শ্রেণি : পঞ্চম বিষয় : বাংলা পাঠ ১২ - শিষ্যের সাধনা

 

Shiuly's Class Room 

Aklima Shiuly 

শ্রেণি : পঞ্চম 

বিষয় : বাংলা


পাঠ ১২ - শিষ্যের সাধনা

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১. ছেলের নাম একলব্য।

২. একলব্য সারাদিন তীর-ধনুক নিয়ে মেতে থাকে।

৩. একলব্যের হাতের নিশানা অব্যর্থ।

৪. একলব্য বীর হতে চায়।

৫. একলব্য গুরু দ্রোণের কাছে শিখতে চায়।

৬. দ্রোণ রাজপুত্রদের তীর চালনা শেখান।

৭. একলব্যের ইচ্ছা পূর্ণ হবে যদি দ্রোণের কাছে শিখতে পারে।

৮. একলব্য সাহসে বুক বেঁধে রাজবাড়ির মাঠে ঢুকে পড়ল।

৯. রাজপুত্ররা ধনুক থেকে তীর ছোড়ার অনুশীলন করছে।

১০. দ্রোণ একদিকে বসে আছেন।

১১. একলব্য রাজপুত্রদের তীর ছোড়া দেখল।

১২. একলব্য সাহস করে গুরুর কাছে যেতে পারে নি।

১৩. এক রাজপুত্র একলব্যকে দেখে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল।

১৪. একলব্য প্রথমে চুপ করে ছিল।

১৫. দ্রোণ একলব্যকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন।

১৬. একলব্য বলল, সে শিকারির ছেলে।

১৭. একলব্য দ্রোণের কাছে তীর চালনা শিখতে চায়।

১৮. দ্রোণ রাজকুমারদের ছাড়া কাউকে শেখান না।

১৯. একলব্যকে ফিরে যেতে বলা হলো।

২০. একলব্য মলিন মুখে চলে গেল।

২১. একলব্য নিজে অনুশীলন করতে শুরু করল।

২২. অনেক বছর কেটে গেল।

২৩. রাজপুত্ররা তীর-ধনুক চালনায় পারদর্শী হয়ে উঠল।

২৪. দ্রোণ একদিন পরীক্ষা নিতে বনে এলেন।

২৫. তৃতীয় রাজপুত্র সবচেয়ে ভালো তীর নিক্ষেপ করতে পারে।

২৬. তৃতীয় রাজপুত্র হরিণের পিছু ছুটল।

২৭. হরিণ চোখের আড়াল হয়ে গেল।

২৮. কুকুর হরিণের পিছু ছুটল।

২৯. কুকুরের মুখে পাঁচটি তীর বিঁধে আছে।

৩০. কুকুরের কোনো যন্ত্রণার চিহ্ন দেখায় না।

৩১. তৃতীয় রাজপুত্র শিকারিকে খুঁজতে শুরু করল।

৩২. তৃতীয় রাজপুত্র বনে একফালি উঠান দেখল।

৩৩. যুবক সেখানে তীর চালনার অনুশীলন করছে।

৩৪. তৃতীয় রাজপুত্র যুবকের দক্ষতা দেখে অবাক হলো।

৩৫. যুবক কুকুরটির মুখে তীর মেরেছিল।

৩৬. যুবক কুকুরকে কোনো ক্ষতি করেনি।

৩৭. যুবক বলেন, চিৎকার বন্ধ করার জন্য তীর মেরেছি।

৩৮. যুবক দ্রোণের শিষ্য।

৩৯. তৃতীয় রাজপুত্র দ্রোণের কাছে গেলে যুবকের খোঁজে।

৪০. দ্রোণ অবাক হয়ে কুকুর দেখলেন।

৪১. যুবক দ্রোণের দিকে এসে বলল, সে একলব্য।

৪২. দ্রোণ একলব্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি।

৪৩. একলব্য মনে মনে দ্রোণকে গুরু মেনে অনুশীলন করেছে।

৪৪. একলব্য নিবিড় অনুশীলন করেছে।

৪৫. একলব্য সেরা তীরন্দাজ হয়ে উঠেছে।

৪৬. তৃতীয় রাজপুত্র তার দক্ষতার ধুলোয় মিশে গেছে।

৪৭. একলব্যের তীর নিক্ষেপ কৌশল অবাক করা।

৪৮. একলব্য অধ্যবসায় এবং ধৈর্য তাকে সেরা করেছে।

৪৯. পাঠে শিষ্যের সাধনার গুরুত্ব ও অধ্যবসায়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।


পাঠ ১২ - শিষ্যের সাধনা

প্রশ্ন উত্তর


১. এককথায় বা সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: ছেলেটির নাম কী ছিল?

    • উত্তর: ছেলেটির নাম ছিল একলব্য।

  • প্রশ্ন: একলব্য সারাদিন কী নিয়ে মেতে থাকত?

    • উত্তর: একলব্য সারাদিন তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকত।

  • প্রশ্ন: একলব্যের হাতের নিশানা কেমন ছিল?

    • উত্তর: একলব্যের হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ।

  • প্রশ্ন: একলব্য মনে মনে কী হতে চেয়েছিল?

    • উত্তর: একলব্য মস্ত বীর হতে চেয়েছিল।

  • প্রশ্ন: একলব্য কার কাছে ছুটে গিয়েছিল?

    • উত্তর: একলব্য গুরু দ্রোণের কাছে ছুটে গিয়েছিল।

  • প্রশ্ন: গুরু দ্রোণ কাদের তির চালনা শেখাতেন?

    • উত্তর: গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখাতেন।

  • প্রশ্ন: একলব্য সাহসে বুক বেঁধে কোথায় ঢুকে পড়ল?

    • উত্তর: একলব্য সাহসে বুক বেঁধে রাজবাড়ির মাঠে ঢুকে পড়ল।

  • প্রশ্ন: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা কী করছিল?

    • উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা ধনুক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছিল।

  • প্রশ্ন: রাজপুত্ররা যখন অনুশীলন করছিল, তখন গুরু দ্রোণ কোথায় ছিলেন?

    • উত্তর: গুরু দ্রোণ একপাশে (একদিকে) বসে ছিলেন।


২. একটু বড় বা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: একলব্য গুরু দ্রোণের কাছে কেন যেতে চেয়েছিল?

    • উত্তর: একলব্য মনে মনে একজন মস্ত বড় বীর হতে চেয়েছিল। সে শুনেছিল যে গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। একলব্যের বিশ্বাস ছিল গুরু দ্রোণের কাছে শিক্ষা লাভ করতে পারলে তার মনের এই ইচ্ছা পূরণ হবে। তাই সে দ্রোণের কাছে যেতে চেয়েছিল।

  • প্রশ্ন: রাজবাড়ির মাঠে ঢুকে একলব্য কী করল এবং কেন সে গুরুর কাছে গেল না?

    • উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে ঢুকে একলব্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাজপুত্রদের তির ছোড়ার অনুশীলন দেখতে লাগল। গুরু দ্রোণকে একপাশে বসে থাকতে দেখেও কেবল সাহসের অভাবে সে সরাসরি গুরুর কাছে এগিয়ে যেতে পারল না।


৩. ব্যাকরণ ও শব্দার্থ ভিত্তিক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখো: 'অব্যর্থ', 'সাধনা', 'নিশানা', 'অনুশীলন'।

    • উত্তর:

      • অব্যর্থ = যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না বা যা বিফল হয় না।

      • সাধনা = গভীর চেষ্টা বা আরাধনা।

      • নিশানা = লক্ষ্য।

      • অনুশীলন = বারবার চর্চা করা বা প্র্যাকটিস করা।

  • প্রশ্ন: 'বীর' এবং 'ইচ্ছা' শব্দ দুটির বিপরীত শব্দ কী?

    • উত্তর: 'বীর'-এর বিপরীত শব্দ ভীরু এবং 'ইচ্ছা'-এর বিপরীত শব্দ অনিচ্ছা

  • প্রশ্ন: "সাহসে বুক বেঁধে"—এই কথাটির অর্থ কী?

    • উত্তর: এই কথাটির অর্থ হলো মনের ভেতর অনেক সাহস বা হিম্মত সঞ্চয় করে কোনো কাজে এগিয়ে যাওয়া।


১. এককথায় বা সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: একলব্যকে দেখে কে চেঁচিয়ে উঠেছিল?

    • উত্তর: একলব্যকে দেখে হঠাৎ এক রাজপুত্র চেঁচিয়ে উঠেছিল।

  • প্রশ্ন: দ্রোণের প্রশ্নের উত্তরে একলব্য নিজের কী পরিচয় দিয়েছিল?

    • উত্তর: একলব্য বলেছিল সে এক শিকারির ছেলে এবং তার নাম একলব্য।

  • প্রশ্ন: দ্রোণ একলব্যকে কী বলে ফিরিয়ে দিলেন?

    • উত্তর: দ্রোণ বললেন যে তিনি শুধু রাজকুমারদেরই শেখান, তাই একলব্যকে ফিরে যেতে বললেন।

  • প্রশ্ন: দ্রোণ ফিরিয়ে দেওয়ার পর একলব্য কী ভাবল?

    • উত্তর: একলব্য ভাবল সে এখন থেকে নিজেই তির চালনার অনুশীলন করবে।

  • প্রশ্ন: রাজপুত্রদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারত?

    • উত্তর: রাজপুত্রদের মধ্যে তৃতীয় জন (অর্জুন) সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারত।

  • প্রশ্ন: বনের মধ্যে হঠাৎ করে কোন প্রাণীটি চোখের আড়াল হয়ে গেল?

    • উত্তর: বনের মধ্যে হঠাৎ করে হরিণটি চোখের আড়াল হয়ে গেল।

  • প্রশ্ন: শিকারি কুকুরের মুখের চারপাশে কয়টি তির বিঁধে ছিল?

    • উত্তর: শিকারি কুকুরের মুখের চারপাশে পাঁচটি তির বিঁধে ছিল।

  • প্রশ্ন: কুকুরের মুখে তির বিঁধে থাকা সত্ত্বেও কোন দুটি অদ্ভুত ব্যাপার দেখা গিয়েছিল?

    • উত্তর: কুকুরের মুখে এক ফোঁটা রক্তের দাগ ছিল না এবং যন্ত্রণার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছিল না।

  • প্রশ্ন: তৃতীয় রাজপুত্র বনে খুঁজতে খুঁজতে কী দেখতে পেল?

    • উত্তর: সে বনের এক জায়গায় উঠানের মতো একফালি জায়গা এবং তার চারপাশে লতাপাতার বেড়া দেখতে পেল।


২. একটু বড় বা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: গুরু দ্রোণ একলব্যকে শেখাতে রাজি না হওয়ায় একলব্যের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল এবং সে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

    • উত্তর: গুরু দ্রোণ যখন একলব্যকে বললেন যে তিনি কেবল রাজকুমারদেরই তির চালনা শেখান, তখন একলব্যের মুখ কালো হয়ে গেল। সে মলিন মুখে সেখান থেকে চলে এলো। তবে সে দমে যায়নি; সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে এখন থেকে সে নিজেই নিজের চেষ্টায় তির চালনা অনুশীলন করবে।

  • প্রশ্ন: শিকারি কুকুরটির সাথে বনে কী ঘটেছিল এবং তা দেখে তৃতীয় রাজপুত্র কেন অবাক হয়ে গেল?

    • উত্তর: হরিণের পিছু পিছু তাড়া করতে গিয়ে শিকারি কুকুরটির মুখের চারপাশে চমৎকার কৌশলে পাঁচটি তির এমনভাবে বিঁধে দেওয়া হয়েছিল যে সে আর ডাকতে পারছিল না। অবাক করার মতো বিষয় হলো, কুকুরটির মুখে কোনো রক্তের দাগ বা যন্ত্রণার লক্ষণ ছিল না। তিরের এই অভাবনীয় নিখুঁত নিশানা দেখেই তৃতীয় রাজপুত্র অবাক হয়ে গিয়েছিল।

  • প্রশ্ন: বনের ভেতরে একফালি জায়গায় তৃতীয় রাজপুত্র কী দেখতে পেল?

    • উত্তর: বনের ভেতরের সেই লতাপাতায় ঘেরা জায়গায় তৃতীয় রাজপুত্র দেখতে পেল এক যুবক একমনে তির চালনার অনুশীলন করছে। চারপাশের কোনো কিছুতেই তার খেয়াল নেই। যুবকের তির মারার চমৎকার কৌশল দেখে রাজপুত্র অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।


৩. ব্যাকরণ ও শব্দার্থ ভিত্তিক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখো: 'ভ্রূ কুঁচকে', 'পারদর্শী', 'একফালি', 'কৌশল'।

    • উত্তর:

      • ভ্রূ কুঁচকে = কপাল কুঁচকে বা অসন্তোষ প্রকাশ করে।

      • পারদর্শী = কোনো কাজে খুব দক্ষ বা ওস্তাদ।

      • একফালি = সামান্য বা ছোট টুকরো অংশ।

      • কৌশল = নিপুণতা বা চাতুর্য।

  • প্রশ্ন: 'বিরক্ত' এবং 'স্মরণ' শব্দ দুটির বিপরীত শব্দ কী?

    • উত্তর: 'বিরক্ত'-এর বিপরীত শব্দ অনুরক্ত বা সন্তুষ্ট এবং 'স্মরণ'-এর বিপরীত শব্দ বিস্মরণ বা ভুলে যাওয়া


১. এককথায় বা সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: এতদিন নিজেকে তির চালনায় সেরা মনে করত কে?

    • উত্তর: এতদিন তৃতীয় রাজপুত্র তির চালনায় নিজেকে সেরা মনে করত।

  • প্রশ্ন: কুকুরের মুখে তির মারার কথা যুবকটি কীভাবে স্বীকার করল?

    • উত্তর: যুবকটি নির্বিকার মুখে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি।’

  • প্রশ্ন: যুবকটি কেন কুকুরের মুখে তির মেরেছিল?

    • উত্তর: কুকুরটি চিৎকার করে যুবকটির সাধনার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল, তাই তার চিৎকার বন্ধ করতে সে তির মেরেছিল।

  • প্রশ্ন: কার কাছে এভাবে তির ছোড়া শিখেছে বলে যুবকটি জানাল?

    • উত্তর: যুবকটি জানাল সে 'গুরু দ্রোণের কাছে' এভাবে তির ছোড়া শিখেছে।

  • প্রশ্ন: একলব্যের উত্তর শুনে তৃতীয় রাজপুত্র চমকে উঠল কেন?

    • উত্তর: কারণ তাদের নিজেদের গুরুও ছিলেন দ্রোণ, অথচ দ্রোণ তাদের এমন আশ্চর্য বিদ্যা শেখাননি।

  • প্রশ্ন: রাজপুত্র যখন ফিরে এল, তখন দ্রোণ ও অন্য রাজপুত্ররা কী করছিলেন?

    • উত্তর: তাঁরা তখন গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

  • প্রশ্ন: দ্রোণ কুকুরটির দিকে কীভাবে তাকিয়ে রইলেন?

    • উত্তর: দ্রোণ কুকুরটির দিকে হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

  • প্রশ্ন: দ্রোণকে দেখে যুবকটি কী করল?

    • উত্তর: দ্রোণকে দেখে যুবকটি তির-ধনুক ফেলে ছুটে এল এবং পায়ের ধুলা নিয়ে প্রণাম করল।

  • প্রশ্ন: একলব্যকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছিল কোনটি?

    • উত্তর: একলব্যের নিবিড় অনুশীলন তাকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছিল।


২. একটু বড় বা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: "এখন নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেল"—এখানে কার অহংকার কেন ধুলায় মিশে গেল?

    • উত্তর: এখানে তৃতীয় রাজপুত্রের অহংকার ধুলায় মিশে গেল। সে এতদিন নিজেকে পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ ভাবত। কিন্তু বনের মধ্যে এক অজ্ঞাত যুবকের (একলব্যের) এমন নিখুঁত ও আশ্চর্য তির চালনার কৌশল দেখার পর তার সেই ভুল ভেঙে যায় এবং নিজের অহংকার ধুলায় মিশে যায়।

  • প্রশ্ন: রাজপুত্রের প্রশ্নের জবাবে যুবকটি কুকুরের ক্ষতি না করার পক্ষে কী যুক্তি দিল?

    • উত্তর: যুবকটি শান্তভাবে বলল যে কুকুরটি চিৎকার করে তার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। সে কুকুরের কোনো ক্ষতি বা তাকে কোনো কষ্ট দেয়নি; চমৎকার কৌশলে কেবল তার চিৎকার করার মুখটি তির দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে মাত্র।

  • প্রশ্ন: একলব্য কীভাবে গুরু দ্রোণকে নিজের গুরু বলে মেনে নিয়েছিল?

    • উত্তর: গুরু দ্রোণ একলব্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু একলব্য দমে না গিয়ে মনে মনে দ্রোণকেই নিজের গুরু বলে মেনে নিয়েছিল এবং তাঁর নাম স্মরণ করেই এতদিন একা একা নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিল।


৩. ব্যাকরণ ও শব্দার্থ ভিত্তিক প্রশ্ন

  • প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখো: 'নির্বিকার', 'ব্যাঘাত', 'হতভম্ভ', 'নিবিড়'।

    • উত্তর:

      • নির্বিকার = কোনো আবেগ বা বিকার নেই এমন / শান্ত বা উদাসীন।

      • ব্যাঘাত = বাধা বা বিঘ্ন।

      • হতভম্ভ = স্তম্ভিত বা অবাক হয়ে যাওয়া।

      • নিবিড় = গভীর বা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে।

  • প্রশ্ন: 'অহংকার' এবং 'শিষ্য' শব্দ দুটির বিপরীত শব্দ কী?

    • উত্তর: 'অহংকার'-এর বিপরীত শব্দ নিরহংকার বা নম্রতা এবং 'শিষ্য'-এর বিপরীত শব্দ গুরু




অনুশীলনীর প্রশ্ন-উত্তর সমাধান

১. সংশোধনীর প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিয়ে খালি জায়গায় শব্দ বসাই।

ক. একলব্য .......... বীর হতে চায়। (কেমন বীর?)

খ. দ্রোণ একদিন তাদের .......... নিতে বনে এলেন। (কী নিতে)

গ. .......... তার হাতের নিশানা। (কেমন নিশানা?

ঘ. একলব্য ঢুকে পড়ল .......... (কোথায় ঢুকে পড়ল?)

ঙ. সে .......... মুখে সেখান থেকে চলে এলো। (কেমন মুখে?)

চ. তিনি ছেলেটির দিকে .......... তাকিয়ে রইলেন। (কীভাবে তাকিয়ে রইলেন?)

উত্তর:

ক. একলব্য মহা বীর হতে চায়।

খ. দ্রোণ একদিন তাদের পরীক্ষা নিতে বনে এলেন।

গ. অব্যর্থ তার হাতের নিশানা।

ঘ. একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে

ঙ. সে মলিন মুখে সেখান থেকে চলে এলো।

চ. তিনি ছেলেটির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

২. বিপরীত শব্দ লিখি এবং সেই শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করি।

শব্দ

বিপরীত শব্দ

বাক্য

কাছে



মস্ত



পারদর্শী



ভিতরে



আগের



উত্তর:

শব্দ

বিপরীত শব্দ

বাক্য

কাছে

দূরে

সে আমার কাছে আসার পরিবর্তে দূরে দাঁড়াল।

মস্ত

ছোট

আমাদের স্কুলের সামনে একটি ছোট পুকুর আছে।

পারদর্শী

অদক্ষ

সে গণিতে খুব পারদর্শী, আমি তুলনামূলক অদক্ষ

ভিতরে

বাইরে

আমরা ঘরের ভিতরে খেলছি, তারা বাইরে

আগের

পরে

আগের দিন বৃষ্টি হয়েছিল, পরে সূর্য উঠল।


৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. একলব্য কী হতে চায়?

উত্তর: একলব্য এক মস্ত বীর হতে চায়।

খ. রাজবাড়ির মাঠে কে একলব্যকে কাছে ডাকলেন?

উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে দ্রোণ একলব্যকে কাছে ডাকলেন।

গ. একলব্যের মুখ কেন মলিন হয়ে গেল?

উত্তর: একলব্যের মুখ বিরক্তি ও হতাশায় মলিন হয়ে গেল।

ঘ. তৃতীয় রাজপুত্রের অহংকার কেন ধুলায় মিশে গেল?

উত্তর: তৃতীয় রাজপুত্রের অহংকার একলব্যের অসাধারণ তীর চালনা দেখে ধুলায় মিশে গেল।

ঙ. কুকুরের মুখে কীভাবে তীর মারা হয়েছিল?

উত্তর: কুকুরের মুখে তীরগুলো এত নিখুঁতভাবে মারা হয়েছিল যে কুকুর কোনো ব্যথা অনুভব করেনি।

চ. 'মনে মনে আপনাকে গুরু মেনে আমি এতদিন অনুশীলন করেছি।' — কথাটি কে, কাকে, কখন বলেছে?

উত্তর: একলব্য বলেন, গুরু দ্রোণের কাছে, রাজবাড়ির মাঠে অনুশীলন করার সময়—'মনে মনে আপনাকে গুরু মেনে আমি এতদিন অনুশীলন করেছি।'

৪. গল্পটির নাম 'শিষ্যের সাধনা' কেন, তা বলি ও লিখি।

উত্তর: গল্পের নাম 'শিষ্যের সাধনা' রাখা হয়েছে কারণ একলব্য নিজেকে গুরু দ্রোণকে মেনে তার তীর-ধনুক অনুশীলন করে, মনোযোগ ও ধৈর্যের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করে। তার কঠোর সাধনা গল্পের মূল ভাবনা।

৫. যেকোনো পাঁচটি শব্দের দল ঘটিয়ে নিচের অংশটুকু আবার লিখি।

খুঁজতে খুঁজতে বনের এক জায়গায় দেখতে পেল, উঠোনের মতো একটি জায়গা। তার চারপাশে লতাপাতার বেড়া। সেখানে তীর চালনার অনুশীলন করছে এক যুবক। কোনো দিকে তার খেয়াল নেই। তৃতীয় রাজপুত্র অবাক হয়ে তার অনুশীলন দেখতে লাগল। কী দারুণ কৌশলে সে তীর মারতে পারে!

উত্তর: অন্বেষণ করতে করতে জঙ্গলের এক প্রান্তে দেখতে পেল, খেলার মাঠের মতো খোলা জায়গা। তার চারপাশে গাছের বেড়া। সেখানে তীর-ধনুকের চর্চা করছে এক তরুণ। কোনো দিকে তার নজর নেই। তৃতীয় রাজপুত্র স্তব্ধ হয়ে তার অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। কী অসাধারণ দক্ষতায় সে তীর ছুঁড়তে পারে!

৬. ক্রমবাচক শব্দ লিখি।

১ ম

প্রথম

২ য়

দ্বিতীয়

৩ য়

তৃতীয়

৪ র্থ

চতুর্থ

৫ ম

পঞ্চম

৬ ষ্ঠ

ষষ্ঠ

৭ ম

সপ্তম

৮ ম

অষ্টম

৯ ম

নবম

১০ ম

দশম



ধরাবাহিক, সাময়িক ও বৃত্তি পরীক্ষা

প্রস্তুতি সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নোত্তর ধারা: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. একলব্য কে ছিল এবং তার হাতের দক্ষতা কেমন ছিল?

উত্তর: একলব্য ছিল এক শিকারির ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে তীর-ধনুক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত। সে প্রতিদিন লক্ষ্যভেদ অনুশীলন করত এবং খুব তাড়াতাড়ি তীর ছোড়ায় দক্ষ হয়ে ওঠে। তার হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ। একবার ছোঁড়া তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না। নিজের এই দক্ষতাকে নিয়েই সে একজন মহান তীরন্দাজ হতে চেয়েছিল। নিজের যোগ্যতায় সে গ্রামের অন্য ছেলেদের মধ্যে আলাদা হয়ে উঠেছিল।

২. একলব্য কেন দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়েছিল?

উত্তর: একলব্য শুনেছিল যে গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তীর চালনা শেখান। সে জানত, যদি দ্রোণের কাছে শিক্ষা নিতে পারে তবে একদিন সে শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ হতে পারবে। তাই সাহস করে সে রাজবাড়ির প্রশিক্ষণ মাঠে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে দ্রোণ ও রাজপুত্ররা অনুশীলন করছিল। একলব্য তাদের দেখে মুগ্ধ হয় এবং মনস্থ করে যে দ্রোণের কাছেই সে শিখবে।

৩. দ্রোণ একলব্যকে কেন ফিরিয়ে দিলেন?

উত্তর: যখন একলব্য ভয়ে ভয়ে দ্রোণের কাছে এসে শেখার অনুরোধ জানায়, দ্রোণ তখন বলেন, "আমি শুধু রাজকুমারদের শেখাই।" একলব্য ছিল শিকারির ছেলে, রাজপুত্র নয়। তাই সমাজের ভেদাভেদমূলক চিন্তা থেকে দ্রোণ তাকে শিষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে চাননি। এতে একলব্য খুব কষ্ট পেলেও সে নিরাশ হয়নি।

৪. একলব্য কীভাবে তীর চালনা শিখল?

উত্তর: দ্রোণ তাকে শিক্ষা না দিলেও একলব্য মন থেকে দ্রোণকে গুরু মেনে নিজের সাধনা শুরু করে। সে বনের মধ্যে একটি নিরিবিলি জায়গা খুঁজে দ্রোণের মাটির মূর্তি তৈরি করে। প্রতিদিন সেই মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সে অনুশীলন করত। ধীরে ধীরে সে নিখুঁত তীরন্দাজ হয়ে ওঠে। তার কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ই তাকে শ্রেষ্ঠ বানায়।

৫. কত বছর পর দ্রোণ ও রাজপুত্ররা আবার বনে এলেন?

উত্তর: অনেক বছর কেটে যায়। রাজপুত্ররা বড় হয়ে ওঠে এবং তীর-ধনুক চালনায় বেশ পারদর্শী হয়। তখন গুরু দ্রোণ তাদের পরীক্ষা নিতে বনে নিয়ে যান। বনের পরিবেশেই এক আশ্চর্য ঘটনার মাধ্যমে একলব্যের সাধনার ফল প্রকাশ পায়। এই পরীক্ষার ঘটনাই পরে একলব্যকে সবার সামনে তুলে আনে।

৬. তৃতীয় রাজপুত্রের কুকুরটির মুখে কী ঘটেছিল?

উত্তর: তৃতীয় রাজপুত্রের শিকারি কুকুর হঠাৎ হরিণের পিছু ছুটে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে। তখন কেউ পাঁচটি তীর এমনভাবে কুকুরটির মুখের চারপাশে মারে যে তার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কুকুরটির মুখে এক ফোঁটা রক্ত নেই, ব্যাথারও কোনো চিহ্ন নেই। এতে রাজপুত্র বিস্মিত হয়।

৭. রাজপুত্র কাকে দেবী মনে করল?

উত্তর: রাজপুত্র প্রথমে অবাক হয়ে যায় যে কেমন আশ্চর্য নিখুঁতভাবে তীর ছুটেছে? পরে সে সেই শিকারিকে খুঁজতে শুরু করে। বনের ভেতরে সে এক যুবককে দেখে, যে মনোযোগ দিয়ে তীর চালনার অনুশীলন করছিল। রাজপুত্র বুঝতে পারে, এই যুবকই তার কুকুরের মুখে তীর মেরেছে।

৮. একলব্য রাজপুত্রকে কী বলেছিল?

উত্তর: রাজপুত্র জিজ্ঞেস করলে একলব্য শান্তভাবে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, আমি তোমার কুকুরের মুখে তীর মেরেছি, কিন্তু কোনো ক্ষতি করিনি। সে আমার সাধনায় বাধা দিচ্ছিল, তাই শুধু তার ডাক বন্ধ করেছি।” তার উত্তর শুনে রাজপুত্র অবাক হয়ে যায়, কারণ সে এত নিখুঁত ও দয়ালু তিরন্দাজের দেখা আগে পায়নি।

৯. রাজপুত্র একলব্যকে কোন প্রশ্নটি করেছিল?

উত্তর: রাজপুত্র জানতে চায় “তুমি কার কাছে এমন তীর ছোঁড়া শিখেছ?”

একলব্য উত্তর দেয়, “গুরু দ্রোণের কাছে।” দ্রোণের নাম শুনে রাজপুত্র বিস্মিত হয়, কারণ দ্রোণ তো তাকে এমন বিদ্যা শেখাননি! এতে তার মনে দ্বিধা ও কৌতূহল দুটোই জন্মায়।

১০. রাজপুত্র দ্রোণের কাছে ফিরে গিয়ে কী বলেছিল?

উত্তর: রাজপুত্র দ্রোণের কাছে ফিরে এসে কুকুরটিকে দেখিয়ে রেগে বলল, “আপনি আর কাউকে এমন বিদ্যা শিখিয়েছেন? আপনি তো বলতেন, আমি পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ!” দ্রোণ হতভম্ব হয়ে যান। তিনি স্বীকার করেন, “রাজপুত্র, এমন নিখুঁত বিদ্যা আমি নিজেও জানি না।”

১১. দ্রোণ একলব্যের সখ্যতা দেখা হলে কী ঘটেছিল?

উত্তর: রাজপুত্র দ্রোণকে নিয়ে একলব্যের কাছে এলে একলব্য দ্রোণের পা ধরে প্রণাম করে। সে বলে, “আমি আপনার শিষ্য একলব্য।” দ্রোণ প্রথমে মনে করতে পারেন না, পরে পুরনো ঘটনার কথা মনে পড়ে। একলব্য জানায়, সে দ্রোণকে মনে মনে গুরু মেনে এতদিন অনুশীলন করেছে।

১২. দ্রোণ একলব্যের সম্পর্কে কী ভাবল?

উত্তর: দ্রোণ একলব্যের কথা শুনে অবাক হয়ে যান। তিনি বুঝলেন, প্রকৃত শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা মানুষকে অদম্য শক্তি দিতে পারে। যদিও তিনি একলব্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, তবু একলব্যের আন্তরিক সাধনা তাকে প্রকৃত শিষ্য বানিয়েছে।

১৩. একলব্য কেন দ্রোণের পা ধরে প্রণাম করেছিল?

উত্তর: একলব্য মনে করত, দ্রোণই তার সত্যিকারের গুরু। যদিও দ্রোণ তাকে শিক্ষা দেননি, তবুও তার কাছে শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছিল অপরিসীম। তাই গুরু দ্রোণকে সামনে পেয়ে সে পায়ে পড়ে প্রণাম করে।

১৪. একলব্যের তিরন্দাজি দেখে রাজপুত্রের কী মনে হলো?

উত্তর: রাজপুত্র আগে ভাবত, সে-ই সেরা তিরন্দাজ। কিন্তু একলব্যের কৌশল দেখে তার অহংকার ভেঙে যায়। সে বুঝতে পারে, জন্ম বা পদ নয় অধ্যবসায়ই মানুষকে বড় করে।

১৫. গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

উত্তর: ‘শিষ্যের সাধনা’ গল্পটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও শ্রদ্ধা থাকলে কেউই পিছিয়ে থাকে না। একলব্য গুরুর প্রত্যাখ্যানের হার মানেনি, বরং নিজের চেষ্টায় সেরা হয়েছে। তাই এই গল্প মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী হতে অনুপ্রাণিত করে।


প্রশ্নের ধারা: বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর

১. একলব্য কে ছিল এবং তার জীবনের লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: একলব্য ছিল এক দরিদ্র শিকারির ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে তীর-ধনুক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত। তীর নিক্ষেপে তার হাত ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও অব্যর্থ। সে রাজপুত্রদের মতো একজন শ্রেষ্ঠ বীর হতে চেয়েছিল। একলব্য জানত, এই বিদ্যা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হলে তাকে একজন যোগ্য গруются অধীনে শিক্ষা নিতে হবে। তাই সে গিয়েছিল বিখ্যাত তিরন্দাজ গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে। কিন্তু সামাজিক ভেদাভেদ ও জাতিগত কারণে দ্রোণ তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তবুও একলব্য মনোবল হারায়নি। সে মনে মনে দ্রোণকে গুরু হিসেবে মেনে নিয়ে নিজেই অনুশীলন শুরু করে। নিজের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একলব্য একদিন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিরন্দাজে পরিণত হয়।

২. একলব্য কেন দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়েছিল এবং কী ঘটেছিল?

উত্তর: একলব্য শুনেছিল, দ্রোণাচার্য রাজপুত্রদের তীর চালনা শেখান। তার বিশ্বাস ছিল, যদি দ্রোণের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে তবে সে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে এবং প্রকৃত বীর হতে পারবে। তাই একদিন সে সাহস করে রাজবাড়ির প্রশিক্ষণ মাঠে যায়, যেখানে রাজপুত্ররা অনুশীলন করছিল। কিন্তু দ্রোণ তার সামাজিক অবস্থান দেখে তাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, “আমি কেবল রাজপুত্রদের শেখাই, তুমি ফিরে যাও।” এতে একলব্য গভীরভাবে ব্যথিত হলেও মনোবল হারায়নি। সে প্রতিজ্ঞা করে নিজেই শিখবে এবং সত্যিকারের তিরন্দাজ হবে। দ্রোণ তাকে গ্রহণ না করলেও সে মনের মধ্যে তাকেই গুরু হিসেবে ধরে রাখে।

৩. একলব্য কীভাবে তির চালনা শিখেছিল?

উত্তর: একলব্য গুরু দ্রোণ তেকে শিক্ষা না দিলেও নিজের সাধনা ক্ষান্ত করেনি। সে বনের মধ্যে একটি ।নির্জন স্থানে গিয়ে মাটির তৈরি দ্রোণের মূর্তি বানায়। সেই মূর্তিকে সে মনে-প্রাণে গুরু হিসেবে কামনা করে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তির চালনার অনুশীলন করত। বৃষ্টি-ঝড় বা কষ্ট কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। দিনে দিনে তার লক্ষ্যভেদ এত নিখুঁত হয়ে ওঠে যে সে অসাধারণ তিরন্দাজে পরিণত হয়। একলব্যের এই অনুশীলন প্রমাণ করে, প্রকৃত শিক্ষা শুধু গুরুর কাছ থেকে নয় নিজের অধ্যবসায় থেকেও অর্জিত হতে পারে। তার নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।


৪. রাজপুত্রের কুকুরের মুখে কী ঘটেছিল এবং রাজপুত্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল?

উত্তর: একদিন দ্রোণ রাজপুত্রদের নিয়ে বনে পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। তৃতীয় রাজপুত্রের শিকারি কুকুর হঠাৎ হরিণের পিছু ছুটে চিৎকার করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, কুকুরটির মুখের চারপাশে পাঁচটি তির এমনভাবে বিঁধে আছে যে তার মুখ বন্ধ হয়ে গেছে; কিন্তু এক ফোঁটা রক্তও বের হয়নি। এটি দেখে রাজপুত্র বিস্মিত ও হতভম্ব হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে, এমন নিখুঁতভাবে তির মারতে পারে শুধু অসাধারণ তিরন্দাজ। রাজপুত্র তখন কুকুরটির মুখে তির মারা ব্যক্তিকে খুঁজতে শুরু করে। তার মনে কৌতূহল ও ঈর্ষা দুটোই কাজ করে।

৫. রাজপুত্র কীভাবে একলব্যের সঙ্গে দেখা করল এবং তাদের মধ্যে কী কথা হলো?

উত্তর: রাজপুত্র কুকুরটির মুখে তির দেওয়ার পর সেই নিখুঁত তিরন্দাজকে খুঁজতে বনে অনুসন্ধান করে। এক জায়গায় সে দেখে, এক যুবক তির চালনার অনুশীলনে মগ্ন। রাজপুত্র কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, "তুমি কি আমার কুকুরের মুখে তির মেরেছ?" যুবক শান্তভাবে উত্তর দেয়, "হ্যাঁ, আমি মেরেছি, কিন্তু কোনো ক্ষতি করিনি। সে আমার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল।" রাজপুত্র তখন জানতে চায়, সে কার কাছে এই বিদ্যা শিখেছে। যুবক জানায়, "গুরু দ্রোণের কাছ থেকে।" দ্রোণের নাম শুনে রাজপুত্র আশ্চর্য হয়ে যায় এবং দ্রুত গিয়ে গুরুকে এই খবর জানায়।

৬. দ্রোণ রাজপুত্রের কাছ থেকে কী শুনলেন এবং কী প্রতিক্রিয়া দেখালেন?

উত্তর: রাজপুত্র দ্রোণের কাছে ফিরে এসে রাগে গুরুকে বলে, "আপনি আর কাউকে এমন বিদ্যা শিখিয়েছেন? আপনি তো বলতেন, আমি সেরা তিরন্দাজ!" দ্রোণ তখন কুকুরটির মুখ দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তিনি রাজপুত্রকে বলেন, "রাজপুত্র, এমন নিখুঁত বিদ্যা আমি নিজেই জানি না; অন্যকে শেখাব কীভাবে?" এরপর দ্রোণ রাজপুত্রের অনুরোধে সেই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে বনে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন, যুবকটি বিনয়ভরে তাঁর পায়ে পড়ে প্রণাম করছে এবং নিজেকে একলব্য বলে পরিচয় দিচ্ছে। দ্রোণ তখন অতীতের ঘটনার কথা স্মরণ করেন এবং একলব্যের প্রতি মুগ্ধ হন।

৭. একলব্য কীভাবে দ্রোণের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করেছিল?

উত্তর: একলব্য যখন দ্রোণের মুখোমুখি হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পায়ে পড়ে প্রণাম করে। সে জানায়, "আমি আপনার শিষ্য একলব্য।" দ্রোণ প্রথমে অবাক হয়ে যান, কারণ তিনি কখনও তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তখন একলব্য শ্রদ্ধারভরে বলে, "আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি আপনাকে মনের মধ্যে গুরু রূপে স্থাপন করে সাধনা করেছি।" এই উত্তরে দ্রোণ গভীরভাবে প্রভাবিত হন।

৮. একলব্যের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফল কী ছিল?

উত্তর: একলব্যের অবিরাম অনুশীলন, গুরুভক্তি এবং অধ্যবসায় তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিরন্দাজে পরিণত করে। সে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না নিয়েও এত দক্ষতা অর্জন করে, যা রাজপুত্রদেরও অবাক করে দেয়। তার প্রতিটি তির ছিল নিখুঁত ও ব্যথাহীন। একলব্য প্রমাণ করে, কঠোর সাধনা ও একাগ্রতাই মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।

৯. একলব্যের গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

উত্তর: 'শিষ্যের সাধনা' গল্পটি আমাদের শেখায়, জীবনে সফল হতে হলে জন্ম বা পরিবেশ নয় দরকার পরিশ্রম, একাগ্রতা ও আত্মবিশ্বাস। একলব্যকে গুরু দ্রোণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবুও সে halt ছাড়েনি। নিজের প্রচেষ্টায় ও ভক্তিতে সে গুরুর মতোই শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠে। এই গল্প প্রমাণ করে, আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে কোনো বাধাই মানুষকে থামাতে পারে না।

১০. কেন গল্পটির নাম 'শিষ্যের সাধনা'?

উত্তর: গল্পটির নাম 'শিষ্যের সাধনা' কারণ এটি একজন শিষ্যের অনন্য অধ্যবসায় ও অনুশীলনের কাহিনী। একলব্য কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পায়নি, কিন্তু সে মনের মধ্যে গুরুকে স্থাপন করে নিজে নিজে সাধনা করেছে। প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন, মনোযোগ ও শ্রদ্ধার মাধ্যমে সে তিরন্দাজিতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে। একলব্য দেখিয়েছে, প্রকৃত শিক্ষা বাহ্যিক গুরুর উপস্থিতিতে নয় বরং অন্তরের নিষ্ঠায় নিহিত। তাই গল্পটির নাম যথার্থই 'শিষ্যের সাধনা'।


প্রশ্নের ধারা: শব্দার্থ

মূলশব্দ

অর্থ

শিষ্য

ছাত্র, শিক্ষণগ্রহণকারী

গুরু

শিক্ষক, আচার্য

তির

ধনুকের অস্ত্র

ধনুক

তির ছোড়ার উপকরণ

নিশানা

লক্ষ্য, টার্গেট

অনুশীলন

বারবার চেষ্টা করা

রাজপুত্র

রাজাদের সন্তান

মগ্ন

আবিষ্ট, নিবিষ্ট

অহংকার

গর্ব, উদ্ধতভাব

বিদ্যা

জ্ঞান, শিক্ষা

আশ্চর্য

বিস্ময়কর, অদ্ভুত

ব্যাঘাত

বাধা, বিঘ্ন

নির্বিকার

শান্ত, স্থির

অনুগ্রহ

কৃপা, দয়া

সাধনা

অধ্যবসায়, চেষ্টা



প্রশ্নের ধারা: শূন্যস্থান পূরণ

১. একলব্যের __________ ছিল অব্যর্থ।

২. একলব্য __________ হতে চেয়েছিল।

৩. দ্রোণাচার্য রাজাদের __________ শিক্ষা দিতেন।

৪. একলব্য __________ রাজবাড়ির মাঠে প্রবেশ করল।

৫. দ্রোণ বললেন, আমি শুধু __________ শেখাই।

৬. একলব্য নিজেই তির চালনার __________ শুরু করল।

৭. রাজপুত্রদের মধ্যে __________ জন সেরা তিরন্দাজ ছিল।

৮. হরিণের পিছু ছুটে গেল __________।

৯. কুকুরটার মুখে বিঁধে ছিল __________ টি তির।

১০. একলব্য __________ কে গুরু মনে অনুশীলন করেছিল।

১১. কুকুরের মুখে একফোঁটা __________ ছিল না।

১২. একলব্য বলল, সে __________ কষ্ট দেয়নি।

১৩. রাজপুত্র __________ দেখে বিস্মিত হলো।

১৪. একলব্যের __________ দেখে দ্রোণ অবাক হলেন।

উত্তর: ১. নিশানা; ২. বীর; ৩. রাজপুত্রদের; ৪. সাহস করে; ৫. রাজকুমারদের; ৬. অনুশীলন; ৭. তৃতীয়; ৮. তৃতীয়; ৯. পাঁচ; ১০. দ্রোণাচার্যকে; ১১. রক্ত; ১২. কুকুরকে; ১৩. দক্ষতা; ১৪. নিষ্ঠা; ১৫. সাধনা।


প্রশ্নের ধারা: বাক্য গঠন

মূলশব্দ

বাক্য গঠন

শিষ্য

একলব্য ছিলেন এক পরিশ্রমী শিষ্য

গুরু

দ্রোণাচার্য ছিলেন তাঁর গুরু

প্রতিদিন

একলব্য প্রতিদিন তির ছুড়ে অনুশীলন করত

ধনুক

ধনুক ছিল তার প্রিয় অস্ত্র

নিশানা

তার নিশানা কখনও ভুল হতো না

নিয়মিত

সে নিয়মিত অনুশীলন করত

শিক্ষা

দ্রোণ রাজাদের সন্তান রাজপুত্রদের শিক্ষা দিতেন

মত্ত

একলব্য তির-ধনুকে মত্ত হয়ে উঠেছিল

অহংকার

রাজপুত্রদের অহংকার ভেঙে যায় একলব্যকে দেখে

নির্বিকার

একলব্য সবসময় ছিল নির্বিকার

ব্যাঘাত

কুকুরের ডাক তার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল

দক্ষতায়

সবাই আশ্চর্য হয়ে গেল তার দক্ষতায়

অর্জন

একলব্য নিজের বিদ্যা নিজেই অর্জন করেছিল

অনুগ্রহ

দ্রোণ তার প্রতি অনুগ্রহ দেখাননি

তিরন্দাজ

একলব্য সাধনা করে সেরা তিরন্দাজ হয়েছিল


প্রশ্নের ধারা: মিলকরণ

১. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ:

বাম পাশ

ডান পাশ

১. একলব্য

ক. রাজপুত্রদের তির চালনা শেখাতেন

২. গুরু দ্রোণ

খ. নিজের সাধনায় সেরা তিরন্দাজ হয়।

৩. তৃতীয় রাজপুত্র

গ. শিকারির ছেলে ছিল

৪. শিকারি কুকুর

ঘ. হরিণের পিছু ছুটেছিল

৫. নিবিড় অনুশীলন

ঙ. মুখে পাঁচটি তির বিদ্ধ হয়


চ. বনে রাজপুত্রদের পরীক্ষা নিতে যান


ছ. রাজবাড়ির মাঠে অনুশীলন করত

উত্তর:

১. একলব্য ➡️ গ. শিকারির ছেলে ছিল

২. গুরু দ্রোণ ➡️ ক. রাজপুত্রদের তির চালনা শেখাতেন

৩. তৃতীয় রাজপুত্র ➡️ ঘ. হরিণের পিছু ছুটেছিল

৪. শিকারি কুকুর ➡️ ঙ. মুখে পাঁচটি তির বিদ্ধ হয়

৫. নিবিড় অনুশীলন ➡️ খ. নিজের সাধনায় সেরা তিরন্দাজ হয়।


২. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল করে উত্তরপত্রে লেখ:

বাম পাশ

ডান পাশ

১. একলব্যের লক্ষ্য

ক. শিকারি কুকুরের মুখে তির বিদ্ধ করে

২. দ্রোণের সিদ্ধান্ত

খ. তির-ধনুক নিয়ে সারাদিন অনুশীলন

৩. তৃতীয় রাজপুত্র

গ. রাজকুমার ছাড়া কাউকে শেখাবেন না

৪. আশ্চর্য ঘটনা

ঘ. নিজেকে সেরা তিরন্দাজ মনে করত

৫. গুরু হিসেবে দ্রোণ

ঙ. একলব্য মনে মনে গ্রহণ করে


চ. রাজবাড়ির মাঠে প্রবেশ করে


ছ. বনে একফালি উঠোনের মতো জায়গা

উত্তর:

১. একলব্যের লক্ষ্য ➡️ খ. তির-ধনুক নিয়ে সারাদিন অনুশীলন

২. দ্রোণের সিদ্ধান্ত ➡️ গ. রাজকুমার ছাড়া কাউকে শেখাবেন না

৩. তৃতীয় রাজপুত্র ➡️ ঘ. নিজেকে সেরা তিরন্দাজ মনে করত

৪. আশ্চর্য ঘটনা ➡️ ক. শিকারি কুকুরের মুখে তির বিদ্ধ করে

৫. গুরু হিসেবে দ্রোণ ➡️ ড. একলব্য মনে মনে গ্রহণ করে

প্রশ্নের ধারা: বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. একলব্যের পিতা কে ছিলেন?

(ক) রাজা (খ) কৃষক

(গ) শিকারি (ঘ) সৈনিক

২. একলব্য কার কাছে শিক্ষা নিতে চেয়েছিল?

(ক) ভীম (খ) দ্রোণ

(গ) অশ্বত্থামা (ঘ) অর্জুন

৩. দ্রোণ কাদের তির চালনা শেখাতেন?

(ক) শিকারিদের (খ) রাজকুমারদের

(গ) কৃষকদের (ঘ) সৈন্যদের

৪. একলব্যকে দ্রোণ কী বলেছিলেন?

(ক) থেকে যাও (খ) ফিরে যাও

(গ) শিখাও (ঘ) অপেক্ষা কর

৫. একলব্য নিজের তির বিদ্যা কোথায় শিখেছিল?

(ক) রাজবাড়িতে (খ) বনে

(গ) বিদ্যালয়ে (ঘ) নদীর তীরে

৬. রাজপুত্রদের মধ্যে কে সেরা তিরন্দাজ ছিল?

(ক) প্রথম (খ) দ্বিতীয়

(গ) তৃতীয় (ঘ) চতুর্থ

৭. কুকুরের মুখে কয়টি তির ছিল?

(ক) তিনটি (খ) ছয়টি

(গ) পাঁচটি (ঘ) চারটি

৮. কুকুরের মুখে ছিল না —

(ক) তির (খ) রক্ত

(গ) চিহ্ন (ঘ) ক্ষত

৯. একলব্য কাকে গুরু মানত?

(ক) অর্জুন (খ) দ্রোণ

(গ) ভীম (ঘ) নিজেকে

১০. একলব্যের অনুশীলনের স্থান কোথায় ছিল?

(ক) শহরে (খ) রাজপ্রাসাদে

(গ) বনে (ঘ) নদীতে

১১. একলব্য রাজপুত্রকে কেন তির মেরেছিল?

(ক) প্রতিশোধে (খ) খেলার ছলে

(গ) ব্যাঘাতের জন্য (ঘ) অনুশীলনে

১২. দ্রোণ একলব্যকে কী বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন?

(ক) কারণ সে রাজা (খ) কারণ সে দরিদ্র

(গ) কারণ সে শিশু (ঘ) কারণ সে অহংকারী

১৩. একলব্য কাকে আশ্চর্য করে দিয়েছিল?

(ক) রাজাকে (খ) রাজপুত্রকে

(গ) অর্জুনকে (ঘ) দ্রোণকে

১৪. একলব্যের গুণ কী ছিল?

(ক) অহংকার (খ) নিষ্ঠা

(গ) অলসতা (ঘ) রাগ

১৫. একলব্য শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?

(ক) সৈনিক (খ) সেরা তিরন্দাজ

(গ) রাজা (ঘ) শিকারি

উত্তর: ১. (গ) শিকারি; ২. (খ) দ্রোণ; ৩. (খ) রাজকুমারদের; ৪. (খ) থেকে যাও; ৫. (গ) বিদ্যালয়ে; ৬. (ঘ) চতুর্থ; ৭. (খ) ছয়টি; ৮. (খ) চিহ্ন; ৯. (ক) অর্জুন; ১০. (ঘ) নদীতে; ১১. (খ) খেলার ছলে; ১২. (ক) কারণ সে রাজা; ১৩. (ঘ) অর্জুনকে; ১৪. (খ) রাগ; ১৫. (ক) সৈনিক।


প্রশ্নের ধারা: বিপরীত শব্দ লিখন

মূলশব্দ

বিপরীত শব্দ

গুরু

শিষ্য

বীর

ভীরু

সাহস

ভয়

অনুশীলন

অবহেলা

রাজপুত্র

প্রজা

নিশানা

ভুল

কুকুর

বিড়াল

অহংকার

বিনয়

নির্বিকার

উদ্বিগ্ন

ব্যাঘাত

সহায়তা

আশ্চর্য

সাধারণ

নিষ্ঠা

অবহেলা

সুখ

দুঃখ

সামনে

পেছনে

গুরু

ছাত্র


প্রশ্নের ধারা: সমার্থক শব্দ লিখন

মূলশব্দ

সমার্থক শব্দ

গুরু

শিক্ষক, আচার্য

শিষ্য

ছাত্র, অনুগামী

বীর

সাহসী, পরাক্রমশালী

অনুশীলন

চর্চা, অভ্যাস

তির

বাণ, অস্ত্র

ধনুক

কাঁটা, ধনু

সাধনা

অধ্যবসায়, চেষ্টা

আশ্চর্য

বিস্ময়কর, চমকপ্রদ

ব্যাঘাত

বাধা, বিঘ্ন

নির্বিকার

শান্ত, স্থির

মত্ত

উন্মত্ত, আসক্ত

রাজপুত্র

রাজার পুত্র, যুবরাজ

নিষ্ঠা

একাগ্রতা, সততা

বিদ্যা

জ্ঞান, শিক্ষা

কষ্ট

যন্ত্রণা, দুঃখ


প্রশ্নের ধারা : মূলভাব লিখন

মূলভাব: গল্প 'শিষ্যের সাধনায়' দেখানো হয়েছে প্রকৃত শিষ্যের নিবেদন ও কঠোর সাধনার ফলাফল। একলব্য ছিল এক শিকারির ছেলে, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল সেরা তিরন্দাজ হওয়া। সে দ্রোণাচার্যের কাছে শিক্ষা নিতে চেয়েছিল, কিন্তু রাজপুত্র না হওয়ায় দ্রোণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। একলব্য হতাশ না হয়ে নিজের মনোবল ও অধ্যবসায়ে তির চালনা শেখে। গুরু দ্রোণের মাটির মূর্তি সামনে রেখে সে প্রতিদিন অনুশীলন করত। পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সে এমন দক্ষ হয়ে ওঠে যে তার তিরের নির্ভুলতা সবাইকে বিস্মিত করে। শেষ পর্যন্ত গুরু দ্রোণও একলব্যের সাধনায় মুগ্ধ হন। গল্পটি শেখানোর যোগ্যতা ও পরিশ্রমের সামনে সামাজিক ভেদাভেদ অর্থহীন, এবং সত্যিকারের সাধনাই মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।


প্রশ্নের ধারা : বিরাম চিহ্ন বসিয়ে অনুচ্ছেদ পুনর্লিখন

১. একলব্য মস্ত বীর হতে চায় তাই একদিন সে ছুটল গুরু দ্রোণের কাছে একলব্য শুনেছে দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান তাঁর কাছে শিখতে পারলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে সাহসে বুক বেঁধে একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে সেখানে রাজপুত্ররা ধনুষ্ক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছে

উত্তর: একলব্য মস্ত বীর হতে চায়। তাই একদিন সে ছুটল গুরু দ্রোণের কাছে। একলব্য শুনেছে, দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাঁর কাছে শিখতে পারলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে। সাহসে বুক বেঁধে একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে। সেখানে রাজপুত্ররা ধনুষ্ক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছে।

২. হঠাৎ এক রাজপুত্র দেখতে পেল একলব্যকে চেঁচিয়ে বলে উঠল তুমি কে কোত্থেকে এসেছ একলব্য চুপ করে থাকল এবার দ্রোণ তাকে কাছে ডাকলেন বললেন কে তুমি কী চাও এখানে একলব্য কাছে এসে বলল আমি এক শিকারির ছেলে নাম একলব্য

উত্তর: হঠাৎ এক রাজপুত্র দেখতে পেল একলব্যকে। চেঁচিয়ে বলে উঠল, 'তুমি কে? কোত্থেকে এসেছ?' একলব্য চুপ করে থাকল। এবার দ্রোণ তাকে কাছে ডাকলেন। বললেন, 'কে তুমি? কী চাও এখানে?' একলব্য কাছে এসে বলল, 'আমি এক শিকারির ছেলে। নাম একলব্য।'

৩. একলব্যের মুখ কালো হয়ে গেল সে মলিন মুখে সেখান থেকে চলে এলো তারপর ভাবল এখন থেকে সে নিজেই তির চালনার অনুশীলন করবে তারপর অনেক বছর কেটে গেছে রাজপুত্ররা অনেক বড়ো হয়েছে তির-ধনুষ্ক চালনায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে সবাই

উত্তর: একলব্যের মুখ কালো হয়ে গেল। সে মলিন মুখে সেখান থেকে চলে এলো। তারপর ভাবল, এখন থেকে সে নিজেই তির চালনার অনুশীলন করবে। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। রাজপুত্ররা অনেক বড়ো হয়েছে। তির-ধনুষ্ক চালনায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে সবাই।


প্রশ্নের ধারা : প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে প্রশ্ন তৈরিকরণ

১. একলব্য মস্ত বীর হতে চায়। তাই একদিন সে ছুটল গুরু দ্রোণের কাছে। একলব্য শুনেছে, দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাঁর কাছে শিখতে পারলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে। সাহসে বুক বেঁধে একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে। সেখানে রাজপুত্ররা ধনুষ্ক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছে। তাদের গুরু দ্রোণ একদিকে বসে আছেন। একলব্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের তির ছোড়া দেখতে লাগল।

ক. কে মস্ত বীর হতে চায়?

খ. কী শিখতে চায় একলব্য?

গ. কীভাবে রাজবাড়িতে ঢুকল একলব্য?

ঘ. কোথায় অনুশীলন করছে রাজপুত্ররা?

ঙ. কেন একলব্য গুরুর কাছে গেল?

২. রাজপুত্রদের মধ্যে তৃতীয় জন সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারে। সে একটা হরিণ দেখে তার পিছন পিছন ছুটতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ হরিণটা চোখের আড়াল হয়ে গেল। রাজপুত্র সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকল। তার সঙ্গে ছিল একটা শিকারি কুকুর। কুকুরটা হরিণের পিছু ছুটল। খানিক বাদে তৃতীয় রাজপুত্র হাঁ হয়ে গেল। তার শিকারি কুকুর ফিরে এসেছে।

ক. কে সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারে?

খ. কী দেখে রাজপুত্র পিছনে ছুটতে লাগল?

গ. কীভাবে হরিণ চোখের আড়াল হলো?

ঘ. কোথায় দাঁড়িয়ে ছিল রাজপুত্র?

ঙ. কেন হাঁ হয়ে গেল তৃতীয় রাজপুত্র?

৩. শিষ্যের সাধনা এতদিন তৃতীয় রাজপুত্র তির চালনায় নিজেকে সেরা মনে করত। এখন নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেল। সে চেঁচিয়ে বলল, 'তুমি কি আমার কুকুরের মুখে এমন করে তির মেরেছ?' যুবক মুখ ঘুরিয়ে রাজপুত্রের দিকে তাকাল। তারপর নির্বিকার মুখে বলল, 'হ্যাঁ, আমি।' রাজপুত্র বলল, 'কিন্তু কেন?'

ক. কে নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেছে?

খ. কী ধুলায় মিশে গেছে?

গ. কীভাবে যুবক তির মারল?

ঘ. কেন রাজপুত্র চেঁচিয়ে বলল?

ঙ. কার মুখে তির মারা হলো?


প্রশ্নের ধারা : পদ নির্ণয়

১. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।

নাম তার একলব্য সারাদিন তির-ধনুষ্ক নিয়ে মেতে থাকে ছেলেটা। অব্যর্থ তার হাতের নিশানা একলব্য মস্ত বীর হতে চায়। তাই একদিন সে ছুটল গুরু দ্রোণের কাছে। একলব্য শুনেছে, দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাঁর কাছে শিখতে পারলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে।

উত্তর: একলব্য = বিশেষ্য;  তার =  সর্বনাম ; নিশানা = বিশেষ্য ; শেখান = ক্রিয়া, কাছে =  অব্যয়;

২. নিচের চিহ্নিত শব্দগুলোর পদ নির্ণয় কর।

তৃতীয় রাজপুত্র অবাক হয়ে তার অনুশীলন দেখতে লাগল। কী দারুণ কৌশলে সে তির মারতে পারে! এতদিন তৃতীয় রাজপুত্র তির চালনায় নিজেকে সেরা মনে করত। এখন নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেল।

উত্তর:  রাজপুত্র =  বিশেষ্য; নিজের= সর্বনাম; দারুণ = বিশেষণ;  মারতে =   ক্রিয়া;  সেরা =  বিশেষণ; 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url