ)

 Shiuly's Class Room 

Aklima Shiuly 

টেস্ট পরীক্ষার  উত্তরপত্র


শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: বাংলা 

পাঠ ১৩ : পাখির মতো (আল মাহমুদ)


১। কবি ও কবিতার নাম সহ কবিতা লেখ। [মান: ৫×১=৫]

উত্তর:

পাখির মতো

আল মাহমুদ

আম্মা বলেন, পড়তে সোনা

আব্বা বলেন, মন দে।

পাঠে আমার মন বসে না

কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে

নদীর কাছে থাকতে,

বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে

পাখির মতো ডাকতে।

সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে

কর্ণফুলীর কূলটায়,

দুধভরা ওই চাঁদের বাটি

ফেরেশতারা উল্টায়।

তখন কেবল ভাবতে থাকি

ケমন করে উড়ব,

কেমন করে শহর ছেড়ে

সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!

তোমরা যখন শিখছ পড়া

মানুষ হওয়ার জন্য,

আমি না হয় পাখিই হব

পাখির মতো বন্য!


২। সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৭টির মধ্যে ৫টি): [মান: ২×৫=১০]

(ক) কোন ফুলের গন্ধে শিশুর পাঠে মন বসে না?

উত্তর: কাঁঠালচাঁপার ফুলের মিষ্টি ও তীব্র গন্ধে শিশুর পাঠে বা পড়াশোনায় মন বসে না।

(খ) শিশুটির বকুল ডালে লুকিয়ে কী করার ইচ্ছে জাগে?

উত্তর: শিশুটির বকুল গাছের ঘন ডাল ও পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকে মুক্ত পাখির মতো মনের আনন্দে ডাকতে বা গান গাইতে ইচ্ছে জাগে।

(গ) রাতে জেগে শিশুটি কী ওড়ার কথা ভাবতে থাকে?

উত্তর: রাতে জেগে শিশুটি কল্পনার ডানা মেলে ভাবে যে, সে কীভাবে পাখির মতো ডানা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াবে।

(ঘ) অন্য সব ছেলেমেয়েরা কেন পড়া শিখছে?

উত্তর: সমাজের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বাকি অন্য সব ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে আদর্শ ও সফল 'মানুষ' হওয়ার জন্য পড়া শিখছে।

(ঙ) কবি শেষ পর্যন্ত মানুষের বদলে কী হতে চেয়েছেন?

উত্তর: কবি শেষ পর্যন্ত সমাজের প্রথাগত নিয়মে বন্দি মানুষের বদলে প্রকৃতির কোলে ডানা মেলে দেওয়া স্বাধীন ও 'বন্য পাখি' হতে চেয়েছেন।

(চ) সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শিশুটি কী চিন্তা করে?

উত্তর: সবাই যখন রাতের বেলা কর্ণফুলী নদীর তীরে গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন শিশুটি চিন্তা করে যে কীভাবে এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে দূরের কোনো সবুজ গ্রামে ঘুরে বেড়ানো যায়।

(ছ) শিশুটির কার কাছে গিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে?

উত্তর: চার দেয়ালের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেয়ে শিশুটির মুক্ত নদীর কাছে গিয়ে শান্তিতে থাকতে ইচ্ছে করে।


৩। রচনামূলক প্রশ্ন (৪টির মধ্যে ৩টি): [মান: ৬×৩=১৮]

(ক) "দুধভরা ওই চাঁদের বাটি ফেরেশতারা উল্টায়"— এই লাইনটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন? নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আলোচ্য লাইনটি দ্বারা কবি রাতের আকাশের চাঁদের আলো বা জ্যোৎস্নার এক অপূর্ব কাল্পনিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। রাতের আকাশে গোল ও উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ দেখে শিশুর মনে হয় যেন সেটি একটি সাদা দুধে ভরা বাটি। আর রাতের মায়াবী আলো দেখে তার মনে হয়, স্বর্গের ফেরেশতারা যেন খেলার ছলে বা আনন্দের আতিশয্যে সেই বাটিটি আকাশে উপুড় বা উল্টে দিয়েছে। যার ফলে সেই দুধের মতো সাদা ও শুভ্র আলো পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত শিশুর কোমল মনের একটি সুন্দর ও মায়াবী কল্পনা।

(খ) "পাখির মতো" কবিতায় শিশুর প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার যে আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা ৫টি বাক্যে লেখো।

উত্তর: "পাখির মতো" কবিতায় শিশুর প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার আকুলতা নিচের ৫টি বাক্যে প্রকাশ করা হলো:

কাঁঠালচাঁপা ফুলের তীব্র মিষ্টি সুবাস শিশুকে ঘরের পড়ার টেবিল থেকে প্রকৃতির দিকে টেনে নিয়ে যায়।

চার দেয়ালের মাঝে বন্দি না থেকে শিশুটির মন নদীর তীরে মুক্ত বাতাসে শান্তিতে সময় কাটাতে চায়।

গাছের ডালে পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকে মুক্ত পাখির মতো আপন মনে গান গাওয়ার তীব্র ইচ্ছা শিশুর মনে জাগে।

রাতের মায়াবী চাঁদ আর জ্যোৎস্না শিশুকে ঘরের কোণ থেকে এক অপার্থিব ও কাল্পনিক জগতে নিয়ে যায়।

ইটের তৈরি এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে শিশুটি সবসময় দূরের কোনো সবুজে ঘেরা শান্ত গ্রামে হারিয়ে যেতে চায়।

(গ) শহর জীবন এবং গ্রামীণ জীবনের মধ্যে শিশুটি কেন গ্রামীণ জীবনকে বেছে নিতে চায়? কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: শহর জীবন অত্যন্ত যান্ত্রিক, কোলাহলপূর্ণ এবং চার দেয়ালের মাঝে বন্দি। এখানে শিশুরা স্বাধীনভাবে খেলাধুলা বা প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার সুযোগ পায় না। অন্যদিকে, গ্রামীণ জীবন সবুজে ঘেরা, শান্ত এবং মুক্ত বাতাসে ভরপুর। গ্রামে রয়েছে নদী, বকুল গাছ, কাঁঠালচাঁপা ফুলের গন্ধ আর পাখির অবাধ স্বাধীনতা। কবিতায় শিশুর চঞ্চল মন এই যান্ত্রিক শহরের বন্দিদশা এবং নিয়মের কঠোর বাঁধন থেকে মুক্তি চায়। সে প্রকৃতির কোলে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায় বলেই শহর জীবনের চেয়ে গ্রামীণ জীবনকে বেছে নিতে চায়।

(ঘ) "আমি না হয় পাখিই হব, পাখির মতো বন্য!"— লাইনে কবির এমন ভাবনার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: সমাজের চিরাচরিত বা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সব শিশুকেই দিনরাত বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পড়াশোনা করতে হয় তথাকথিত ‘মানুষ’ হওয়ার জন্য। এই নিয়ম শিশুকে খাঁচায় বন্দি পাখির মতো করে ফেলে এবং তার স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। কবি বা শিশুটি এই কৃত্রিম ও কঠোর নিয়মের বেড়াজাল ভাঙতে চান। সমাজের চোখে সফল মানুষ হওয়ার চেয়ে প্রকৃতির বুকে ডানা মেলে দেওয়া এক মুক্ত, স্বাধীন এবং কোনো বাঁধন না মানা বন্য পাখি হওয়া তার কাছে অনেক বেশি আনন্দের। অবাধ ও খাঁচামুক্ত জীবনের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণেই কবির মনে এমন ভাবনার উদয় হয়েছে।


৪। শব্দার্থ লেখ (৭ টির মধ্যে ৫টি): [মান: ১×৫=৫]

(ক) কর্ণফুলী — বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি প্রধান ও বিখ্যাত নদী।

(খ) কাঁঠালচাঁপা — মিষ্টি সুবাস বা গন্ধযুক্ত হলুদ রঙের একধরনের ফুল।

(গ) বন্য — বুনো (যা বনের বা যা কোনো বাঁধন মানে না, এখানে স্বাধীন অর্থে)।

(ঘ) কূল — তীর বা পাড়।

(ঙ) পাঠ — পড়াশোনা বা পড়া।

(চ) গাঁ — গ্রাম।

(ছ) কেবল — শুধু বা কেবলমাত্র।


৫। নিচের প্রদত্ত শব্দগুলো দিয়ে বাক্য তৈরি করো (৫টি): [মান: ১×৫=৫]

(ক) সোনা: মা আদর করে তার খোকনকে সোনা বলে ডাকেন।

(খ) ইচ্ছে: আমার নদীর তীরে গিয়ে শান্তিতে বসে থাকতে ইচ্ছে করে।

(গ) ফেরেশতা: শিশুরা নিষ্াপ ও সুন্দর হয়, তাই তাদের ফেরেশতা বলা চলে।

(ঘ) শহর: ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর ছেড়ে আমার গ্রামে যেতে মন চায়।

(ঙ) পাখি: নীল আকাশে মুক্ত মনে ডানা মেলে উড়ছে একঝাঁক পাখি


৬। নিচের শব্দগুলোর বিপরীত শব্দ লেখ (৭টির মধ্যে ৫টি): [মান: ১×৫=৫]

(ক) মন → অমনোযোগ / বেমন

(খ) ঘুমিয়ে → জেগে

(গ) ছেড়ে → ধরে / জড়িয়ে

(ঘ) মানুষ → অমানুষ / পশু

(ঙ) বন্য → গৃহপালিত / পোষা

(চ) দিন → রাত

(ছ) ইচ্ছা → অনিচ্ছা


৭। কবিতাটির মূলভাব লেখ। [মান: ৫×১=৫]

উত্তর: "পাখির মতো" কবিতাটিতে শিশুর সহজাত চঞ্চল মন এবং প্রকৃতির প্রতি তার গভীর ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। বড়রা বা মা-বাবা সবসময় চান সন্তান যেন চার দেয়ালের মাঝে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু বাইরের প্রকৃতির রূপ, কাঁঠালচাঁপা ফুলের মিষ্টি গন্ধ, নদীর কলতান আর পাখির মুক্ত গান শিশুকে ঘর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। রাতের নিস্তব্ধতায় সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখনো শিশুর মন শহর ছেড়ে দূরের কোনো সবুজ গ্রামে উড়ে যাওয়ার মায়াবী কল্পনা করে। সমাজের প্রথাগত নিয়মে বন্দি হয়ে তথাকথিত 'মানুষ' হওয়ার চেয়ে, প্রকৃতির বুকে ডানা মেলে দেওয়া এক স্বাধীন, খাঁচামুক্ত ও মুক্ত 'পাখি' হওয়াই এই কবিতার মূল আকুতি।


৮। নিচের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে একটি করে শব্দ তৈরি করো এবং তা দিয়ে বাক্য রচনা করো (৭টির মধ্যে ৫টি): [মান: ১×৫=৫]

(ক) ন্ধ (ন + ধ): শব্দ → গন্ধ। বাক্য → ফুলের মিষ্টি গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

(খ) ম্ম (ম + ম): শব্দ → আম্মা। বাক্য → আমার আম্মা আমাকে খুব ভালোবাসেন।

(গ) ব্ব (ব + ব): শব্দ → আব্বা। বাক্য → আব্বা বাজার থেকে অনেক ফল এনেছেন।

(ঘ) চ্ছ (চ + ছ): শব্দ → ইচ্ছে। বাক্য → আজ আমার নদীতে সাঁতার কাটার ইচ্ছে করছে।

(ঙ) র্ন (র-রেফ + ন): শব্দ → কর্ণফুলী। বাক্য → কর্ণফুলী নদীটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

(চ) স্ত (স + ত): শব্দ → রাস্তা। বাক্য → এই রাস্তাটি সরাসরি আমাদের গ্রামে চলে গেছে।


৯। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দাও): [মান: ১×২=২]

(১) 'পাখির মতো' কবিতার কবি কে?

(ক) জসীমউদ্দীন (খ) আল মাহমুদ (গ) সুফিয়া কামাল (ঘ) শামসুর রাহমান

(২) চাঁদের আলো দেখে শিশুর মনে কীসের বাটি উল্টানোর কথা মনে হয়?

(ক) জলের বাটি (খ) মধুর বাটি (গ) দুধের বাটি (ঘ) রুপার বাটি



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url