কুইজ পরীক্ষার উত্তর মালা শ্রেণী : পঞ্চম বিষয় : বাংলা পাঠ ১৩ : পাখির মত
Shiuly's Class Room
Aklima Shiuly
কুইজ পরীক্ষার উত্তর মালা
শ্রেণী : পঞ্চম
বিষয় : বাংলা
পাঠ ১৩ : পাখির মত
১. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (দুই নম্বরের জন্য )
মা, বাবা ও পড়াশোনা সংক্রান্ত:
১। "পাখির মতো" কবিতাটির কবির নাম কী?
উত্তর: "পাখির মতো" কবিতাটির কবির নাম আল মাহমুদ।
২। আম্মা সন্তানকে আদর করে পড়ার টেবিলে কী বলে ডাকেন?
উত্তর: আম্মা সন্তানকে আদর করে 'সোনা' বলে ডাকেন।
৩। আব্বা সন্তানকে পড়াশোনায় কী দিতে বলেন?
উত্তর: আব্বা সন্তানকে পড়াশোনায় 'মন দিতে' (মনোযোগ দিতে) বলেন।
৪। অন্য সব ছেলেমেয়েরা সমাজের নিয়ম অনুযায়ী কেন পড়া শিখছে?
উত্তর: অন্য সব ছেলেমেয়েরা সমাজের চোখে আদর্শ ও সফল 'মানুষ' হওয়ার জন্য পড়া শিখছে।
৫। কার কথায় শিশুটির পড়ালেখায় মন বসে না?
উত্তর: মা-বাবার শত তাগিদ ও কথার পরেও বাইরে থেকে ভেসে আসা কাঁঠালচাঁপার সুবাসের কারণে শিশুটির পড়ালেখায় মন বসে না।
প্রকৃতির উপাদান ও সুবাস সংক্রান্ত:
৬। কোন ফুলের তীব্র ও মিষ্টি গন্ধে শিশুর পাঠে মন বসে না?
উত্তর: কাঁঠালচাঁপা ফুলের তীব্র ও মিষ্টি গন্ধে শিশুর পাঠে মন বসে না ।
৭। কবিতা অনুযায়ী কাঁঠালচাঁপা ফুলের রঙ কেমন?
উত্তর: কবিতা অনুযায়ী কাঁঠালচাঁপা ফুলের রঙ হলুদ ।
৮। শিশুটির মন ঘরের দেয়াল পেরিয়ে কার কাছে গিয়ে থাকতে চায়?
উত্তর: শিশুটির মন ঘরের দেয়াল পেরিয়ে মুক্ত নদীর কাছে গিয়ে থাকতে চায় ।
৯। শিশুটির কোন গাছের ডালে লুকিয়ে থাকার ইচ্ছে জাগে?
উত্তর: শিশুটির বকুল গাছের ডালে লুকিয়ে থাকার ইচ্ছে জাগে ।
১০। বকুল ডালে লুকিয়ে শিশুটি কার মতো ডাকতে বা গান গাইতে চায়?
উত্তর: বকুল ডালে লুকিয়ে শিশুটি মুক্ত পাখির মতো ডাকতে বা গান গাইতে চায় ।
রাতের পরিবেশ ও নদী সংক্রান্ত:
১১। কবিতায় বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট নদীর নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর: কবিতায় বাংলাদেশের বিখ্যাত 'কর্ণফুলী' নদীর নাম উল্লেখ আছে .
১২। কর্ণফুলী নদীটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের প্রধান নদী?
উত্তর: কর্ণফুলী নদীটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী .
১৩। সবাই কখন কর্ণফুলী নদীর কূলে গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়ে?
উত্তর: রাতের বেলা সবাই কর্ণফুলী নদীর কূলে গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়ে .
১৪। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শিশুটি কী করতে থাকে?
উত্তর: সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শিশুটি জেগে জেগে মনে মনে ওড়ার ও ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবতে থাকে .
১৫। কবি পূর্ণিমার উজ্জ্বল চাঁদকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: কবি পূর্ণিমার উজ্জ্বল চাঁদকে 'দুধভরা বাটি'র সাথে তুলনা করেছেন ।
১৬। চাঁদের বাটি কারা আকাশে উল্টে দেয় বলে শিশুর মনে হয়?
উত্তর: চাঁদের বাটি স্বর্গের 'ফেরেশতারা' আকাশে উল্টে দেয় বলে শিশুর মনে হয় ।
১৭। ফেরেশতারা চাঁদের বাটি উল্টালে চারদিকে কী ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তর: ফেরেশতারা চাঁদের বাটি উল্টালে চারদিকে সাদা ও শুভ্র জ্যোৎস্নার আলো ছড়িয়ে পড়ে ।
শহর, গ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সংক্রান্ত:
১৮। রাতের মায়াবী পরিবেশে জেগে শিশুটি মনে মনে কী করার কথা ভাবতে থাকে?
উত্তর: রাতের মায়াবী পরিবেশে জেগে শিশুটি মনে মনে পাখির মতো আকাশে ডানা মেলে ওড়ার কথা ভাবতে থাকে .
১৯। শিশুটি ইট-পাথরের তৈরি কী ছেড়ে দূরে চলে যেতে চায়?
উত্তর: শিশুটি ইট-পাথরের তৈরি যান্ত্রিক 'শহর' ছেড়ে দূরে চলে যেতে চায় .
২০। শহর ছেড়ে শিশুটি কোথায় ঘুরে বেড়াতে চায়?
উত্তর: শহর ছেড়ে শিশুটি প্রকৃতির ছোঁয়া মাখানো 'সবুজ গাঁয়ে' (গ্রামে) ঘুরে বেড়াতে চায় .
২১। কবি গ্রামে ঘোরার ক্ষেত্রে গ্রামের রঙ কেমন বলেছেন?
উত্তর: কবি গ্রামে ঘোরার ক্ষেত্রে গ্রামের রঙ 'সবুজ' বলেছেন .
২২। কবি শেষ পর্যন্ত চিরাচরিত মানুষের বদলে কী হতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি শেষ পর্যন্ত চিরাচরিত বা প্রথাগত মানুষের বদলে 'পাখি' হতে চেয়েছেন .
২৩। কবি কেমন পাখি হতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি পাখির মতো 'বন্য' (স্বাধীন ও বুনো) পাখি হতে চেয়েছেন ।
২৪। 'পাখির মতো' কবিতায় 'পাখি' মূলত কিসের প্রতীক?
উত্তর: 'পাখির মতো' কবিতায় 'পাখি' মূলত অবাধ ও খাঁচামুক্ত স্বাধীনতার প্রতীক ।
২৫। 'বন্য' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'বন্য' শব্দের অর্থ বুনো বা যা কোনো নিয়মের বাঁধন মানে না ।
২. কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর
পড়ার টেবিল বনাম প্রকৃতির আকর্ষণ:
১। মা ও বাবা শিশুটিকে পড়ার টেবিলে কী বলেন? মা-বাবার আদেশ থাকা সত্ত্বেও শিশুর পাঠে মন বসে না কেন? ৩টি বাক্যে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: মা আদর করে শিশুটিকে পড়ার টেবিলে গিয়ে 'সোনা' বলে পড়তে বসার তাগিদ দেন এবং বাবা পড়াশোনায় গভীরভাবে 'মন দিতে' বলেন । মা-বাবার এত আদেশ ও শাসন থাকা সত্ত্বেও শিশুর পাঠে মন বসে না । কারণ, ঘরের বাইরে প্রকৃতির বুকে কাঁঠালচাঁপা ফুল ফুটেছে এবং তার তীব্র ও মিষ্টি সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা শিশুর চঞ্চল মনকে পড়ার টেবিল থেকে প্রকৃতির দিকে টেনে নিয়ে যায় ।
২। "পাঠে আমার মন বসে না / কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।"— এই চরণের মাধ্যমে শিশুর মনের কোন অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে? প্রকৃতির সুবাস কীভাবে তাকে চঞ্চল করে তোলে?
উত্তর: এই চরণের মাধ্যমে শিশুর সহজাত চঞ্চলতা, পড়ালেখার একঘেয়েমি এবং প্রকৃতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে । ঘরের চার দেয়ালের মাঝের পড়াশোনা শিশুর কাছে বন্দিদশার মতো মনে হয়। যখনই বাইরের মুক্ত বাতাস থেকে কাঁঠালচাঁপা ফুলের তীব্র ও মায়াবী সুঘ্রাণ তার নাকে আসে, তখনই সে ঘরের পড়ার টেবিল ভুলে বাইরের অবাধ ও সুন্দর প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও পাখির রূপক:
৩। "বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে / পাখির মতো ডাকতে।"— এখানে বকুল ডাল ও পাখির মাধ্যমে শিশুর মনের কোন গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ䧣েছে? নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এখানে বকুল ডাল ও পাখির মাধ্যমে শিশুর মনে লুকিয়ে থাকা অবাধ স্বাধীনতা এবং কৃত্রিমতাহীন খাঁচামুক্ত জীবনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে । বকুল গাছের ঘন পাতা ও ডাল হলো প্রকৃতির এক নিভৃত আশ্রয়। শিশুটি বড়দের শাসন ও সামাজিক নিয়মের চোখ এড়িয়ে সেই পাতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়। সেখানে সে নিজেকে একটি স্বাধীন পাখি মনে করে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের মনের আনন্দে গান গাইতে বা ডাকতে চায়।
৪। কবি বা শিশুটি কেন প্রচলিত সমাজব্যবস্থার 'মানুষ' হওয়ার চেয়ে 'বন্য পাখি' হওয়াকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন? ৪টি বাক্যে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কারণগুলো নিচে ৪টি বাক্যে দেওয়া হলো:
প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় 'মানুষ হওয়া' মানে কেবল দিনরাত বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে মুখস্থ বিদ্যা শেখা ।
এই যান্ত্রিক পড়াশোনা ও নিয়মকানুন শিশুর চঞ্চল মনকে চার দেয়ালের খাঁচায় বন্দি করে ফেলে ।
শিশুটির কাছে কৃত্রিম নিয়মে বন্দি মানুষ হওয়ার চেয়ে প্রকৃতির মাঝে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা অনেক বেশি আনন্দের ।
পাখির মতো বন্য বা বুনো হলে কোনো বাঁধন থাকে না, তাই সে অবাধ স্বাধীনতার জন্য পাখি হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে ।
৫। "আমি না হয় পাখিই হব, পাখির মতো বন্য!"— লাইনে কবির নিজেকে 'বন্য পাখি' বলার কারণ কী? অবাধ স্বাধীনতার সাথে এর সম্পর্ক বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবি এখানে 'বন্য পাখি' বলতে এমন এক সত্ত্বাকে বুঝিয়েছেন যে কোনো সামাজিক শাসন, নিয়মের বেড়াজাল বা খাঁচার বন্দিত্ব মানে না । বন্য পাখিরা যেমন নিজের ইচ্ছামতো নীল আকাশে ডানা মেলে, গাছের ডালে গান গায় আর প্রকৃতির কোলে ঘুরে বেড়ায়, শিশুটিও ঠিক তেমনি বাঁচতে চায়। অবাধ স্বাধীনতার সাথে বন্য পাখির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য; বন্য পাখি যেমন সম্পূর্ণ স্বাধীন, শিশুর মনও ঠিক তেমনি কোনো নিয়মের খাঁচায় বন্দি না থেকে অবাধ স্বাধীনতা উপভোগ করতে চায়।
রাতের মায়াবী কল্পনা:
৬। "দুধভরা ওই চাঁদের বাটি ফেরেশতারা উল্টায়"— এই লাইনে শিশুর কোন ধরনের রূপকথার মতো কল্পনার প্রকাশ ঘটেছে? জ্যোৎস্নার আলোকে কবি কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: এই লাইনে শিশুর কোমল মনের এক অপূর্ব, নিষ্পাপ এবং রূপকথার মতো অলৌকিক ও মায়াবী কল্পনার প্রকাশ ঘটেছে । রাতের আকাশে গোল ও উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ দেখে শিশুর মনে হয় যেন সেটি একটি সাদা দুধে ভরা বাটি । আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া শুভ্র ও সুন্দর জ্যোৎস্নার আলোকে কবি ফেরেশতাদের খেলার ছলে উল্টে দেওয়া সেই বাটির সাদা দুধের সাথে তুলনা করেছেন ।
৭। সবাই যখন রাতে গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন শিশুটি জেগে জেগে কী চিন্তা করে? তার এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সবাই যখন রাতের বেলা কর্ণফুলী নদীর তীরে গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন শিশুটি ঘুমাতে পারে না; সে জেগে জেগে কল্পনার ডানা মেলে . সে চিন্তা করে কীভাবে সে পাখির মতো আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়াবে এবং ইটের তৈরি এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে দূরের কোনো সবুজে ঘেরা শান্ত গ্রামে ঘুরে বেড়াবে . তার এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য হলো শহরের একঘেয়ে ও বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে গ্রামীণ প্রকৃতির মুক্ত বাতাসে হারিয়ে যাওয়া .
শহর বনাম গ্রামীণ প্রকৃতি:
৮। শহরেরযান্ত্রিক জীবন এবং গ্রামের সবুজ প্রকৃতির মধ্যে শিশুটি কেন গ্রামের জীবনকে বেছে নিতে চায়? কবিতা অবলম্বনে ৪টি বাক্যে এর কারণ লেখো।
উত্তর: কারণগুলো নিচে ৪টি বাক্যে দেওয়া হলো:
শহরের জীবন চার দেয়ালের মাঝে বন্দি, অত্যন্ত যান্ত্রিক এবং কোলাহলপূর্ণ .
শহরে শিশুরা স্বাধীনভাবে ডানা মেলার বা প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার সুযোগ পায় না .
অন্যদিকে গ্রামীণ প্রকৃতি সবুজে ঘেরা, শান্ত, যেখানে নদী, বকুল গাছ ও পাখির অবাধ আনাগোনা রয়েছে .
গ্রামের এই মুক্ত পরিবেশ শিশুর স্বাধীন চেতনার সাথে মিলে যায় বলেই সে গ্রামীণ জীবন বেছে নিতে চায় .
৯। "কেমন করে শহর ছেড়ে / সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!"— শিশুর মনের এই ব্যাকুলতা ইটের শহরের কোন চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শিশুর মনের এই ব্যাকুলতা ইটের তৈরি শহরের একটি অত্যন্ত বাস্তব ও নিষ্ঠুর চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। শহরের জীবন মানেই আকাশচুম্বী দালানকোঠা, পিচঢালা রাস্তা, যানবাহনের ধোঁয়া আর কোলাহল। এখানে নেই কোনো সবুজ মাঠ, নেই পাখির ডাক কিংবা নদীর কলতান। শহরের এই যান্ত্রিক ও কৃত্রিম পরিবেশ শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। শিশুর এই ব্যাকুলতা মূলত শহরের সেই বন্দিত্ব ও একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুল আর্তনাদ।
সার্বিক মূল্যায়ন ও শিক্ষা:
১০। "তোমরা যখন শিখছ পড়া মানুষ হওয়ার জন্য"— এখানে 'মানুষ হওয়া' বলতে কবি সমাজের কোন চিরাচরিত নিয়মকে বুঝিয়েছেন? শিশুটি কেন এই নিয়মের বাইরে যেতে চায়?
উত্তর: এখানে 'মানুষ হওয়া' বলতে কবি সমাজের সেই চিরাচরিত নিয়মকে বুঝিয়েছেন, যেখানে শিশুদের শৈশব থেকেই শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা, চাকরি পাওয়া বা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দিনরাত বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পড়তে বাধ্য করা হয় । শিশুটি এই নিয়মের বাইরে যেতে চায় কারণ এই কৃত্রিম নিয়ম তার ভেতরের চঞ্চলতা ও আনন্দকে কেড়ে নেয়। সে কেবল মুখস্থ বিদ্যা শিখে সমাজের ছকে বাঁধা মানুষ না হয়ে, প্রকৃতির কোলে এক স্বাধীন ও মুক্ত সত্ত্বা হিসেবে বাঁচতে চায় ।
১১। "পাখির মতো" কবিতাটি থেকে আমরা শিশুর চঞ্চল মন ও প্রকৃতির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা সম্পর্কে কী শিখতে পারি? নিজের ভাষায় ৫টি বাক্যে লেখো।
উত্তর: কবিতাটি থেকে আমরা যা শিখতে পারি তা নিচে ৫টি বাক্যে দেওয়া হলো:
শিশুর মন সহজাতভাবেই চঞ্চল এবং তারা চার দেয়ালের বন্দি জীবনের চেয়ে বাইরের মুক্ত পরিবেশ বেশি পছন্দ করে ।
প্রকৃতির রূপ, ফুলের সুবাস আর নদীর ডাক শিশুদের মনকে খুব সহজেই আকর্ষণ করে ।
শিশুদের শুধু পড়াশোনার কঠোর নিয়মে বেঁধে না রেখে তাদের মনের ইচ্ছাকে ডানা মেলতে দেওয়া উচিত ।
প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকার মাধ্যমেই শিশুর কোমল মনের সঠিক ও সুন্দর বিকাশ ঘটে ।
কৃত্রিম ও যান্ত্রিক জীবনের চেয়ে প্রকৃতির সহজ-সরল ও স্বাধীন জীবন অনেক বেশি আনন্দের ও শান্তির ।
১২। সম্পূর্ণ "পাখির মতো" কবিতাটির মূলভাব বা ভেতরের মূল চেতনাটি নিজের ভাষায় গুছিয়ে লেখো।
উত্তর: "পাখির মতো" কবিতাটিতে শিশুর চঞ্চল ও স্বাধীন মন এবং প্রকৃতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে । মা-বাবা চান সন্তান পড়ার টেবিলে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে সমাজের চোখে সফল 'মানুষ' হোক । কিন্তু বাইরের প্রকৃতির রূপ, কাঁঠালচাঁপা ফুলের সুবাস, নদীর কলতান আর পাখির মুক্ত গান শিশুকে ঘর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে । রাতের নিস্তব্ধতায় সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখনো শিশুর মন এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে দূরের কোনো সবুজ গ্রামে উড়ে যাওয়ার মায়াবী কল্পনা করে . সমাজের প্রথাগত নিয়মে বন্দি হয়ে খাঁচার পাখির মতো মানুষ হওয়ার চেয়ে, প্রকৃতির বুকে ডানা মেলে দেওয়া এক স্বাধীন, মুক্ত ও কোনো বাঁধন না মানা 'বন্য পাখি' হওয়াই এই কবিতার মূল চেতনা ।