শ্রেণি : পঞ্চম | বিষয় : বাংলা | পাঠ ১৬ : স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা
Shiuly's Class Room
Aklima Shiuly
শ্রেণি : পঞ্চম
বিষয় : বাংলা
পাঠ ১৬ : স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা
শব্দার্থ
📖 ক. পাঠ্যবইয়ে দেওয়া মূল শব্দার্থ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
অবধারিত — ঘটবেই এমন / যা কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।
অবরুদ্ধ — বন্দি / চারদিক থেকে ঘেরাও করা বা আটকে রাখা অবস্থা।
आत्मদানকারী — অন্যের উপকারের জন্য বা দেশের কল্যাণে যিনি নিজের জীবন দান করেন।
খ্যাতনামা — বিখ্যাত / নামকরা / সুপরিচিত।
নির্দয় — দয়া নেই যার / নিষ্ঠুর। (পাঠ্যের প্রাসঙ্গিক শব্দ: পাষণ্ড)
নির্বিচারে — কোনো বাছবিচার না করে / ভালো-মন্দ বিবেচনা না করে।
পাষণ্ড — নিষ্ঠুর, নির্দয় বা নির্মম ব্যক্তি।
বরেণ্য — সম্মান করার যোগ্য / বরণ করার যোগ্য / শ্রেষ্ঠ।
মনস্বী — অত্যন্ত জ্ঞানী / মহৎ মনের অধিকারী / পণ্ডিত ব্যক্তি।
🔍 খ. অনুচ্ছেদের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (অধ্যায়টি সহজে বোঝার জন্য)
স্মরণীয় — যাকে মনে রাখার যোগ্য / যার অবদান ভোলা যায় না।
উৎসর্গ — কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে নিজের কোনো কিছু বা জীবন বিলিয়ে দেওয়া।
মেধাবী — বুদ্ধিমান / যার স্মরণশক্তি বা মেধা অনেক বেশি।
আলোকিত — এখানে ‘জ্ঞানসম্পন্ন’ বা ‘শিক্ষিত’ মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যাঁরা সমাজকে আলো দেখান।
বুদ্ধিজীবী — যাঁরা মেধা ও বুদ্ধির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথ দেখান (যেমন: শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক)।
প্রমুখ — ইত্যাদি / প্রভৃতি / আরও অনেকে।
ব্যারাক — সৈন্যদের বা পুলিশের থাকার জন্য তৈরি নির্দিষ্ট সেনা-নিবাস বা বাসস্থান।
আবাসিক এলাকা — যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে বসবাস বা ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকে।
ষড়যন্ত্র — কোনো গোপন কুখ্যাত পরিকল্পনা / কুচক্র বা নীল নকশা।
সৃষ্টিশীল — নতুন কিছু তৈরি বা সৃষ্টি করার ক্ষমতা যার আছে (যেমন: লেখক, কবি, সুরকার)।
অপূরণীয় — যা কোনোভাবেই আর পূরণ বা ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করা যায় না।
নীল নকশা (বা পরিকল্পনা) — কোনো খারাপ বা ধ্বংসাত্মক কাজ করার জন্য আগে থেকে তৈরি করা গোপন ছক।
দোসর — এখানে পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী বা কুখ্যাত সঙ্গীদের (যেমন: আল-বদর, আল-শামস) বোঝানো হয়েছে।
বধ্যভূমি — যে নির্দিষ্ট জায়গায় বা মাঠে ধরে এনে নিরপরাধ মানুষদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হতো।
ক্ষত-বিক্ষত — আঘাতের চিহ্নযুক্ত / খুব বাজেভাবে কাটা-ছেঁড়া করা শরীর।
দানবীর — অত্যন্ত মহান ও দানশীল ব্যক্তি (যেমন: শহিদ রণদাপ্রসাদ সাহা)।
সমাজসেবক — যিনি সমাজের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য কাজ করেন।
সাথী বা সহকর্মী — একসাথে কাজ করেন এমন ব্যক্তি।
পরোয়া (না করা) — গ্রাহ্য বা কেয়ার না করা (যেমন: নিজের জীবনের পরোয়া না করে যুদ্ধ করা)।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১.
প্রশ্ন: বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন?
উত্তর: প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ।
২.
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া মানুষদের মধ্যে সাধারণ কোন কোন পেশার মানুষ ছিলেন?
উত্তর: কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সৈনিক ও কর্মকর্তা।
৩.
প্রশ্ন: ভৌগোলিক দিক থেকে কোন কোন অঞ্চলের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন?
উত্তর: সমতল, পাহাড়, হাওর, নদী ও উপকূলসহ সকল অঞ্চলের মানুষ।
৪.
প্রশ্ন: কোন কোন ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন?
উত্তর: সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষ।
৫.
প্রশ্ন: পাকিস্তানি সেনারা কত সালের কোন সময়ে ঢাকার মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে।
৬.
প্রশ্ন: ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার কোন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় আক্রমণ চালায়?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, পুলিশ ব্যারাকে ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়।
৭.
প্রশ্ন: পাকিস্তানি সেনারা কত মাস ধরে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল?
উত্তর: নয় মাস ধরে।
৮.
প্রশ্ন: পাকিস্তানি হানাদাররা পরিকল্পনা করে এদেশের কেমন মানুষদের হত্যা করেছিল?
উত্তর: মেধাবী, আলোকিত, বুদ্ধিজীবী ও বরেণ্য মানুষদের।
৯.
প্রশ্ন: ২৫শে মার্চের মধ্যরাতে শহিদ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের নাম লেখ।
উত্তর: এম. মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব।
১০.
প্রশ্ন: প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে এম. মুনিরুজ্জামান কী করতে শুরু করেছিলেন?
উত্তর: পবিত্র কুরআন পড়তে শুরু করেছিলেন।
১১.
প্রশ্ন: অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
উত্তর: ইংরেজি সাহিত্যের।
১২.
প্রশ্ন: ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব কোন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন?
উত্তর: দর্শন বিষয়ের।
১৩.
প্রশ্ন: মানুষ হিসেবে ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব কেমন ছিলেন?
উত্তর: খুব সহজ-সরল ও নিরহংকার।
১৪.
প্রশ্ন: ছবিতে থাকা বামদিকের শহিদ বুদ্ধিজীবীর নাম ও পরিচয় কী?
উত্তর: ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রখ্যাত দার্শনিক ছিলেন।
১৫.
প্রশ্ন: ছবিতে থাকা মাঝখানের শহিদ বুদ্ধিজীবীর নাম কী এবং তিনি কী করতেন?
উত্তর: সেলিনা পারভীন; তিনি সাংবাদিক ও কবি ছিলেন।
১৬.
প্রশ্ন: ছবির একদম ডানদিকে থাকা শহিদ বুদ্ধিজীবীর নাম কী?
উত্তর: গিয়াসউদ্দিন আহমদ।
১৭.
প্রশ্ন: ২৫শে মার্চ রাতে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি আর কোথায় আক্রমণ করা হয়?
উত্তর: সংবাদপত্র অফিসগুলোতে।
১৮.
প্রশ্ন: লেখক ও সাংবাদিক শহিদ সাবের কোথায় ও কী অবস্থায় মারা যান?
উত্তর: পত্রিকা অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায়।
১৯.
প্রশ্ন: কবি ও সাংবাদিক মেহেরুন্নেসা কত বছর বয়সে শহিদ হন?
উত্তর: ২৫ বছর বয়সে।
২০.
প্রশ্ন: ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বয়স কত ছিল?
উত্তর: ৮৬ বছর।
২১.
প্রশ্ন: ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কে তুলেছিলেন?
উত্তর: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
২২.
প্রশ্ন: ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কোথা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়?
উত্তর: কুমিল্লার বাড়ি থেকে।
২৩.
প্রশ্ন: ‘সাধনা ঔষধালয়’ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ।
২৪.
প্রশ্ন: অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ কত বছর বয়সে শহিদ হন?
উত্তর: ৮৪ বছর বয়সে।
২৫.
প্রশ্ন: সাধারণ মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য কে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন?
উত্তর: রণদাপ্রসাদ সাহা।
২৬.
প্রশ্ন: রণদাপ্রসাদ সাহাকে কী বলে ডাকত?
উত্তর: দানবীর।
২৭.
প্রশ্ন: চট্টগ্রামের বিখ্যাত সমাজসেবক কে ছিলেন?
উত্তর: নূতনচন্দ্র সিংহ।
২৮.
প্রশ্ন: একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা কোথায় ফুল দিতে যাই?
উত্তর: শহিদ মিনারে।
২৯.
প্রশ্ন: শহিদ মিনারে যাওয়ার সময় কোন গানটি গাওয়া হয়?
উত্তর: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’।
৩০.
প্রশ্ন: গানটিতে সুর কে দিয়েছেন?
উত্তর: আলতাফ মাহমুদ।
৩১.
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পাকিস্তানিরা কী বুঝতে পেরেছিল?
উত্তর: তাদের পরাজয় অবধারিত।
৩২.
প্রশ্ন: পাকিস্তানিরা কী ষড়যন্ত্র করেছিল?
উত্তর: এদেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র।
৩৩.
প্রশ্ন: কেন বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল?
উত্তর: এদের হত্যা করলে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে।
৩৪.
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের কোন তারিখে বুদ্ধিজীবী হত্যার নতুন পর্ব শুরু হয়?
উত্তর: ১৪ই ডিসেম্বর।
৩৫.
প্রশ্ন: ১৪ই ডিসেম্বর কোন তিনজন শিক্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়?
উত্তর: মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও আনোয়ার পাশা।
৩৬.
প্রশ্ন: ইতিহাস বিভাগের কোন দুই শিক্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়?
উত্তর: সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ও গিয়াসউদ্দীন আহমদ।
৩৭.
প্রশ্ন: ইংরেজি বিভাগের কোন শিক্ষককে হত্যা করা হয়?
উত্তর: রাশীদুল হাসান।
৩৮.
প্রশ্ন: কোন সাংবাদিককে এর আগেই হত্যা করা হয়েছিল?
উত্তর: সিরাজুদ্দীন হোসেন।
৩৯.
প্রশ্ন: আর কোন লেখক ও সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?
উত্তর: শহীদুল্লা কায়সার, নিজামউদ্দীন আহমদ ও আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা।
৪০.
প্রশ্ন: দুইজন চিকিৎসকের নাম লেখ।
উত্তর: ড. ফজলে রাব্বী ও ড. আবদুল আলীম চৌধুরী।
৪১.
প্রশ্ন: চিকিৎসকদের মধ্যে আর কাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ড. মোহাম্মদ মোর্তজা।
৪২.
প্রশ্ন: স্বাধীনতার পর বুদ্ধিজীবীদের লাশ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে।
৪৩.
প্রশ্ন: প্রতিবছর কোন তারিখে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়?
উত্তর: ১৪ই ডিসেম্বর।
৪৪.
প্রশ্ন: শহিদ বুদ্ধিজীবীরা কার শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন?
উত্তর: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
৪৫.
প্রশ্ন: তাঁদের কোন জিনিসটি আমরা ব্যর্থ হতে দেব না?
উত্তর: তাঁদের মহান আত্মদান।
৪৬.
প্রশ্ন: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কতদিন স্মরণ করব?
উত্তর: চিরদিন।
৪৭.
প্রশ্ন: ‘অবধারিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ঘটবেই এমন।
৪৮.
প্রশ্ন: ‘অবরুদ্ধ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বন্দি বা আটক।
৪৯.
প্রশ্ন: ‘আত্মদানকারী’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: অন্যের উপকারের জন্য যিনি নিজের জীবন দান করেন।
৫০.
প্রশ্ন: ‘খ্যাতনামা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিখ্যাত।
৫১.
প্রশ্ন: ‘নির্বিচারে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বাছবিচার না করে।
৫২.
প্রশ্ন: ‘পাষণ্ড’ বলতে কাকে বোঝায়?
উত্তর: নিষ্ঠুর বা নির্মম ব্যক্তি।
৫৩.
প্রশ্ন: ‘বরেণ্য’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বরণ করার যোগ্য।
৫৪.
প্রশ্ন: ‘মনস্বী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: জ্ঞানী।
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. প্রশ্ন: ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঘুমন্ত মানুষের ওপর কীভাবে আক্রমণ করেছিল? ৩টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, পুলিশ ব্যারাক এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
কোনো প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই তারা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ঘুমন্ত ও নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে।
২. প্রশ্ন: পাকিস্তানি বাহিনী কেন এদেশের মেধাবী ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল? ৪টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
পাকিস্তানি সেনারা বুঝতে পেরেছিল যে বাঙালিদের স্বাধীনতা অর্জন আর ঠেকানো সম্ভব নয়।
একটি স্বাধীন দেশ যেন ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য তারা এদেশকে মেধাশূন্য করার নীল নকশা করে।
দেশ পরিচালনায় যেন কোনো যোগ্য নেতৃত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ না ঘটে, সেটাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
এই হীন উদ্দেশ্য সফল করতেই তারা নয় মাস ধরে বেছে বেছে আমাদের মেধাবী, আলোকিত ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
৩. প্রশ্ন: "স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা" কাদের বলা হয়েছে? আমরা কেন তাঁদের বরণীয় ও স্মরণীয় মনে করব? ৪টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের "স্মরণীয় ও বরণীয়" বলা হয়েছে।
তাঁরা নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ ও মানচিত্র উপহার দিয়ে গেছেন।
এদেশের মানুষের অধিকার আদায় ও চেতনা জাগ্রত করতে তাঁরা আলোর দিশারি হিসেবে কাজ করেছেন।
তাঁদের এই পরম আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সম্মান জানাতেই আমরা তাঁদের চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে বরণীয় ও স্মরণীয় মনে করব।
৪. প্রশ্ন: ২৫শে মার্চ রাতে সংবাদপত্র অফিসগুলোতে পাকিস্তানি সেনারা কী করেছিল এবং এতে কোন কোন সাংবাদিক শহিদ হন? ৪টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিসেও হামলা চালায়।
তারা অনেক অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং বহু সাংবাদিককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।
ওই রাতে পত্রিকা অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান লেখক ও সাংবাদিক শহিদ সাবের।
এছাড়া সাংবাদিক সেলিনা পারভীন এবং মাত্র ২৫ বছর বয়সে কবি ও সাংবাদিক মেহেরুন্নেসা ওই সময়ে প্রাণ হারান। [1, 2]
৫. প্রশ্ন: ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাজনৈতিক অবদান এবং তাঁর শহিদ হওয়ার ঘটনাটি ৩টি বাক্যে সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন এদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার ঐতিহাসিক দাবি তুলেছিলেন।
১৯৭১ সালে ৮৬ বছর বয়সে পাকিস্তানি শত্রুসেনারা তাঁকে কুমিল্লার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। [1, 2]
৬. প্রশ্ন: মানবসেবায় অবদান রেখেছেন এমন দুজন শহিদ ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাঠ্যবইয়ের আলোকে দাও।
উত্তর:
অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ: তিনি দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিখ্যাত 'সাধনা ঔষধালয়' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ৮৪ বছর বয়সে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে শহিদ হন।
রণদাপ্রসাদ সাহা: তিনি মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণে নিজের জীবন সঁপে দিয়েছিলেন এবং তাঁর মহান দানশীলতার জন্য মানুষ তাঁকে 'দানবীর' বলে ডাকত। [1, 2]
৭. প্রশ্ন: সুরসাধক আলতাফ মাহমুদের অবদান এবং তাঁর পরিণতি সম্পর্কে ৩টি বাক্য লেখ।
উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ ছিলেন এদেশের একজন মহান সুরসাধক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা।
আমাদের প্রাণের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’—এ তিনিই সুর দিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই গুণী সুরসাধকের প্রাণ কেড়ে নেয় নিষ্ঠুর পাকিস্তানি বাহিনী।
৮. প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেন এবং কীভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নীল নকশা তৈরি করেছিল? ৪টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানিরা যখন বুঝতে পারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা এদেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করে।
তারা জানত যে দেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করলে এদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
এই হীন উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর তারা বেছে বেছে শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের ধরে নিয়ে যায়।
চরম নির্মমতায় তাঁদের হত্যা করে লাশ মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে ফেলে রাখা হয়।
৯. প্রশ্ন: ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন বিভাগের শিক্ষকদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল? বিভাগসহ শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর:
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষকদের ধরে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
বাংলা বিভাগ: অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও অধ্যাপক আনোয়ার পাশা।
ইতিহাস বিভাগ: অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক গিয়াসউদ্দীন আহমদ।
ইংরেজি বিভাগ: অধ্যাপক রাশীদুল হাসান।
১০. প্রশ্ন: প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর কেন 'শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস' পালন করা হয়? ৩টি বাক্যে বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর:
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের এদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সেই সকল মহান বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়।
এই দিবসটি পালনের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরি।
১১. প্রশ্ন: "জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তাঁরা।"—এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে এবং কেন তাঁরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান? ৪টি বাক্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
এখানে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহিদ হওয়া এদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের কথা বলা হয়েছে।
তাঁরা ছিলেন দেশের সবচেয়ে মেধাবী, আলোকিত, মনস্বী ও সৃষ্টিশীল মানুষ, যাঁরা সমাজকে আলোর পথ দেখাতেন।
পাকিস্তানিরা যখন বুঝতে পেরেছিল তাদের পরাজয় অবধারিত, তখন এদেশকে চিরতরে পঙ্গু ও মেধাশূন্য করতে এই গুণী মানুষদের হত্যা করে।
নিজের জীবনের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত ও গৌরবময় করায় তাঁরা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
১২. প্রশ্ন: শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী হওয়া উচিত? ৩টি বাক্যে লেখ।
উত্তর:
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মদানকে আমরা কখনো ব্যর্থ হতে দেব না এবং তাঁদের আদর্শকে বুকে ধারণ করব।
তাঁদের চিরদিন গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করব।
তাঁরা যে অসাম্প্রদায়িক এবং উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে আমরা সবাই একযোগে কাজ করব।
১. শূন্যস্থান পূরণ
ক. তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় অবধারিত।
খ. দেশের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রাণ দেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।
গ. পাকিস্তানিরা এদেশের মেধাবী, আলোকিত ও মনস্বী মানুষদের হত্যা করে।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধে শহিদরা মহান আত্মদানকারী হিসেবে চিরস্মরণীয়।
ঙ. পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে।
চ. অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শন বিষয়ে খ্যাতনামা শিক্ষক।
২. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর
ক. ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা এদেশে কী করেছিল?
উত্তর: ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, পুলিশ ব্যারাকে এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছিল।
খ. কোন শহিদ বুদ্ধিজীবী প্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান? তাঁর সম্পর্কে বলি ও লিখি।
উত্তর: প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।
তাঁর সম্পর্কে: ১৯৪৮ সালে তিনি এই ঐতিহাসিক দাবি তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ৮৬ বছর। এই বৃদ্ধ বয়সেও পাকিস্তানি শত্রুসেনারা তাঁকে কুমিল্লার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
গ. শহিদ সাবের কে ছিলেন? তিনি কীভাবে শহিদ হন?
উত্তর: শহিদ সাবের ছিলেন এদেশের একজন প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি সেনারা বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই রাতে তিনি একটি পত্রিকা অফিসেই ঘুমাচ্ছিলেন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তিনি শহিদ হন।
ঘ. রণদাপ্রসাদ সাহাকে কেন দানবীর বলা হয়?
উত্তর: রণদাপ্রসাদ সাহা ছিলেন এদেশের একজন মহান সমাজসেবক। তিনি নিজের সমস্ত সম্পদ সাধারণ মানুষের মঙ্গল, কল্যাণ এবং নানা জনহিতকর ও শিক্ষামূলক কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ ও নিঃস্বার্থ দানশীলতার জন্য মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় 'দানবীর' বলে ডাকত।
ঙ. দুজন শহিদ সাংবাদিকের নাম বলি।
উত্তর: দুজন শহিদ সাংবাদিকের নাম হলো:
১. সেলিনা পারভীন
২. সিরাজুদ্দীন হোসেন
চ. আমরা কেন চিরদিন শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করব?
উত্তর: শহিদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ মেধা ও আলোর দিশারি। তাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের ঋণ চিরকাল মনে রাখার জন্য আমরা তাঁদের চিরদিন স্মরণ করব।
ছ. কোন দিনটিকে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়? কেন?
উত্তর: প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর দিনটিকে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
কারণ: ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশকে মেধাশূন্য করার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা এদেশের বহু শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মনস্বী মানুষকে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাঁদের এই পরম আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই দিনটি পালন করা হয়।
৩. বাম পাশের বাক্যের সাথে ডান পাশের ঠিক শব্দ মিলিয়ে পড়ি ও লিখি (মিলকরণ)
বরণ করার যোগ্য — বরেণ্য
মেধা আছে এমন যে জন — মেধাবী
অহংকার নেই যার — নিরহংকার
বিচার-বিবেচনা ছাড়া যা — নির্বিচার
কোনোভাবেই পূরণ করা যায় না এমন — অপূরণীয়
৪. ঠিক উত্তরটিতে টিকচিহ্ন (✔️) দিই (সঠিক উত্তর)
ক. কোন তারিখে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে?
সঠিক উত্তর: ২) ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ
খ. প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর পালন করা হয়—
সঠিক উত্তর: ৩) ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে
গ. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বুদ্ধিজীবীদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়—
সঠিক উত্তর: ১) মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে
৫. কাজ-শব্দ লিখি (ক্রিয়াপদের কাল ও পুরুষ অনুযায়ী রূপ)
ক. খাওয়া
আমি খাই। — তুমি খাও। — সে খায়।
আমরা খাই। — তোমরা খাও। — তিনি খান।
খ. ওঠা
আমি উঠি। — তুমি ওঠো। — সে ওঠে।
আমরা উঠি। — তোমরা ওঠো। — তিনি ওঠেন।
গ. যাওয়া
আমি যাই। — তুমি যাও। — সে যায়।
আমরা যাই। — তোমরা যাও। — তিনি যান।
৬. প্রথম বাক্যের সাথে মিলিয়ে পরের বাক্য লিখি (বিপরীতাত্মক বা অনুগামী বাক্য গঠন)
শুয়ে থাকি। তবু ঘুম আসে না।
কড়া নাড়ি। তবু কেউ দরজা খোলে না।
জানালায় উঁকি দিই। তবু কিছু দেখতে পাই না।
তাঁকে নিমন্ত্রণ জানালাম। তবু তিনি এলেন না।
আমি সবই জানি। তবু বলতে পারব না।
৭. ঘটনাগুলো সাজিয়ে অনুচ্ছেদ লিখি
এলোমেলো বাক্যগুলোকে ঘটনার সঠিক ক্রম বা ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজিয়ে নিচে অনুচ্ছেদ আকারে দেওয়া হলো:
গাছের মগডালে বাসা বেঁধেছে একজোড়া বক। স্ত্রী বকটি কয়েকটি ডিম পেড়েছে। বক দুটি পালাক্রমে সেই ডিমে তা দিচ্ছে। কয়েক দিন পর ডিম ফুটে তুলতুলে ছানা বেরিয়ে এলো। পুরুষ বক নদী থেকে মাছ ধরে এনে ছানাদের খাওয়ায়। একদিন ছানারা বড়ো হয়ে উড়তে শিখে গেল।
৮. ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী’ সম্পর্কে আমার অনুভূতি লিখি
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মত্যাগ নিয়ে আমার অনুভূতি নিচে দেওয়া হলো:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহিদ হওয়া বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমার মনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা কাজ করে। তাঁরা ছিলেন আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ মেধা, আলো ও বিবেকের দিশারি। দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাটি আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত করে। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তাঁরা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁদের এই মহান আত্মদান আমি কখনো ভুলব না। তাঁদের আদর্শ বুকে ধারণ করে আমি একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠব এবং দেশকে ভালোবাসব।
অনুচ্ছেদ: শহিদ বুদ্ধিজীবী
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য যে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা; যাঁরা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে যাঁরা নিজেদের জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা ও সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে আলোর পথ দেখান, তাঁদের বুদ্ধিজীবী বলা হয়। যেমন— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, কবি, লেখক, প্রকৌশলী ও আইনজীবী। ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পারল যে তাদের পরাজয় অবধারিত, তখন তারা এদেশকে চিরতরে পঙ্গু ও মেধাশূন্য করার এক ঘৃণ্য নীল নকশা তৈরি করে। স্বাধীন বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারে এবং দেশ পরিচালনায় যেন কোনো যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না হয়, সেটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এই কুখ্যাত পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা এবং তাদের এদেশীয় দোসর আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গভীর রাতে এদেশের সবচেয়ে মেধাবী ও আলোকিত মানুষদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে ঢাকার মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মহান আত্মদানকারী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. ফজলে রাব্বী, ড. আবদুল আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার, সেলিনা পারভীন এবং সুরসাধক আলতাফ মাহমুদ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বধ্যভূমি থেকে তাঁদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই পরম আত্মত্যাগকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালন করা হয়। শহিদ বুদ্ধিজীবীরা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁদের আদর্শ চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, সৎ মানুষ হওয়া এবং দেশকে ভালোবেসে তাঁদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার কিছু কৌশল:
কাটাকাটি ছাড়া স্পষ্ট লেখা: পুরো অনুচ্ছেদটি একটিমাত্র প্যারার ভেতর রাখবেন এবং কোনো কাটাকাটি করবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ নাম ও তথ্য: এখানে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের নাম এবং '১৪ই ডিসেম্বর' ও 'বধ্যভূমি'র মতো গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো সঠিক বানানে লেখা হয়েছে, যা খাতায় বেশি নম্বর নিশ্চিত করবে।
রচনা: শহিদ বুদ্ধিজীবী
ভূমিকা:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। এই যুদ্ধে আমরা যেমন স্বাধীনতা পেয়েছি, তেমনি হারিয়েছি আমাদের লক্ষ লক্ষ বীর সন্তানদের। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে যাঁরা দেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করে গেছেন, তাঁরাই শহিদ বুদ্ধিজীবী। তাঁরা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
বুদ্ধিজীবী কারা?
যাঁরা নিজেদের জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা ও সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আলোর পথ দেখান, তাঁদের বুদ্ধিজীবী বলা হয়। যেমন— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, কবি, লেখক, প্রকৌশলী, আইনজীবী এবং খ্যাতনামা শিল্পী বা সাহিত্যিকগণ।
কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল?
১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পারল যে তাদের পরাজয় অবধারিত, তখন তারা এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তারা বুঝতে পেরেছিল যে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে চলেছে। একটি স্বাধীন দেশ যেন ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারে এবং দেশ পরিচালনায় যেন কোনো যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না হয়, সেজন্য তারা এদেশকে মেধাশূন্য করার নীল নকশা তৈরি করে। এই কুখ্যাত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা বেছে বেছে এদেশের সবচেয়ে মেধাবী ও আলোকিত মানুষদের হত্যা করে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বধ্যভূমি:
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পর্বটি পরিচালিত হয়। পাকিস্তানি সেনারা এবং তাদের দোসর আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গভীর রাতে বুদ্ধিজীবীদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে ঢাকার মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বধ্যভূমিগুলো থেকে তাঁদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
কয়েকজন উল্লেখযোগ্য শহিদ বুদ্ধিজীবী:
মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে প্রধান কয়েকজন হলেন:
শিক্ষক: ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা ও অধ্যাপক গিয়াসউদ্দীন আহমদ।
চিকিৎসক: ড. ফজলে রাব্বী, ড. আবদুল আলীম চৌধুরী ও ড. মোহাম্মদ মোর্তজা।
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক: শহীদুল্লা কায়সার, সেলিনা পারভীন, সিরাজুদ্দীন হোসেন এবং সুরসাধক আলতাফ মাহমুদ।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
তাঁদের এই পরম আত্মত্যাগকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালন করা হয়। এই দিনে আমরা সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করি এবং মিরপুর ও রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য (শিক্ষার্থীদের করণীয়):
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মদান আমরা কখনো ব্যর্থ হতে দেব না। শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো— মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, সৎ মানুষ হওয়া এবং শহিদদের আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
উপসংহার:
শহিদ বুদ্ধিজীবীরা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁদের দেখানো পথ ও আদর্শ চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাঁরা আমাদের জাতীয় জীবনের চিরন্তন আলোর দিশারি। আমরা চিরদিন তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করব।
📖 সহজ নোট
১. মূল বিষয়বস্তু
সহজ কথা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পুরো বাংলাদেশের সব অঞ্চলের এবং সব পেশার মানুষ যুদ্ধ করেছিল। যুদ্ধের একদম শেষ দিকে এসে (ডিসেম্বর মাসে) পাকিস্তানিরা যখন বুঝলো তারা হেরে যাচ্ছে, তখন তারা ভাবলো— বাঙালিরা স্বাধীন হলেও যেন দেশটা চালাতে না পারে। তাই তারা দেশের সবচেয়ে বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং নামকরা মানুষদের (শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক) রাতে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এই মহান মানুষগুলোই হলেন আমাদের শহিদ বুদ্ধিজীবী।
২. অধ্যায়ের ৩টি প্রধান সময় ও ঘটনা (টাইমলাইন)
কালো রাত (২৫শে মার্চ, ১৯৭১): এই রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর প্রথম আক্রমণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ ব্যারাক ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালায়। এই রাতেই প্রথম শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম. মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব।
নয় মাসের যুদ্ধ: দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পাকিস্তানিরা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদপত্রের অফিসগুলোতে আগুন দেয় এবং লেখক-সাংবাদিকদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবী নিধন (১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৭১): দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে পাকিস্তানিরা ও তাদের দোসররা (অর্থাৎ তাদের সহযোগী: আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় ) পরিকল্পিতভাবে দেশের সেরা মেধাবীদের হত্যা করে মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফেলে দেয়।
৩. পেশাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
🎓 ক. শিক্ষক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ):
ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব: দর্শন (Philosophy) বিভাগের বিখ্যাত, সহজ-সরল ও নিরহংকার শিক্ষক ছিলেন।
অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা: ইংরেজি সাহিত্যের নামকরা শিক্ষক ছিলেন।
অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও আনোয়ার পাশা: বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক ছিলেন।
সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ও গিয়াসউদ্দীন আহমদ: ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
অধ্যাপক রাশীদুল হাসান: ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
✍️ খ. লেখক ও সাংবাদিক:
শহীদ সাবের: ২৫শে মার্চ কালোরাতে পত্রিকা অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে শহিদ হন।
সেলিনা পারভীন: বিশিষ্ট নারী সাংবাদিক ও কবি।
মেহেরুন্নেসা: মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রাণ দেওয়া তরুণী কবি ও সাংবাদিক।
সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামউদ্দীন আহমদ ও আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা: প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক।
🩺 গ. প্রখ্যাত চিকিৎসক (ডাক্তার):
ড. ফজলে রাব্বী, ড. আবদুল আলীম চৌধুরী ও ড. মোহাম্মদ মোর্তজা: মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া দেশের সেরা চিকিৎসক।
🎼 ঘ. সুরসাধক:
আলতাফ মাহমুদ: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ গানটির বিখ্যাত সুরকার।
🤝 ঙ. সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত: ৮৬ বছর বয়সী প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেছিলেন।
রণদাপ্রসাদ সাহা: নিজের সব সম্পদ মানুষের কল্যাণে দান করায় লোকে তাঁকে ‘দানবীর’ বলতো।
অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ: দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিখ্যাত ‘সাধনা ঔষধালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন (৮৪ বছর বয়সে শহিদ হন)।
নূতনচন্দ্র সিংহ: চট্টগ্রামের বিখ্যাত সমাজসেবক।
৪. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বিশেষ শব্দার্থ ও ধারণা
বধ্যভূমি: যে নির্দিষ্ট জায়গায় বা মাঠে ধরে এনে মানুষদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হতো (যেমন: মিরপুর ও রায়েরবাজার)।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস: প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর এই দিনটি পালন করা হয়।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান: শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে এই উপাধিতে সম্মান জানানো হয়।
৫. শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার টিপস (বেশি নম্বর পাওয়ার কৌশল)
১. বানান সতর্কতা: 'জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা', 'শহীদুল্লা কায়সার', 'রায়েরবাজার।
২. তারিখের সঠিকতা: ২৫শে মার্চ (আক্রমণের শুরু) এবং ১৪ই ডিসেম্বর (বুদ্ধিজীবী দিবস)।
৩. অনুচ্ছেদ লেখার নিয়ম: পরীক্ষায় অনুচ্ছেদ আসলে কোনো পয়েন্ট বা সাব-হেডিং দেওয়া যাবে না, পুরোটা এক প্যারায় লিখতে হবে।
মনে রাখার জন্য সহজ নোট:
🎓 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অধ্যাপকবৃন্দ
এম. মুনিরুজ্জামান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। ২৫শে মার্চ রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেছিলেন, তখন পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে হত্যা করে।
অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা: ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান শিক্ষক ছিলেন। ২৫শে মার্চ রাতে একই বাড়ির নিচতলা থেকে শত্রুসেনারা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে গুলি করে হত্যা করে।
ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব: দর্শন বিষয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক ছিলেন। মানুষ হিসেবে তিনি খুব সহজ-সরল ও নিরহংকার ছিলেন। ২৫শে মার্চ কালোরাতেই তাঁকে হত্যা করা হয়।
অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা ও তাদের দোসররা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী: বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক, যাঁকে ১৪ই ডিসেম্বর ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
অধ্যাপক আনোয়ার পাশা: বাংলা বিভাগের একজন খ্যাতিমান শিক্ষক, ১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের খ্যাতিমান অধ্যাপক ছিলেন, যাঁকে ১৪ই ডিসেম্বর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অধ্যাপক গিয়াসউদ্দীন আহমদ: ইতিহাস বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক ছিলেন, যাঁকেও ১৪ই ডিসেম্বর ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।
অধ্যাপক রাশীদুল হাসান: ইংরেজি বিভাগের একজন খ্যাতিমান অধ্যাপক ছিলেন, যিনি ১৪ই ডিসেম্বরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
✍️ লেখক, কবি ও সাংবাদিকবৃন্দ
শহীদ সাবের: প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক ছিলেন। ২৫শে মার্চ কালোরাতে একটি সংবাদপত্র অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তিনি শহিদ হন।
সেলিনা পারভীন: বিশিষ্ট নারী সাংবাদিক ও কবি ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনী তাঁকে অপহরণ করে এবং পরে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করে।
মেহেরুন্নেসা: মাত্র পঁচিশ বছর বয়সের এক সাহসী তরুণী কবি ও সাংবাদিক ছিলেন, যিনি ২৫শে মার্চ কালোরাতের নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রাণ দেন।
সিরাজুদ্দীন হোসেন: প্রখ্যাত সাংবাদিক, যাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও আগে পাকিস্তানি হানাদারেরা ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল।
শহীদুল্লা কায়সার: প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক, যাঁকে ১৪ই ডিসেম্বর একইভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তিনি আর জীবিত ফিরে আসেননি।
নিজামউদ্দীন আহমদ: প্রখ্যাত সাংবাদিক, যাঁকে ১৪ই ডিসেম্বর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়।
আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা: প্রখ্যাত সাংবাদিক, যিনি ১৪ই ডিসেম্বরের পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী নিধনের শিকার হন।
🩺 প্রখ্যাত চিকিৎসকবৃন্দ
ড. ফজলে রাব্বী: এদেশের একজন প্রখ্যাত ও দেশবরেণ্য চিকিৎসক ছিলেন, যাঁকে ১৪ই ডিসেম্বর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ড. আবদুল আলীম চৌধুরী: প্রখ্যাত চিকিৎসক, ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারেরা যাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে বধ্যভূমিতে হত্যা করে।
ড. মোহাম্মদ মোর্তজা: প্রখ্যাত চিকিৎসক, অন্য চিকিৎসকদের মতোই তাঁকে একাত্তরের ১৪ই ডিসেম্বর তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।
🎼 সুরসাধক
আলতাফ মাহমুদ: প্রখ্যাত সুরসাধক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের প্রাণের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ গানটিতে তিনিই সুর দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়।
🤝 রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিবর্গ
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত: প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালে ৮৬ বছর বয়সে কুমিল্লার বাড়ি থেকে শত্রুসেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
রণদাপ্রসাদ সাহা: সাধারণ মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য নিজের জীবন ও সম্পদ সঁপে দিয়েছিলেন। তাঁর মহান দানশীলতার জন্য মানুষ তাঁকে ‘দানবীর’ বলে ডাকত। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকেও হত্যা করে।
অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ: দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিখ্যাত ‘সাধনা ঔষধালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ৮৪ বছর বয়সের এই বৃদ্ধ মানুষকেও পাকিস্তানি সেনারা রেহাই দেয়নি।
নূতনচন্দ্র সিংহ: চট্টগ্রামের বিখ্যাত সমাজসেবক ছিলেন, যাঁকে পাকিস্তানি শত্রুসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
প্র্যাক্টিস শিট:
এককথায় প্রকাশ (বাক্য সংকোচন)
বরণ করার যোগ্য — বরেণ্য
মেধা আছে এমন যে জন — মেধাবী
অহংকার নেই যার — নিরহংকার
বিচার-বিবেচনা ছাড়া যা করা হয় — নির্বিচার
কোনোভাবেই পূরণ করা যায় না যা — অপূরণীয়
ঘটবেই যা বা ঘটবেই এমন — অবধারিত
চারদিক থেকে ঘেরাও করা বা বন্দি অবস্থা — অবরুদ্ধ
অন্যের উপকারের জন্য যিনি নিজের জীবন দান করেন — আত্মদানকারী
খ্যাতি বা নাম আছে যার — খ্যাতনামা / বিখ্যাত
অত্যন্ত নিষ্ঠুর বা নির্দয় ব্যক্তি — পাষণ্ড
মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে যিনি জীবিকা নির্বাহ করেন — বুদ্ধিজীবী
যিনি সমাজ বা সাধারণ মানুষের সেবা করেন — সমাজসেবক
নতুন কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে যার — সৃষ্টিশীল
যিনি খুব দান করতে ভালোবাসেন — দানশীল / দানবীর
যিনি সংবাদ সংগ্রহ বা পরিবেশন করেন — সাংবাদিক
যিনি কবিতা লেখেন — কবি (নারীদের ক্ষেত্রে ‘কবয়িত্রী’)
যিনি গান বা সুর নিয়ে সাধনা করেন — সুরসাধক
যিনি চিকিৎসা বা ডাক্তারি পেশার সাথে যুক্ত — চিকিৎসক
যিনি দর্শন শাস্ত্রের পন্ডিত — দার্শনিক
যেখানে নিরপরাধ মানুষদের এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হতো — বধ্যভূমি
দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি যুদ্ধ করেছেন — মুক্তিযোদ্ধা
দেশের জন্য যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন — শহিদ
যা চিরকাল স্মরণ রাখার যোগ্য — চিরস্মরণীয়
৫ নম্বর প্রশ্নের সম্ভাব্য সকল বিকল্প
📌 বিকল্প ১: শূন্যস্থান পূরণ (উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে)
১. তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় __________। (উত্তর: অবধারিত)
২. দেশের ভেতরে __________ অবস্থায় প্রাণ দেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। (উত্তর: অবরুদ্ধ)
৩. পাকিস্তানিরা এদেশের মেধাবী, আলোকিত ও __________ মানুষদের হত্যা করে। (উত্তর: মনস্বী)
৪. মুক্তিযুদ্ধে শহিদরা মহান __________ হিসেবে চিরস্মরণীয়। (উত্তর: আত্মদানকারী)
৫. পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা __________ হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে। (উত্তর: নির্বিচারে)
৬. অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শন বিষয়ে __________ শিক্ষক। (উত্তর: খ্যাতনামা)
📌 বিকল্প ২: শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি
১. স্মরণীয়: দেশের জন্য যাঁরা জীবন দেন, তাঁরা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকেন।
২. বুদ্ধিজীবী: পাকিস্তানিরা একাত্তরে আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।
৩. বধ্যভূমি: একাত্তরের মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমি থেকে শহিদদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
৪. দানবীর: রণদাপ্রসাদ সাহা তাঁর দানশীলতার জন্য দানবীর নামে পরিচিত ছিলেন।
৫. অপরাজেয়: বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা ছিল চিরকাল অপরাজেয়।
📌 বিকল্প ৩: মিলকরণ (বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের শব্দ)
বরণ করার যোগ্য → বরেণ্য
মেধা আছে এমন যে জন → মেধাবী
অহংকার নেই যার → নিরহংকার
বিচার-বিবেচনা ছাড়া যা → নির্বিচার
কোনোভাবেই পূরণ করা যায় না এমন → অপূরণীয়
📌 বিকল্প ৪: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
১. ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কে তুলেছিলেন?
ক) ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গ) রণদাপ্রসাদ সাহা ঘ) মুনীর চৌধুরী
উত্তর: খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
২. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির সুরকার কে?
ক) আলতাফ মাহমুদ খ) শহীদুল্লা কায়সার গ) জহির রায়হান ঘ) নজরুল ইসলাম
উত্তর: ক) আলতাফ মাহমুদ
৩. লেখক ও সাংবাদিক শহিদ সাবের কীভাবে শহিদ হন?
ক) গুলিতে খ) বোমা হামলায় গ) পত্রিকা অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে ঘ) হাসপাতালে
উত্তর: গ) পত্রিকা অফিসে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে
৬ নম্বর প্রশ্নের সম্ভাব্য সকল বিকল্প
📌 বিকল্প ১: বিপরীত শব্দ
স্বাধীনতা → পরাধীনতা
নিরস্ত্র → সশস্ত্র
ঘুমন্ত → জাগ্রত
যশস্বী/খ্যাতনামা → অখ্যাত
সাধারণ → অসাধারণ / বিশেষ
সঁপে দেওয়া → কেড়ে নেওয়া
পরাজয় → জয়
📌 বিকল্প ২: সমার্থক শব্দ
স্বাধীনতা → মুক্তি, মুক্তিলাভ
মানুষ → মানব, লোক
সেনা → সৈনিক, ফৌজ
শিক্ষক → গুরু, অধ্যাপক
প্রখ্যাত → বিখ্যাত, খ্যাতনামা
পাষণ্ড → নিষ্ঠুর, নির্দয়
📌 বিকল্প ৩: ক্রিয়ার কাল (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপ)
খায়: খাচ্ছিল (অতীত) → খায় (বর্তমান) → খাবে (ভবিষ্যৎ)
ওঠে: উঠল (অতীত) → ওঠে (বর্তমান) → উঠবে (ভвиси্যৎ)
যায়: গিয়েছিল (অতীত) → যায় (বর্তমান) → যাবে (ভবিষ্যৎ)
পড়ে: পড়ছিল (অতীত) → পড়ে (বর্তমান) → পড়বে (ভবিষ্যৎ)
📌 বিকল্প ৪: স্ত্রীবাচক ও পুরুষবাচক শব্দ
ছাত্র → ছাত্রী
শিক্ষক → শিক্ষিকা
কবি → কবয়িত্রী
পুরুষ → নারী / স্ত্রী
সাংবাদিক → নারী সাংবাদিক
প্রখ্যাত → প্রখ্যাতা
📌 বিকল্প ৫: সাধু ও চলিত রূপ
প্রাণ দিয়াছেন → প্রাণ দিয়েছেন
ঝাঁপাইয়া পড়ে → ঝাঁপিয়ে পড়ে
চালাইয়া যায় → চালিয়ে যায়
টানিয়া হিঁচড়িয়া → টেনেহিঁচড়ে
ঘুমাইতেছিলেন → ঘুমাচ্ছিলেন
৭ নম্বর প্রশ্নের সম্ভাব্য সকল বিকল্প
📌 বিকল্প ১: বিরামচিহ্নের ব্যবহার:
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, পুলিশ ব্যারাকে আর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। নির্বিচারে হত্যা করে ঘুমন্ত মানুষকে। নয় মাস ধরে তারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়।
৮। যুক্তবর্ণ ভেঙে শব্দ তৈরি ও শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি
১. ন্দ (ন + দ) → আনন্দ, সুন্দর
বাক্য: আমরা এদেশের স্বাধীনতা পেয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি।
২. ষ্ণ (ষ + ণ) → কৃষ্ণ, বৈষ্ণব
বাক্য: কৃষ্ণ চূড়া ফুল দেখতে ভারী চমৎকার।
৩. ন্ম (ন + ম) → জন্ম, উন্মাদ
বাক্য: মাতৃভূমির কাছে আমাদের অনেক জন্ম ঋণ থাকে।
৪. স্ত (স + ত) → সর্বস্তর, রাস্তা
বাক্য: মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিল।
৫. দ্ধ (ধ + ধ) → যুদ্ধ, বুদ্ধিজীবী
বাক্য: ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল।
৬. ঙ্ক (ঙ + ক) → অঙ্ক, অহংকার
বাক্য: সহজ-সরল মানুষের কোনো অহংকার থাকে না।
৭. স্প (স + প) → স্পষ্ট, সস্পর্শ
বাক্য: আমাদের সবসময় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা উচিত।