শ্রেণী পঞ্চম | বিষয় বাংলা| পাঠ ৯: টুকটুক ও চিকু |বৃত্তি কোচিং ২০২৬


পাঠ ৯: টুকটুক ও চিকু


 অজানা শব্দের অর্থ

শব্দ

অর্থ

আনন্দ -উচ্ছ্বাসে

আনন্দমুখর পরিবেশে

আর্তস্বর

ব্যথাসূচক শব্দ

আলতো করে

আলগোছে

কঙ্কালসার

রোগা, শরীরে হাড় ছাড়া কিছু নেই

গ্রীষ্মের দাবদাহে

গরমকালের প্রচণ্ড তাপে 

বিচলিত

উদ্বিগ্ন, চিন্তিত, অস্থির

আঙিনা

বাড়ির উঠান বা খোলা চত্বর

হৃষ্টপুষ্ট

মোটাতাজা, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী

লম্ফঝম্প

লাফালাফি ও দৌড়াদৌড়ি

চড়ুইভাতি

বনভোজন

ভয়ে জড়োসড়ো

ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া

দাবদাহ

প্রচণ্ড গরম, অসহনীয় তাপ











★ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১. টুকটুক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল।

২. টুকটুক খুব আনন্দিত ছিল।

৩. পরদিন থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

৪. দুই দিন পর মামাতো ভাইবোনের আসার কথা ছিল টুকটুক খুশি ছিল।

৫. খুশিতে টুকটুক গুনগুন করে গান গাইছিল।

৬. বাড়ির কাছে এসে টুকটুক মিউ মিউ শব্দ শুনতে পেল।

৭. শব্দ শুনে টুকটুক কৌতূহলী হয়ে এদিক-ওদিক তাকাল।

৮. টুকটুক বাগানের কোণে একটি বিড়ালছানা দেখতে পেল।

৯. বিড়ালছানাটি ভয়ে কাঁপছিল।

১০. বিড়ালছানার শরীরে কাদামাটি লেগে ছিল।

১১. বিড়ালছানাটি খুব দুর্বল ছিল।

১২. মনে হচ্ছিল বিড়ালছানার একটি পা কাটা।

১৩. আশেপাশে কাউকে না দেখে টুকটুক চিন্তিত হলো।

১৪. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে একা দেখে দুঃখ পেল।

১৫. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে নিল।

১৬. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে বাড়িতে নিয়ে এলো।

১৭. দরজায় পৌঁছে টুকটুক মাকে ডাকল।

১৮. মা ঘর থেকে বের হয়ে এলেন।

১৯. মা দেখলেন টুকটুক বিড়ালছানা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

২০. বিড়ালছানাটি তখনও কাঁপছিল।

২১. টুকটুক মায়ের কাছে বিড়ালছানার যত্ন নেওয়ার অনুমতি চাইল।

২২. মা প্রথমে একটু চিন্তিত হলেন।

২৩. মা বললেন বিড়ালছানার যত্ন নেওয়া কঠিন কাজ।

২৪. টুকটুক দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলল।

২৫. মা শেষে রাজি হলেন।

২৬. টুকটুক তোয়ালে দিয়ে বিড়ালছানার শরীর মুছিয়ে দিল।

২৭. টুকটুক পায়ের ক্ষত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগাল।

২৮. মা বিড়ালছানার জন্য দুধ দিলেন।

২৯. বিড়ালছানাটি ধীরে ধীরে দুধ খেল।

৩০. দুধ খেয়ে বিড়ালছানাটি ঘুমিয়ে পড়ল।

৩১. টুকটুক বিড়ালছানার নাম রাখল ‘চিকু’।

৩২. দিনে দিনে চিকু সুস্থ হয়ে উঠল।

৩৩. চিকু ছটফটে হয়ে গেল।

৩৪. চিকু টুকটুকের পেছন পেছন ঘুরত।

৩৫. রাতে চিকু টুকটুকের পাশে ঘুমাত।

৩৬. মামাতো ভাইবোন রাতুল ও নীলা বাড়িতে এলো।

৩৭. সবাই মিলে চড়ুইভাতির আয়োজন করল।

৩৮. চিকু সেই আনন্দে অংশ নিল।

৩৯. গ্রীষ্মের ছুটি আনন্দে কাটল।

৪০. একদিন টুকটুক দেখল ছেলেরা একটি বিড়ালছানাকে তাড়া করছে।

৪১. টুকটুক দৌড়ে গিয়ে তাদের থামাল।

৪২. টুকটুক প্রাণীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করল।

৪৩. ছেলেরা লজ্জা পেয়ে চলে গেল।

৪৪. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গেল।

৪৫. বিড়ালছানাটি কৃতজ্ঞতার মতো মিউ মিউ করল।

৪৬. এরপর টুকটুক অন্য পশুপাখির প্রতিও যত্নবান হলো।

৪৭. টুকটুক পাখিদের জন্য ভাত ও পানি রাখত।

৪৮. টুকটুক ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ক্লাব গঠন করল।

৪৯. শ্রেণিশিক্ষক এই কাজে সহযোগিতা করলেন।

৫০. টুকটুক বুঝল সবার বিপদে পাশে দাঁড়ানোই সত্যিকারের ভালোবাসা।


অনুশীলনী অংশ: প্রশ্ন ও উত্তর

১. ডান পাশ থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য লিখি।

বাম পাশ

ডান পাশ

ক. মনে তার ...... বইছে।

জোড়োসড়ো

খ. টুকটুকের মুখটা হাসিতে ...... করে উঠল।

ঝমলমল

গ. ছানাটি ভয়ে ...... হয়ে কাঁপছে।

আলতো

ঘ. চড়ুইভাতিতে ...... যোগ দিল চিকু।

আনন্দের জোয়ার

ঙ. সে ছানাটিকে ...... করে কোলে তুলে নিল।

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে

উত্তর:

ক. মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে।

খ. টুকটুকের মুখটা হাসিতে ঝমলমল করে উঠল।

গ. ছানাটি ভয়ে জোড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে।

ঘ. চড়ুইভাতিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যোগ দিল চিকু।

ঙ. সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।



২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. টুকটুক গান গেয়ে উঠল কেন?

উত্তর: আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে বলে টুকটুক আনন্দে গান গেয়ে উঠল।

খ. টুকটুক কোথায় বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল?

উত্তর: বাড়ির বাগানের কোণে টুকটুক বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল।

গ. টুকটুকের মন বিড়ালছানাটির জন্য কেঁদে উঠল কেন?

উত্তর: টুকটুকের মন বিড়ালছানাটির জন্য কেঁদে উঠল কারণ ছানাটি ভয়ে কাঁপছিল, কাদায় মাখা ছিল এবং তার একটি পা কেটে গিয়েছিল।

ঘ. টুকটুক কীভাবে বিড়ালছানাটির যত্ন নিল?

উত্তর: টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দিল, পায়ের ক্ষত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগাল এবং দুধ খেতে দিল।

ঙ. অন্য পশুপাখির যত্নে টুকটুক কী কী করত?

উত্তর: অন্য পশুপাখির যত্নে টুকটুক পাখিদের জন্য জানালায় ভাত রাখত এবং গরমে পানির বাটি রেখে দিত।

চ. ‘প্রাণীদের বন্ধু’ ক্লাবটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: টুকটুক তার সহপাঠীদের নিয়ে ক্লাবটি গঠন করেছিল, আর শ্রেণিশিক্ষক তাদের সাহায্য করেছিলেন।

৩. সঠিক উত্তরসহ বাক্যটি লিখি।

ক. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে —

ঈদের ছুটিতে | শীতের ছুটিতে

গ্রীষ্মের ছুটিতে | পূজার ছুটিতে

খ. ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে —

ঝিমোচ্ছে | ভয়ে কাঁপছে

ঠাণ্ডায় কাঁপছে | জ্বরে কাঁপছে

গ. টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল —

গামছা দিয়ে | কাপড় দিয়ে

জামা দিয়ে | তোয়ালে দিয়ে

ঘ. বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে —

রাতুল | নীলা

টুকটুক | মা

ঙ. চড়ুইভাতির আয়োজন করল —

টুকটুক ও নীলা | টুকটুক, রাতুল ও নীলা

রাতুল ও নীলা | টুকটুক ও রাতুল

উত্তর:

ক. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে গ্রীষ্মের ছুটিতে।

খ. ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে ভয়ে কাঁপছে।

গ. টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল তোয়ালে দিয়ে।

ঘ. বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে টুকটুক।

ঙ. চড়ুইভাতির আয়োজন করল রাতুল ও নীলা।

৪. কোন বাক্যে বিবরণ, প্রশ্ন, বিস্ময় বোঝাচ্ছে তা ডান পাশে লিখি।

ক. আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। 

খ. ভয় পেয়েছ? 

গ. অনেক কিছু শিখে গেলে! 

ঘ. টুকটুক ওর নাম রাখল ‘চিকু’। 

ঙ. সত্যি, মাগো! 

চ. কেন পারবি না? 

উত্তর:

ক. আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। বিবরণ

খ. ভয় পেয়েছ? প্রশ্ন

গ. অনেক কিছু শিখে গেলে! বিস্ময়

ঘ. টুকটুক ওর নাম রাখল ‘চিকু’। বিবরণ

ঙ. সত্যি, মাগো! বিস্ময়

চ. কেন পারবি না? প্রশ্ন

৫. বাক্যের শেষে দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন অথবা বিস্ময়চিহ্ন বসিয়ে পুনরায় লিখি।

ক. টুকটুক স্কুলে পড়ে

খ. তোমরা ওদের মারছো কেন

গ. কী সুন্দর লাগছে চারদিক

ঘ. আহারে, ওর কত কষ্ট

ঙ. তুমি কি তার নাম জানো

চ. এক্ষুনি চলে আসো

উত্তর:

ক. টুকটুক স্কুলে পড়ে।

খ. তোমরা ওদের মারছো কেন?

গ. কী সুন্দর লাগছে চারদিক!

ঘ. আহারে, ওর কত কষ্ট!

ঙ. তুমি কি তার নাম জানো?

চ. এক্ষুনি চলে আসো।

৬. গল্পটি শেষ করি।

ছুটির দিন। খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, জানালায় একটা পাখি বসে আছে। আমি পাখিটাকে বললাম, ‘তুমি আমাকে কিছু বলতে চাও?’

উত্তর:

ছুটির দিন। খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, জানালায় একটা পাখি বসে আছে। আমি পাখিটাকে বললাম, ‘তুমি আমাকে কিছু বলতে চাও?’

পাখিটি মিষ্টি করে ডেকে জানালার ধারে রাখা ভাত খেতে শুরু করল। আমি বুঝলাম, ও খাবার পেয়ে খুশি। হঠাৎ সে ডানা ঝাপটিয়ে আমার মাথার ওপর ঘুরে গেল, যেন আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। আমি হাসলাম এবং বললাম, “তোমরা থাকলে আমাদের পৃথিবী আরও সুন্দর হয়।” সেই দিন থেকে প্রতিদিন আমি পাখিদের জন্য খাবার ও পানি রাখতে ভুলতাম না।

৭. আমার প্রিয় কোনো প্রাণী নিয়ে একটা রচনা লিখি।

আমার প্রিয় প্রাণী-বিড়াল

আমার প্রিয় প্রাণী হলো বিড়াল। বিড়াল খুবই শান্ত, ভদ্র ও আদুরে স্বভাবের প্রাণী। ওরা খুব নরম পায়ে হাঁটে এবং ‘মিউ মিউ’ শব্দ করে ডাকে। বিড়াল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসে। নিজে নিজেই লোম চেটে পরিষ্কার করে। আমি বিড়ালকে পছন্দ করি কারণ ওরা মানুষের বন্ধু। ওরা দুঃখে-সুখে মালিকের পাশে থাকে। বিড়ালের চোখ খুব সুন্দর এবং অন্ধকারেও ভালো দেখতে পায়। ছোট ছোট লাফাঝাঁপ আর দৌড়ঝাঁপ আমাকে আনন্দ দেয়।

আমাদের বাড়িতেও একটি বিড়াল আছে। আমি তাকে নিয়মিত দুধ খাওয়াই, পরিষ্কার রাখি এবং তার সঙ্গে খেলি। বিড়াল বন্ধুর মতো আমার খুব ভালো লাগে। তাই বিড়াল আমার প্রিয় প্রাণী।









❑ ধারাবাহিক, সামষ্টিক ও বৃত্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ❑

❑ প্রশ্নের ধারা: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. টুকটুক কেন এত আনন্দিত ছিল?

উত্তর: টুকটুক আনন্দিত ছিল, কারণ পরের দিন থেকেই গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হচ্ছিল। দুই দিন পর তার মামাতো ভাইবোনরা রাতুল ও নীলাদের বাড়িতে আসবে। সে ভাবছিল, তাদের সঙ্গে কত মজা হবে— খেলাধুলা করবে, গল্প করবে ও চড়ুইভাতি করবে। ছুটির আনন্দ তার মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছিল, এবং সে খুশিতে গান গেয়ে উঠেছিল "আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি।"

২. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কোথায় পেল এবং তার অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: টুকটুক বাড়ির কাছাকাছি এসে বাগানের কোণে নিউ মিউ শব্দ শুনে বিড়ালছানাটিকে দেখতে পায়। ছানাটি কালমাটিতে মাখা, কঙ্কালসার শরীরের এবং ভয়ে কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল, তার একটি পা কেটে গেছে। অসহায় সেই প্রাণীটিকে দেখে টুকটুকের মন কেঁদে ওঠে এবং সে তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৩. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে দেখে কী করল?

উত্তর: টুকটুক প্রথমে চারদিকে তাকিয়ে কাউকে না দেখে ছানাটির কাছে এগিয়ে যায়। সে মমতার সঙ্গে বিড়ালছানাকে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসে। মায়ের সাহায্যে সে তার শরীর পরিষ্কার করে, পায়ের ক্ষতস্থান ধুয়ে ওষুধ লাগায়। মা দুধ দেন, যা খেয়ে বিড়ালছানাটি ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে।

৪. টুকটুক বিড়ালছানাটির নাম কী রাখল এবং কেন?

উত্তর: টুকটুক বিড়ালছানাটির নাম রাখে 'চিকু'। সে মনে করেছিল, এই নামটি মিষ্টি ও আদুরে, যেমন ছানাটিও ছিল। চিকু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে, টুকটুকের বন্ধু হয়ে যায় এবং সারাদিন তার সঙ্গে খেলা করত।

৫. মা প্রথমে কেন চিন্তিত হলেন?

উত্তর: মা চিন্তিত হয়েছিলেন, কারণ বিড়ালের যত্ন নেওয়া একটি কঠিন কাজ। তিনি ভাবছিলেন, টুকটুক ছোট মেয়ে। সে পারবে তো এই দায়িত্ব নিতে? কিন্তু টুকটুক প্রতিশ্রুতি দেয় যে সে নিজেই সব করবে, শুধু মায়ের সামান্য সাহায্য প্রয়োজন। এতে মা হাসিমুখে অনুমতি দেন।

৬. টুকটুক কীভাবে চিকুর যত্ন নিয়েছিল?

উত্তর: টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে চিকুর গা মুছে দেয়, ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগায় এবং মায়ের দেওয়া দুধ খাওয়ায়। সে চিকুকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ায় এবং সারাক্ষণ তার খেয়াল রাখে। চিকুর প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ও মায়াময়।

৭. চিকু সুস্থ হওয়ার পর কীভাবে আচরণ করত?

উত্তর: চিকু সুস্থ হওয়ার পর টুকটুকের খুব প্রিয় সঙ্গী হয়ে ওঠে। সে সারাক্ষণ টুকটুকের পেছনে ঘুরত, খেলাধুলা করত এবং রাতে বিছানায় এসে পাশে ঘুমাত। চিকু যেন টুকটুকের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যায়।

৮. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনরা কে ছিল? তারা কী করেছিল?

উত্তর: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনদের নাম রাতুল ও নীলা। তারা গ্রীষ্মের ছুটিতে টুকটুকদের বাড়িতে আসে। তিনজন মিলে চড়ুইভাতির আয়োজন করে, খেলাধুলা করে ও খুব আনন্দে সময় কাটায়। চিকুও তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং ওদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে।

৯. টুকটুক ছেলেদের তাড়া করা বিড়ালছানাকে দেখে কী করেছিল?

উত্তর: টুকটুক দেখল, কয়েকটি ছেলে একটি ছোট বিড়ালছানাকে রাস্তায় তাড়া করছে। সে ছেলেদের থামিয়ে বলে, “ওরা তো ছোট প্রাণী। তোমরা ওকে মারছো কেন?” যখন একটি ছেলে বলে তারা মজা করছে, তখন টুকটুক রাগ করে বোঝায়। কাউকে কষ্ট দিয়ে মজা করা যায় না। ছেলেরা লজ্জা পেয়ে চলে যায়।

১০. টুকটুক ছোট বিড়ালছানাটিকে কীভাবে বাঁচিয়েছিল?

উত্তর: ছেলেদের তাড়া থেকে বিড়ালছানাটিকে রক্ষা করে টুকটুক সেটিকে কোলে তুলে মাঠের পাশে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। তখন বিড়ালছানাটি মিউ মিউ করে যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। টুকটুকের এই কাজ তার দয়া, সাহস ও প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ।

১১. টুকটুক কীভাবে প্রাণীদের বন্ধু হয়ে উঠল?

উত্তর: চিকুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই টুকটুক সব প্রাণীর প্রতি সদয় হয়ে ওঠে। সে প্রতিদিন জানালার ধারে ভাত রেখে দেয় পাখিদের জন্য এবং গরমে বাটি ভরে পানি রাখে, যাতে তারা পান করতে পারে। সহপাঠীদের নিয়ে সে 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে একটি ক্লাবও তৈরি করে।

১২. টুকটুকের 'প্রাণীদের বন্ধু' ক্লাবের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: এই ক্লাবের উদ্দেশ্য ছিল প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও যত্ন শেখানো। টুকটুক ও তার বন্ধুরা একসঙ্গে কাজ করত, যাতে আশপাশের পশুপাখি কষ্ট না পায়। তাদের শ্রেণিশিক্ষকও এই কাজের সহযোগিতা করেন, যা টুকটুকদের আরও উৎসাহ দেয়।

১৩. মা টুকটুককে কী বলেছিলেন?

উত্তর: মা একদিন টুকটুককে বলেন, “তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে।” অর্থাৎ, টুকটুকের দয়া, যত্ন ও দায়িত্ববোধ দেখে মা খুব খুশি হন। টুকটুক প্রাণীর মাধ্যমে মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করেছিল।

১৪. টুকটুক মাকে কী উত্তর দিয়েছিল?

উত্তর: টুকটুক হাসিমুখে বলেছিল, “ও তো শুধু একটা প্রাণী নয় মা আমার বন্ধুও। আর বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তো সত্যিকারের ভালোবাসা।” তার এই উত্তর প্রমাণ করে যে সে ছোট হলেও গভীর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।

১৫. এই গল্প থেকে তুমি কী শিক্ষা পেলে?

উত্তর: এই গল্প থেকে শেখা যায় যে প্রাণীরাও জীবন্ত প্রাণী; তাদেরও কষ্ট ও অনুভূতি আছে। তাদের প্রতি দয়া ও যত্ন দেখানো মানুষের অন্যতম গুণ। টুকটুকের মতো যদি সবাই ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখায়, তাহলে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।




প্রশ্নের ধারা: রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

১. গল্পের শুরুতে টুকুন্টুক কেন এত আনন্দে ছিল?

উত্তর: গল্পের শুরুতে টুকুন্টুক ছিল খুব আনন্দে, কারণ পরদিন থেকে শুরু হচ্ছিল গ্রীষ্মের ছুটি। তার মামাতো ভাইবোন রাতুল ও নীলা দুই দিন পর তাদের বাড়িতে আসবে বলে সে ভীষণ খুশি ছিল। ছুটির আনন্দে সে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরছিল। এই ছুটি মানে টুকুন্টুকের জন্য খেলা, হাসি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। তার মনে আনন্দের ঢেউ উঠেছিল, যা তার মুখে ও কথায় ফুটে উঠেছিল। এভাবেই গল্পটি শুরু হয় এক মিষ্টি ও আনন্দঘন পরিবেশে।

২. টুকুন্টুক কীভাবে বিড়ালছানাটিকে পেল এবং তার অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: বাড়ির কাছাকাছি এসে টুকুন্টুক মিউ মিউ শব্দ শুনতে পায়। কৌতূহলবশত সে শব্দের উৎস খুঁজে বাগানে কোণে যায়। সেখানে সে দেখে একটি ছোট বিড়ালছানা কাঁপছে। কান্নামাটি মাখা দেহে ভয়ে জবুথবু হয়ে থাকা সেই ছানাটির একটি পা কেটে গিয়েছে। ছানাটির চোখে যেন শুধু টলমল করছিল। টুকুন্টুকের মন বিড়ালছানার জন্য কেঁদে ওঠে এবং সে সিদ্ধান্ত নেয় তাকে সাহায্য করবে। এই দৃশ্য টুকুন্টুকের সহানুভূতিশীল মন ও কোমল হৃদয় প্রকাশ করে।

৩. টুকুন্টুক কীভাবে চিকুর যত্ন নিয়েছিল?

উত্তর: টুকুন্টুক বিড়ালছানাটিকে কোলে করে বাড়িতে আনে এবং মা-কে ডেকে সাহায্য চায়। মা একটু চিন্তিত হলেও টুকুন্টুকের ইচ্ছা দেখে সম্মতি দেন। টুকুন্টুক গরমোয়ালে দিয়ে ছানার গা মুছে দেয়, ক্ষত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগায়। মা এক বাটিতে দুধ দেন, যা ছানাটি ধীরে ধীরে খায়। এরপর ছানাটি টুকুন্টুকের কোলে ঘুমিয়ে পড়ে। টুকুন্টুক তার নাম রাখে 'চিকু'। প্রতিদিন তার যত্ন নিতে নিতে টুকুন্টুক ও চিকুর মধ্যে এক আন্তরিক বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

৪. চিকু কেমন হয়ে উঠল এবং টুকুন্টুকের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন ছিল?

উত্তর: টুকুন্টুকের ভালোবাসা ও যত্নে চিকু ধীরে ধীরে সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে। সে সারাক্ষণ টুকুন্টুকের পেছন পেছন ঘুরে বেড়ায়, খেলায় যোগ দেয় এবং রাতে টুকুন্টুকের পাশে ঘুমায়। তাদের মধ্যে এক সত্যিকারের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। টুকুন্টুক তাকে শুধু পোষা প্রাণী নয় নিজের বন্ধু মনে করত। চিকুও টুকুন্টুককে ভালোবাসত। তাদের এই সম্পর্ক প্রমাণ করে ভালোবাসা শুধু মানুষের মধ্যেই নয়, প্রাণীর মাঝেও জন্ম নিতে পারে।

৫. টুকুন্টুকের মামাতো ভাইবোন এলে কীভাবে আনন্দ করল তারা?

উত্তর: গ্রীষ্মের ছুটিতে রাতুল ও নীলা টুকুন্টুকের বাড়িতে আসে। তিনজন মিলে চড়ুইভাতির আয়োজন করে। চিকুও তাদের সঙ্গে আনন্দে যোগ দেয়। মাঠে, বাগানে ও বাড়ির আঙিনায় ওরা খেলাধুলা করে, হাসি-আনন্দে সময় কাটায়। টুকুন্টুক খুব খুশি হয়, কারণ তার বন্ধু চিকুও তাদের আনন্দের অংশ হয়। গ্রীষ্মের ছুটির এই কয়েকটা দিন টুকুন্টুকের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময় হয়ে ওঠে।

৬. রাস্তায় ছেলেরা কী করছিল এবং টুকুন্টুক কীভাবে তাদের থামাল?

উত্তর: একদিন টুকুন্টুক খেলতে গিয়ে দেখে, কয়েকজন ছেলে এক বিড়ালছানাকে তাড়া করছে। তারা মজা করছে ভেবে ছানাটিকে কষ্ট দিচ্ছিল। টুকুন্টুক দ্রুত দৌড়ে গিয়ে তাদের থামায় এবং বলে, "ওরা ছোট প্রাণী তোমরা ওকে মারছো কেন?" ছেলেরা চুপ হয়ে যায়। এরপর টুকুন্টুক ছানাটিকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। এই কাজটি প্রমাণ করে টুকুন্টুক শুধু ভালোবাসাই নয়, সাহস ও দায়িত্ববোধও রাখে।

৭. টুকুন্টুক কীভাবে 'প্রাণীদের বন্ধু' ক্লাব গঠন করল?

উত্তর: বিড়াল ছানাটিকে সাহায্য করার পর টুকুন্টুকের মনে প্রাণীদের প্রতি গভীর মমতা জাগে। সে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে একটি ক্লাব গঠন করে। এই ক্লাবের কাজ ছিল আশপাশের প্রাণীদের যত্ন নেওয়া, তাদের জন্য খাবার ও পানি রাখা এবং তাদের নির্যাতন থেকে রক্ষা করা। শ্রেণিশিক্ষকও তাদের এই কাজে উৎসাহ দেন। ক্লাবের মাধ্যমে টুকুন্টুক অন্যদেরও প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

৮. টুকুন্টুকের মা ও শিক্ষক তার কাজ সম্পর্কে কী ভাবলেন?

উত্তর: টুকুন্টুকের শিক্ষক তার উদ্যোগে খুশি হলেন এবং ক্লাবের কাজে सहायता করলেন। মা-ও মেয়ের মানবিক আচরণের গর্ব অনুভব করলেন। একদিন মা বললেন, "তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবাসতে অনেক কিছু শিখে গেলে।" মা বুঝতে পারেন, টুকুন্টুক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানুষ হিসেবে আরও বড় হয়ে উঠেছে।

৯. গল্পের শেষে টুকুন্টুক কী বলেছিল এবং তার মানে কী?

উত্তর: গল্পের শেষে টুকুন্টুক বলে, "ও তো শুধু একটা প্রাণী নয় মায়ামমতার বন্ধু। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তো সত্যিকারের ভালোবাসা।" এই কথায় বোঝা যায়, টুকুন্টুক প্রাণীদেরও বন্ধু হিসেবে দেখে এবং তাদের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করে। এটি তার দয়ার ও মানবিকতার প্রতীক।

১০. 'টুকুন্টুক ও চিকু' গল্পটি থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

উত্তর: গল্পটি আমাদের শেখায় প্রাণীরাও জীবন্ত; তাদেরও কষ্ট, ভয় ও ভালোবাসা আছে। মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো তাদের রক্ষা করা, যত্ন নেওয়া এবং ভালোবাসা দেওয়া। টুকুন্টুকের মতো একজন শিশু যখন এই শিক্ষা নেয়, তখন সমাজে সহানুভূতি ও মানবতা বৃদ্ধি পায়। গল্পটি শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, দয়া ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।

📄 প্রশ্নের ধারা: শব্দার্থ

মূলশব্দ

অর্থ

আনন্দ

খুশি, সুখবোধ

গ্রীষ্ম

গরমের ঋতু

মামাতো

মায়ের ভাই বা বোনের সন্তান

কৌতূহলী

জানার আগ্রহী

জড়োসড়ো

ভয়ে কুঁকড়ে থাকা

উদ্বিগ্ন

চিন্তিত

বিচলিত

অস্থির, অশান্ত

যত্ন

ভালোবাসায় দেখাশোনা

সুস্থ

অসুখমুক্ত

হৃষ্টপুষ্ট

মোটাসোটা ও শক্তিশালী

উচ্ছ্বাস

প্রবল আনন্দ

তাড়া করা

পিছু নেওয়া

নিরাপদ

বিপদমুক্ত

দাবদাহ

প্রচণ্ড গরম

সহযোগিতা

সাহায্য, সহায়তা


📄 প্রশ্নের ধারা: শূন্যস্থান পূরণ

১. সেদিন টুকটুক স্কুল থেকে — ফিরছিল।

২. আগামীকাল থেকে শুরু হবে —।

৩. দুই দিন পর টুকটুকের — আসবে তাদের বাড়িতে।

৪. টুকটুক বাগানের কোণে একটি — দেখতে পেল।

৫. বিড়ালছানাটি ভয়ে — হয়ে কাঁপছিল।

৬. টুকটুক ছানাটিকে — করে কোলে তুলে নিল।

৭. টুকটুক ছানাটির নাম রাখল —।

৮. চিকু দিনে দিনে — হয়ে উঠল।

৯. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনের নাম — ও —।

১০. টুকটুক ওরা মিলে — আয়োজন করল।

১১. টুকটুক দেখল কয়েকটা ছেলে রাস্তায় একটা — তাড়া করছে।

১২. টুকটুক ছেলেদের বলল, “ওরা তো — প্রাণী”।

১৩. টুকটুক পাখিদের জন্য জানালার ধারে — রাখে।

১৪. গ্রীষ্মের দাবদাহে টুকটুক মাটিতে — তরে রাখে।

১৫. টুকটুক ও তার বন্ধুরা মিলে '—' নামে একটি ক্লাব বানাল।

উত্তর:

১. বাড়ি; ২. গ্রীষ্মের ছুটি; ৩. মামাতো ভাইবোনেরা; ৪. বিড়ালছানা; ৫. জড়োসড়ো; ৬. আলতো; ७. চিকু; ৮. সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট; ৯. রাতুল ও নীলা; ১০. চড়ুইভাতির; ১১. বিড়ালছানাকে; ১২. ছোট; ১৩. এক মুঠো ভাত; ১৪. পানি; ১৫. প্রাণীদের বন্ধু।


📄 প্রশ্নের ধারা: বাক্য গঠন

শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন 

ক্রমিক

মূল শব্দ

বাক্য গঠন / বাক্যে প্রয়োগ

আনন্দ

ছুটি পেয়ে টুকটুকের মনে আনন্দের জোয়ার বইল।

গ্রীষ্ম

গ্রীষ্মের ছুটিতে টুকটুক অনেক মজা করল।

মামাতো

মামাতো ভাইবোনেরা টুকটুকির বাড়িতে এল।

কৌতূহলী

কৌতূহলী চোখে টুকটুক শব্দের উৎস খুঁজল।

জড়োসড়ো

বিড়ালছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে ছিল।

উদ্বিগ্ন

টুকটুক উদ্বিগ্নভাবে চারদিকে তাকাল।

বিচলিত

মেয়ে ডাক শুনে মা বিচলিত হয়ে এলেন।

যত্ন

টুকটুক চিকুর যত্ন নিত প্রতিদিন।

সুস্থ

চিকু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠল।

১০

হৃষ্টপুষ্ট

চিকু পরে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল।

১১

উচ্ছ্বাস

ছুটির আনন্দে ভাইবোনেরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল।

১২

তাড়া করা

ছেলেরা বিড়ালছানাটিকে তাড়া করছিল।

১৩

নিরাপদ

টুকটুক ছানাটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেল।

১৪

দাবদাহ

গ্রীষ্মের দাবদাহে টুকটুক পাখিদের জন্য পানি রাখে।

১৫

সহযোগিতা

শ্রেণিশিক্ষক টুকটুকদের সহযোগিতা করলেন।





📄 প্রশ্নের ধারা: মিলকরণ

১. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ: 

বাম পাশ

ডান পাশ

১. টুকটুক স্কুল থেকে ফিরছিল

ক. চিকু

২. টুকটুক বাগানে দেখতে পেল

খ. কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এলো

৩. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে

গ. একটি আহত বিড়ালছানা

৪. বিড়ালছানাটির নাম রাখা হলো

ঘ. গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে বলে

৫. মা প্রথমে চিন্তিত হলেন

ঙ. স্কুলে পাঠিয়ে দিলেন


চ. বিড়ালছানাটিকে তাড়িয়ে দিলেন


ছ. বিড়ালের যত্ন নেওয়া কঠিন বলে

উত্তর:

১. টুকটুক স্কুল থেকে ফিরছিল ➡️ ঘ. গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে বলে

২. টুকটুক বাগানে দেখতে পেল ➡️ গ. একটি আহত বিড়ালছানা

৩. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে ➡️ খ. কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এলো

৪. বিড়ালছানাটির নাম রাখা হলো ➡️ ক. চিকু

৫. মা প্রথমে চিন্তিত হলেন ➡️ ছ. বিড়ালের যত্ন নেওয়া কঠিন বলে



২. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ:

বাম পাশ

ডান পাশ

১. টুকটুক চিকুর যত্ন নিল

ক. ভাত ও পানি রেখে দেয়

২. চিকু ধীরে ধীরে

খ. 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে

৩. টুকটুক ছেলেদের থামালো

গ. বিড়ালছানাকে তাড়া করতে দেখে

৪. টুকটুক পাখিদের জন্য

ঘ. সুস্থ ও ফুরফুরে হয়ে উঠল

৫. টুকটুক একটি ক্লাব গড়ল

ঙ. ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে


চ. খেলার ছলার জন্য


ছ. শুধু নিজের আনন্দের জন্য

উত্তর:

১. টুকটুক চিকুর যত্ন নিল ➡️ ঙ. ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে

২. চিকু ধীরে ধীরে ➡️ ঘ. সুস্থ ও ফুরফুরে হয়ে উঠল

৩. টুকটুক ছেলেদের থামালো ➡️ গ. বিড়ালছানাকে তাড়া করতে দেখে

৪. টুকটুক পাখিদের জন্য ➡️ ক. ভাত ও পানি রেখে দেয়

৫. টুকটুক একটি ক্লাব গড়ল ➡️ খ. 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে




  • unchecked

     প্রশ্নের ধারা: বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. টুকটুক কেন আনন্দিত ছিল?

ক. স্কুলে যেতে পেরে

খ. গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ায়

গ. বিড়ালছানা পেয়েছে বলে

ঘ. মামাতো ভাইবোনদের বাড়ি যাওয়ার জন্য

২. টুকটুক বাড়ির কাছে কী শুনল?

ক. পাখির কিচিরমিচির

খ. কুত্তার শব্দ

গ. মিউ মিউ শব্দ

ঘ. দরজায় খটখট

৩. বিড়ালছানার অবস্থা কী ছিল?

ক. সুস্থ ও খুশি

খ. ভয় পেয়েছে এবং পেটে চোট লেগেছে

গ. খেতে চাচ্ছিল

ঘ. ঘুমোচ্ছিল

৪. টুকটুক কী করল ছানাটিকে উদ্ধার করতে?

ক. ডাক্তারকে ডাকল

খ. কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এল

গ. রাস্তায় রেখে গেল

ঘ. খাওয়াল না

৫. মা প্রথমে বিড়ালছানার যত্ন নিতে অনুমতি কেন দেননি?

ক. তাকে ঘুমোতে চেয়েছিলেন

খ. ছেলের দায়িত্ব বোঝার জন্য

গ. যত্ন নেওয়া কঠিন কাজ মনে হওয়ায়

ঘ. বিড়ালকে ভয় পেয়েছিলেন

৬. টুকটুক কীভাবে চিকুকে সুস্থ করল?

ক. তাকে কোলে নিয়ে খেলল

খ. গা মুছল, ক্ষতস্থান পরিষ্কার করল, ওষুধ লাগাল

গ. বাইরে বাইরে ছেড়ে দিল

ঘ. শুধু দুধ দিল

৭. চিকু সুস্থ হওয়ার পর কেমন আচরণ করত?

ক. টুকটুককে এড়াত

খ. সারাদিন ঘুমাত

গ. টুকটুকের সঙ্গে খেলত ও পাশে ঘুমাত

ঘ. বাইরে দৌড়াত

৮. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা কে ছিল?

ক. রাতুল ও নীলা

খ. রত্না ও নিশা

গ. রাজু ও নীরা

ঘ. রাতুল ও নীলিমা

৯. ছেলেরা বিড়ালছানাকে কেন তাড়া করছিল?

ক. ক্ষুধার্ত ছিল

খ. ধারাপাতভাবে তাড়া করছিল

গ. মজা করতে চেয়েছিল

ঘ. খেলতে চেয়েছিল

১০. টুকটুক ছেলেদের কী বলল?

ক. তারা যে মারছে তা ঠিক নয়

খ. তারা মারতে পারে

গ. বিড়ালছানা কষ্ট পাবে না

ঘ. সে মারতে পারবে

১১. টুকটুক কী নামে ক্লাব বানাল?

ক. পদ্ম বন্ধু

খ. প্রাণীদের বন্ধু

গ. পরিবেশ রক্ষক

ঘ. প্রাণী সংরক্ষণ

১২. টুকটুক ক্লাবে কী করত?

ক. পাখিদের খাবার রাখত

খ. শিশুদের পড়াত

গ. ফুল সাজাত

ঘ. মাছ ধরত

১৩. মায়ের বক্তব্য কী ছিল টুকটুককে?

ক. বন্ধুদের সাহায্য করবে

খ. ভুলে ভালো করবে

গ. খেলার সময় সাবধান হবে

ঘ. বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখবে

১৪. টুকটুকের উত্তর কী ছিল মায়ের কাছে?

ক. আমি সব ই করতে পারব

খ. ও শুধু একটা প্রাণী নয়, বন্ধুও

গ. আমার খেলা শেষ হয়েছে

ঘ. আমি ক্লাসে যাচ্ছি

১৫. গল্প থেকে শিক্ষাটি কী?

ক. কেবল পশুদের রক্ষা করা প্রয়োজন

খ. খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

গ. বন্ধুর বিপদে সাহায্য করাও ভালোবাসা

ঘ. ভালোবাসা ও যত্ন মানুষের গুণ

উত্তর: ১. খ. গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ায়; ২. গ. মিউ মিউ শব্দ; ৩. খ. ভয় পেয়েছে এবং পেটে চোট লেগেছে; ৪. খ. কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এল; ৫. গ. যত্ন নেওয়া কঠিন কাজ মনে হওয়ায়; ৬. খ. গা মুছল, ক্ষতস্থান পরিষ্কার করল, ওষুধ লাগাল; ৭. গ. টুকটুকের সঙ্গে খেলত ও পাশে ঘুমাত; ৮. ক. রাতুল ও নীলা; ৯. গ. মজা করতে চেয়েছিল; ১০. ক. তারা যে মারছে তা ঠিক নয়; ১১. খ. প্রাণীদের বন্ধু; ১২. ক. পাখিদের খাবার রাখত; ১৩. ঘ. বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখবে; ১৪. খ. ও শুধু একটা প্রাণী নয়, বন্ধুও; ১৫. ঘ. ভালোবাসা ও যত্ন মানুষের গুণ।

🎯 প্রশ্নের ধারা : বিপরীত শব্দ লিখন

মূলশব্দ

বিপরীত শব্দ

আনন্দ

দুঃখ

গ্রীষ্ম

শীত

মামাতো

পিসতুতো

কৌতূহলী

অনাগ্রহী

জড়োসড়ো

সোজা

উদ্বিগ্ন

নিশ্চিন্ত

বিচলিত

শান্ত

যত্ন

অবহেলা

সুস্থ

অসুস্থ

ফুটফুটে

কুৎসিত

উচ্ছ্বাস

নিরুদ্বেগ

তাড়া

থামা

নিরাপদ

বিপদগ্রস্ত

দাবদাহ

শীতলতা

সহযোগিতা

বাধা


🎯 প্রশ্নের ধারা : সমার্থক শব্দ লিখন

মূলশব্দ

সমার্থক শব্দ

আনন্দ

খুশি, উল্লাস

গ্রীষ্ম

তাপকাল, গরমকাল

মামাতো

মাতুলসম্পর্কীয়

কৌতূহলী

জানার আগ্রহী, অনুসন্ধিৎসু

জড়োসড়ো

কুঁকড়ে থাকা

উদ্বিগ্ন

চিন্তিত, উৎকণ্ঠিত

বিচলিত

ব্যাকুল, অস্থির

যত্ন

পরিচর্যা, লালন

সুস্থ

আরোগ্য, সাবধান

ফুটফুটে

সুন্দর, সবল

উচ্ছ্বাস

আনন্দ, উত্তেজনা

তাড়া

অনুসরণ, পিছু নেওয়া

নিরাপদ

সুরক্ষিত, রক্ষিত

দাবদাহ

প্রচণ্ড গরম, তাপ

সহযোগিতা

সহায়তা, সমর্থন

🎯 প্রশ্নের ধারা : মূলভাব লিখন

মূলভাব: 'টুকটুকি ও চিকু'-তে এক ছোট মেয়ে টুকটুকির হৃদয়ের মমতা, প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ফুটে উঠেছে। আহত বিড়াল ছানাকে উদ্ধার করে সে তার যত্ন নেয়, নাম দেয় চিকু এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে অন্য প্রাণীদের প্রতিও সহানুভূতিশীল হয়। সে বুঝতে শেখে প্রাণীরাও জীবন্ত; তাদেরও কষ্ট, ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব আছে। গল্পটি শেখায় মানুষ তখনই সত্যিকারের মানুষ হয়, যখন সে দুর্বল প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও যত্ন প্রদর্শন করে।


🎯 প্রশ্নের ধারা : বিরাম চিহ্ন বসিয়ে অনুচ্ছেদ পুনর্লিখন

১. সেদিন টুকটুকি স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে কারণ আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু দুই দিন পর মামাতো ভাইবোনেরা আসবে তাদের বাড়িতে

উত্তর : সেদিন টুকটুকি স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল। মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে। কারণ, আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। দুই দিন পর মামাতো ভাইবোনেরা আসবে তাদের বাড়িতে।

২. উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে টুকটুকি চারদিকে তাকালে কাউকে দেখতে পেল না টুকটুক এবার বিড়াল ছানাটার কাছে গিয়ে বলল তুমি একা ভাইয়া তুমি কি ভয় পেয়েছ বিড়াল ছানাটি মুখ তুলে তাকাল চোখে যেন পানি টুকটুকরের মন বিড়ালছানার জন্য কেঁদে উঠল

উত্তর : উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে টুকটুকি চারদিকে তাকাল। কাউকে দেখতে পেল না। টুকটুক এবার বিড়ালছানাটার কাছে গিয়ে বলল, 'তুমি একা? ভাইয়া তুমি কি ভয় পেয়েছ?' বিড়াল ছানাটি মুখ তুলে তাকাল, চোখে যেন পানি। টুকটুকরের মন বিড়ালছানার জন্য কেঁদে উঠল।


🎯 প্রশ্নের ধারা : প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে প্রশ্ন তৈরিকরণ

১. সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এলো। দরজায় পা দিতেই সে মা মা বলে ডাকতে থাকল। মা বিড়িয়িত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। মা দেখলেন, টুকটুক একটা বিড়ালছানা কোলে নিয়ে আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে।

ক. সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এলো?

খ. ছানাটিকে কোথায় নিয়ে এলো সে?

গ. সে কীভাবে ছানাটিকে কোলে তুলে নিয়ে এলো?

ঘ. দরজায় পা দিতেই সে কাকে মা মা বলে ডাকতে থাকল?

ঙ. মা কখন ঘর থেকে বের হয়ে এলেন?

২. টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়াল ছানাটার গা মুছিয়ে দিলো। পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলো। মা একটা ছোট পাত্রে দুধ দিলেন। বিড়াল ছানাটি ধীরে ধীরে দুধ খেল। একটু পর ছানাটি টুকটুকরের কোলে ঘুমিয়ে পড়ল। টুকটুক ওর নাম রাখল 'চিকু'।

ক. কে নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়াল ছানাটার গা মুছিয়ে দিলো?

খ. টুকটুক বিড়াল ছানাটির পায়ের কাটা জায়গাটা কীভাবে পরিষ্কার করল?

গ. মা কী নিলেন বিড়াল ছানাটির জন্য?

ঘ. বিড়ালছানাটি কখন টুকটুকরের কোলে ঘুমিয়ে পড়ল?

ঙ. টুকটুক বিড়াল ছানাটির নাম কী রাখল?


🎯 প্রশ্নের ধারা : পদ নির্ণয়

১. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।

সেদিন টুকটুকি স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল। মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে। কারণ, আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। দুই দিন পর মামাতো ভাইবোনেরা আসবে তাদের বাড়িতে।

উত্তর : ফিরছিল = ক্রিয়া; তার = সর্বনাম; আগামীকাল = বিশেষ্য; ছুটি = বিশেষণ; পর = অব্যয়।

২. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।

শব্দ শুনে এগিয়ে যেতেই টুকটুক বাগানের কোণে একটা বিড়ালছানা দেখতে পেল। ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে। কালামাটি মাথা কককলাসার শরীর নিয়ে মিউ মিউ করে ডাকছে। মনে হচ্ছে, তার একটা পা কেটে গেছে।

উত্তর : শব্দ = বিশেষ্য; ভয়ে = বিশেষণ; কাঁপছে = ক্রিয়া; নিয়ে = অব্যয়; তার = সর্বনাম।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url