শ্রেণি : পঞ্চম বিষয়: বাংলা পাঠ ১৪: কুপোকাত
Shiuly's Class Room Aklima Shiuly
শ্রেণি : পঞ্চম
বিষয়: বাংলা
পাঠ ১৪: কুপোকাত
শব্দার্থ
চরিত্র ও শারীরিক গঠন সংক্রান্ত শব্দার্থ
কদাকার – দেখতে খারাপ।
ক্ষুদ্রকায় – ছোট আকৃতির।
বিদঘুটে – অদ্ভুত।
সর্বাঙ্গ – সারা শরীর।
হৃষ্টপুষ্ট – মোটাতাজা।
ভাব প্রকাশ ও আচরণ সংক্রান্ত শব্দার্থ
উল্লসিত – খুশি।
পদচারণা – পায়চারি।
পরিতাপ – দুঃখ।
ভড়ং – নকল আচরণ (বইতে এটি 'ভান' হিসেবে টাইপো হতে পারে, মূল অর্থ নকল আচরণ)।
সহাস্যে – হাসিমুখে।
কাজ ও পরিণতি সংক্রান্ত শব্দার্থ
আত্মত্যাগ – পরের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেওয়া।
আপস – মিটমাট।
কুপোকাত – পরাজিত; ধরাশায়ী।
পারঙ্গম – দক্ষ; পটু।
প্রাণপাত – মৃত্যু।
প্রাণ বিসর্জন – জীবন দেওয়া।
বাজিমাত – দারুণ সফলতা।
সমবেতভাবে থাকা – একসাথে থাকা।
প্রকৃতি, বস্তু ও অন্যান্য শব্দার্থ
ইষ্টক – ইট।
গর্জন – জোরালো আওয়াজ।
চিত্রিত – আঁকা।
নেপথ্যে – আড়ালে।
বজ্রনির্ঘোষ – বজ্রের মতো জোরালো আওয়াজ।
রাক্ষস – রূপকথার কল্পিত ভয়ঙ্কর প্রাণী।
সুরভি – সুবাস।
স্তম্ভ – থাম।
স্বয়ং – নিজে।
মূলভাব
'কুপোকাত' নাটিকাটির মূল শিক্ষণীয় বিষয় হলো— "শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বড়।"
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কুপোকাত’ নাটিকাটির মূলভাব নিচে সহজ ও সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
মূলভাব
‘কুপোকাত’ নাটিকাটি মূলত বুদ্ধির জোর ও চতুরতার একটি অসাধারণ গল্প। বনের এক হিংস্র ও অত্যাচারী বাঘের হাত থেকে বাঁচতে বনের সকল পশুরা একটি চুক্তি করে যে, প্রতিদিন একজন করে পশু স্বেচ্ছায় বাঘের আহার হিসেবে তার গুহায় যাবে। প্রথম দিন বাঘের খাদ্য হিসেবে নিরীহ ও ক্ষুদ্র খরগোশের যাওয়ার কথা থাকলেও সে সহজে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে রাজি হয় না। বনের অন্য পশুরা তাকে জোর করে বাঘের কাছে পাঠালেও খরগোশ আশা না হারিয়ে নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।
সে বাঘের কাছে দেরিতে পৌঁছায় এবং বাঘ ক্ষিপ্ত হলে সে একটি চতুর গল্প ফাঁদে। খরগোশ দাবি করে যে, বনের অন্য একজন শক্তিশালী বাঘ তার চেয়েও হৃষ্টপুষ্ট আরেকটি খরগোশকে (তার সেজ আপাকে) পথিমধ্যে কেড়ে খেয়ে ফেলেছে। অহংকারী বাঘ নিজের রাজ্যে অন্য বাঘের উপস্থিতি সহ্য করতে না পেরে রেগে যায় এবং সেই শত্রুকে মারার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
তখন চতুর খরগোশ বাঘটিকে পথ দেখিয়ে একটি গভীর কুয়ার পাড়ে নিয়ে যায়। বাঘ কুয়ার পানিতে উঁকি দিলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায় এবং সেটাকেই অন্য বাঘ মনে করে রাগে অন্ধ হয়ে কুয়ার ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে নিজের বোকামির কারণে অত্যাচারী বাঘটি পানিতে হাবুডুবু খেয়ে 'কুপোকাত' বা ধ্বংস হয়।
শিক্ষণীয় দিক (মূল বার্তা)
বুদ্ধির জোরই শ্রেষ্ঠ বল: শারীরিক শক্তিতে বাঘের চেয়ে অনেক ছোট ও দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও খরগোশ কেবল তার উপস্থিত বুদ্ধি ও চতুরতার জোরে বনের সবচেয়ে বড় শত্রুকে পরাজিত করেছে।
বিপদে ধৈর্য ও সাহস: চরম বিপদেও ভয় না পেয়ে শান্ত মাথায় বুদ্ধি খাটালে যেকোনো বড় সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
অহংকার পতনের মূল: বাঘের অতিরিক্ত অহংকার, রাগ এবং বোকামিই তার নিজের ধ্বংস ডেকে এনেছিল।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: 'কুপোকাত' নাটিকাটি কার লেখা?
উত্তর: মুনীর চৌধুরী।
প্রশ্ন: নাটিকাটিতে মোট কয়টি চরিত্রের উল্লেখ আছে?
উত্তর: ৭টি চরিত্রের।
প্রশ্ন: প্রথম দৃশ্যে অরণ্যের এক পাশে কী দেখা যাচ্ছিল?
উত্তর: একটি মাটির ঢিবি।
প্রশ্ন: মাটির ঢিবির গায়ে কী চিত্রিত ছিল?
উত্তর: স্তম্ভের আকারে ইষ্টক চিত্রিত।
প্রশ্ন: পশুরা বনে কীসের আয়োজন করেছিল?
উত্তর: পশুদের জনসভা।
প্রশ্ন: পশুদের জনসভার সভাপতি কে হয়েছিলেন?
উত্তর: মোষ।
প্রশ্ন: কার হাত থেকে বাঁচতে বনের পশুরা জনসভা করেছিল?
উত্তর: এক ভীষণ বাঘের হাত থেকে।
প্রশ্ন: মোষের মতে জাতীয় স্বার্থে সবার কী করা উচিত?
উত্তর: আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
প্রশ্ন: বাঘের সাথে আলোচনা করে কে আপস-রফা (চুক্তি) করেছিল?
উত্তর: শেয়াল।
প্রশ্ন: শেয়ালের চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দিন কার বাঘের খাদ্য হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল?
উত্তর: খরগোশের।
প্রশ্ন: অন্যের খাদ্য হওয়া প্রসঙ্গে খরগোশের বক্তব্য কী ছিল?
উত্তর: সে অন্যের খাদ্য হতে চায় না, নিজে খেতে চায় এবং বাঁচতে চায়।
প্রশ্ন: সজারু কেন বাঘের কাছে যেতে রাজি হচ্ছিল না?
উত্তর: কারণ তার সারা গায়ে ধারালো কাঁটা ছিল এবং চেহারা ছিল বিদঘুটে।
প্রশ্ন: শেয়াল ময়ূরকে কীভাবে কথা বলতে বলেছিল?
উত্তর: একটু পেখম ছড়িয়ে বলতে বলেছিল।
প্রশ্ন: ময়ূরের মতে বেশি সুন্দর হওয়ার অসুবিধা কী?
উত্তর: বাঘ তাকে সামনে পেলে সবার আগে খেতে চাইবে।
প্রশ্ন: বেলা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বাঘের অবস্থা কেমন হচ্ছে বলে মোষ ধারণা করে?
উত্তর: বাঘ নিশ্চয়ই অস্থির হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: সভা শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ভেঙে দেওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: দূর থেকে বাঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: সভা ভঙ্গ হওয়ার পর কে বাদে বাকি সবাই দ্রুত প্রস্থান করে?
উত্তর: খরগোশ বাদে বাকি সবাই।
প্রশ্ন: একা একা দাঁড়িয়ে খরগোশ কোন কোন সবজির কথা মনে করছিল?
উত্তর: গাজর, মুলো , কচি কচি সবুজ ঘন বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, এবং পালং শাক ।
প্রশ্ন: খরগোশ কার মুখে বা গ্রাসে যেতে চায় না?
উত্তর: বাঘের গ্রাসে।
প্রশ্ন: সবজি (ভেজিটেবিল) খেলে কী বাড়ে ও গজায় বলে খরগোশ উল্লেখ করেছে?
উত্তর: শক্তি বাড়ে এবং বুদ্ধি গজায়।
প্রশ্ন: বাঘের গর্জনকে খরগোশ কীসের সাথে তুলনা করেছে?
উত্তর: বজ্রনির্ঘোষের (বজ্রের তীব্র শব্দের) সাথে।
প্রশ্ন: বাঘের থাবা থেকে বাঁচতে খরগোশ নিজেকে কীভাবে সাজাতে চেয়েছিল?
উত্তর: হাবা (বোকা) সেজে।
প্রশ্ন: বাঘ কখন তার দুপুরের খাদ্য হাজির হওয়ার কথা বলেছিল?
উত্তর: সূর্য ঠিক মাথার উপর ওঠার সঙ্গে সঙ্গে।
প্রশ্ন: দেরি হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করায় খরগোশ বাঘকে কী উত্তর দেয়?
উত্তর: সে বলে যে, দেরি হওয়ার কথা মনে করেই সে কাঁদছে।
প্রশ্ন: বাঘ নিজেকে এই অরণ্যের কী বলে দাবি করেছে?
উত্তর: রাজা বাহাদুর।
প্রশ্ন: বাঘের মতে খরগোশের মতো ক্ষুদ্র পশুর পক্ষে কোনটি মহা সৌভাগ্য?
উত্তর: বাঘের ডোরাকাটা পেটের মধ্যে যেতে পারা।
প্রশ্ন: খরগোশের মতে বাঘের ওপরে কে আছে?
উত্তর: বাঘের ওপরে বনের আরেকজন শক্তিশালী রাজা আছে।
প্রশ্ন: বাঘ নিজেকে কার দাদা বলে উল্লেখ করেছে?
উত্তর: বেড়াল ভাইয়ের দাদা।
প্রশ্ন: বাঘ শেয়াল পণ্ডিতকে কী বলে গালি দিয়েছে?
উত্তর: ভারি পাজি।
প্রশ্ন: খরগোশের মতে তার কোন আপাকে বাঘের জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং তার স্বাস্থ্য কেমন ছিল?
উত্তর: সেজ আপাকে, সে ছিল ইয়া মোটাসোটা ও হৃষ্টপুষ্ট।
প্রশ্ন: খরগোশের সেজ আপাকে কে খেয়ে ফেলেছে বলে খরগোশ দাবি করে?
উত্তর: বনের আরেকটি রাগী ও তেজি বাঘ।
প্রশ্ন: অন্য বাঘের কথা শুনে রাগে বর্তমান বাঘের কী ইচ্ছে হয়েছিল?
উত্তর: অন্য বাঘটির ঘাড় মটকানো এবং তার রক্ত, হাড় ও মাংস লোকমা লোকমা করে খাওয়ার।
প্রশ্ন: দিনের বেলায় বাঘ কী ঠিকমতো করতে পারে না বলে স্বীকার করেছে?
উত্তর: সব কিছু ঠিকমতো ঠাহর (পরিষ্কার দর্শন) করতে পারে না।
প্রশ্ন: অন্য বাঘের গুহাটি কোন পথের মাথায় অবস্থিত বলে খরগোশ জানায়?
উত্তর: পাহাড়িয়া পথের মাথায়।
প্রশ্ন: কুয়ার পানিতে তাকিয়ে বাঘ আসলে কী দেখতে পেয়েছিল?
উত্তর: কুয়ার পানিতে তার নিজের ছায়া (প্রতিবিম্ব) দেখতে পেয়েছিল।
প্রশ্ন: পানির প্রতিবিম্ব দেখে রাগে অন্ধ হয়ে বাঘ কী শব্দ করে কুয়ার মধ্যে ঝাঁপ দিয়েছিল?
উত্তর: 'হালুম! হালুম! হালুম!' শব্দ করে।
প্রশ্ন: বাঘ কুপোকাত হওয়ার পর খরগোশ খুশিতে কোন স্লোগান দিয়েছিল?
উত্তর: "হুররে হুয়া, কেয়া মজা, বনের রাজা কুপোকাত / কেল্লা ফতে বাজিমাত।"
প্রশ্ন: হাতের কবজি শক্ত করতে খরগোশ কোন কোন সবজি খাওয়ার কথা বলেছে?
উত্তর: গাজর, মুলো এবং শাকসবজি।
প্রশ্ন: কোন কোন সবজি খেলে সকল কাজে অতিশয় পারঙ্গম হওয়া যাবে?
উত্তর: পুঁই, পালং এবং টাটকা তাজা শালগম।
প্রশ্ন: ‘অদ্য’, ‘অবুঝ’ এবং ‘অরণ্য’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অদ্য অর্থ ‘আজ’, অবুঝ অর্থ ‘বোঝে না এমন’ এবং অরণ্য অর্থ ‘বন’।
বর্ণনা মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ‘কুপোকাত’ নাট্যাংশের প্রথম দৃশ্যের পটভূমি ও চারপাশের পরিবেশ নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: নাটকের প্রথম দৃশ্যটি একটি গভীর অরণ্যের বা বনের। সেই অরণ্যের এক পাশে একটি মাটির ঢিবি বা টিবি রয়েছে। ঢিবিটির গায়ের গঠন এমনভাবে তৈরি, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় স্তম্ভের আকারে ইষ্টক আঁকা রয়েছে। পুরো দৃশ্যটি এমন একটি আবহ তৈরি করে যেন মনে হবে এটি একটি প্রাচীন কুয়া বা পাতকুয়া এবং ওই মাটির ঢিবির চূড়াতেই রয়েছে সেই কুয়াটির মুখ। এই শান্ত ও রহস্যময় বনের পরিবেশেই বনের সব পশুরা বাঘের হাত থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে একত্রিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: বনের পশুদের জনসভা এবং সেখানে মোষের প্রথম সংলাপটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: বনের এক ভীষণ ও হিংস্র বাঘের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে বনের পশুরা (মোষ, ময়ূর, হরিণ, সজারু, শেয়াল ও খরগোশ) একটি জনসভার আয়োজন করে, যেখানে মোষকে সভাপতি করা হয়। মোষ তার প্রথম সংলাপে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে, বনের সাধারণ স্বার্থে বাঘের সাথে একটা আপস করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিন বাঘের খাবার হিসেবে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত খরগোশটি সেই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হচ্ছে না। মোষ খরগোশকে 'অবুঝ' বলে এবং মনে করে যে খরগোশটি বনের অন্য সবার মঙ্গলের চেয়ে নিজের জীবনকে বেশি মূল্যবান ভাবছে, যা মোষের মতে এক ধরনের স্বার্থপরতা।
প্রশ্ন: শেয়াল খরগোশকে বাঘের কাছে যাওয়ার জন্য রাজি করাতে কী কী যুক্তি বা প্রলোভন দিয়েছিল?
উত্তর: চালাক শেয়াল খরগোশকে রাজি করানোর জন্য অত্যন্ত মিষ্টি কথায় উসকানি বা প্রলোভন দেয়। সে বলে যে, সে অনেক কষ্ট করে বাঘের সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করেছে। বাঘ রাজি হয়েছে যে প্রতিদিন একটা করে পশু পেলে সে অকারণে বনের অন্য কোনো প্রাণীকে হত্যা করবে না। শেয়াল খরগোশকে বলে যে সে যদি আজ বীরের মতো সাহস নিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে এগিয়ে যায়, তবে বনের বাকি পশুরা তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং কাল থেকে অন্যরাও তার পথ অনুসরণ করবে। এভাবে নিজের জীবন দিয়ে বনের সবার মঙ্গল করার জন্য শেয়াল খরগোশকে উৎসাহিত করে।
প্রশ্ন: বাঘের কাছে নিজের না যাওয়ার পক্ষে সজারু কী কী যুক্তি বা কারণ দেখিয়েছে?
উত্তর: সজারু সরাসরি বাঘের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানায়নি, তবে সে চতুরতার সাথে বুঝিয়ে দেয় কেন তাকে প্রথম দিন পাঠানো ঠিক হবে না। সজারু বলে যে তার সারা শরীরে ধারালো কাঁটা রয়েছে এবং তার চেহারাও বেশ বিদঘুটে। বাঘ যদি তাকে খাবার হিসেবে দেখে, তবে সে তৃপ্তি পাওয়ার বদলে তার বিদঘুটে চেহারা ও ধারালো কাঁটা দেখে ভীষণ ক্ষেপে যেতে পারে। বাঘ রেগে গেলে বনের সাধারণ পশুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে এবং সবার বিপদ কমবে না বরং বাড়বে। তাই সজারু খরগোশকেই আগে যাওয়ার তাগিদ দেয়।
প্রশ্ন: "বেশি সুন্দর হওয়ারও অসুবিধা অনেক"— ময়ূরের এই উক্তির তাৎপর্য নাটকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ময়ূর বোঝাতে চেয়েছে যে বনের মাঝে কদাকার বা দেখতে খারাপ হওয়ার যেমন কিছু সুবিধা-অসুবিধা আছে, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত সুন্দর হওয়ারও বড় বিপদ আছে। ময়ূরের পেখম ও রূপ অত্যন্ত চমৎকার হওয়ায় সবাই তার শোভা দেখে মুগ্ধ হয় এবং খাওয়ার কথাও ভুলে যায়। কিন্তু হিংস্র বাঘের সামনে গেলে এই সৌন্দর্যই কাল হতে পারে। বাঘ ময়ূরকে দেখলে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় খাবার মনে করে সবার আগে শিকার করতে চাইবে এবং তাকে ছাড়বে না। তাই ময়ূর নির্ধারিত দিনে বাঘের খাবার হতে রাজি থাকলেও তার মনে বাঘের এই অতিরিক্ত লোভ নিয়ে ভয় কাজ করছিল।
প্রশ্ন: সভাটি শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ভেঙে দেওয়ার পেছনে কী কী কারণ ছিল এবং সবাই চলে যাওয়ার পর একাকী খরগোশের মনের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: বেলা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মোষের ধারণা হয়েছিল যে দুপুরের খাবার না পেয়ে বাঘ নিশ্চয়ই অস্থির হয়ে উঠেছে। ঠিক তখনই দূর থেকে বাঘের তীব্র গর্জন শোনা যেতে থাকে। বাঘের আগমন টের পেয়ে শেয়াল ভয় পেয়ে যায় এবং মনে করে বাঘ হয়তো সভাস্থলেই চলে আসবে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে মোষ দ্রুত সভা ভঙ্গ ঘোষণা করে এবং সবাই প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়।
সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার পর খরগোশ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে সে বেঁচে থাকার আশা হারায় না। সে পৃথিবীর সুন্দর রূপ এবং গাজর, মুলো ও কচি বাঁধাকপির কথা ভেবে এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে। অল্প বয়সে বাঘের খাদ্য হয়ে প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কোনো ইচ্ছে তার ছিল না।
প্রশ্ন: "সকলে বলে ভেজিটেবিলে শক্তি বাড়ে বুদ্ধি গজায়"— এই চরণের মাধ্যমে খরগোশ কী বোঝাতে চেয়েছে এবং সে কীভাবে বাঘের হাত থেকে বাঁচার বুদ্ধি বের করেছিল?
উত্তর: খরগোশ যখন একাকী মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েছিল, তখন নিজেকে শান্ত করতে এবং বাঘের হাত থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে সে শাকসবজি বা ভেজিটেবিলের উপকারিতার কথা মনে করে। সে জানে যে শাকসবজি খেলে শরীরে যেমন শক্তি বাড়ে, তেমনি মাথায় ভালো বুদ্ধিও আসে।
বাঘের গর্জন শুনে সে ভয় পেলেও তার বুদ্ধি সচল হয়। সে বুঝতে পারে বাঘের সাথে শারীরিক শক্তিতে পারা যাবে না, তাকে বুদ্ধির জোরে হারাতে হবে। তাই সে বাঘের সামনে সম্পূর্ণ "হাবা" বা বোকা সাজার অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাঘকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য মনে মনে একটি কাল্পনিক গল্প তৈরি করে ফেলে।
প্রশ্ন: নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বাঘ খরগোশের সামনে কী কী অহংকার করেছিল এবং খরগোশ বাঘের রাগ ও অহংকার কমাতে কোন চতুর চাল চেলেছিল?
উত্তর: বাঘ অত্যন্ত অহংকার করে নিজেকে বনের 'রাজা বাহাদুর' বলে ঘোষণা করে এবং দাবি করে যে তার ওপরে বনের আর কেউ নেই। খরগোশের মতো একটা অতি সামান্য ও শুঁটকো পশুর তার ডোরাকাটা পেটের ভেতরে জায়গা পাওয়া মহা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
খরগোশ বাঘের এই অহংকারে আঘাত হানার জন্য অত্যন্ত বুদ্ধি খাটিয়ে বলে যে, এই বনে বাঘের ওপরেও নাকি আরেকজন শক্তিশালী রাজা আছে। সেই অন্যজনই বনের সব নিয়ম এবং তাদের চুক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে এবং বাঘের জন্য পাঠানো খাবার কেড়ে নিচ্ছে। এই কথা শুনে বাঘের অহংকার ও কৌতূহল দুই-ই বেড়ে যায় এবং সে খরগোশকে গোঁড়া থেকে সব খুলে বলতে বলে।
প্রশ্ন: বাঘের রাগ চরম সীমায় পৌঁছানোর জন্য খরগোশ তার "সেজ আপা"-কে নিয়ে কোন কাল্পনিক গল্প সাজিয়েছিল?
উত্তর: খরগোশ বাঘকে বলে যে শেয়াল পণ্ডিতের কোনো দোষ নেই। বাঘের জন্য আসলে একটি হৃষ্টপুষ্ট ও ইয়া মোটাসোটা সেজ আপাকেই পাঠানো হচ্ছিল, যা দেখলে বাঘের পেট ভরে যেত। কিন্তু পথিমধ্যে বনের আরেকটি হিংস্র ও তেজি বাঘ এসে সেই সেজ আপাকে জোর করে নিজের মুখের গ্রাস বানিয়ে খেয়ে ফেলেছে। খরগোশের এই বানোয়াট গল্প শুনে বর্তমান বাঘটি চরম অপমানিত বোধ করে। নিজের মুখের গ্রাস অন্য বাঘে কেড়ে নিয়েছে শুনে তার অহংকারে আঘাত লাগে এবং সে অন্য বাঘটির ঘাড় মটকে রক্ত-মাংস খাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: বাঘ কীভাবে নিজের বোকামির কারণে কুয়ার পানিতে ঝাঁপ দিল এবং তার পরিণতি কী হলো?
উত্তর: খরগোশ বাঘকে পথ দেখিয়ে একটি গভীর কুয়া বা গর্তের সামনে নিয়ে যায়। বাঘ দিনের আলোয় ভালো দেখতে পায় না—এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে খরগোশ তাকে কুয়ার পানির দিকে তাকাতে বলে। বাঘ যখন কুয়ার পানির দিকে তাকায়, তখন সে পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়। অজ্ঞানতাবশত সেটিকে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বাঘ ভেবে সে মনে করে ওই বাঘটি তাকে দেখে চোখ পাকাচ্ছে এবং পাল্টা গালি দিচ্ছে। রাগে অন্ধ হয়ে নিজের প্রতিবিম্বের সাথে যুদ্ধ করতে এবং তাকে মারতে বাঘটি "হালুম" গর্জন করে কুয়ার গভীর পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হাবুডুবু খেয়ে নিজের পরিণতি (মৃত্যু) ডেকে আনে।
প্রশ্ন: নাটকের শেষে খরগোশ শাকসবজি বা ভেজিটেবিলের গুণগান গেয়ে বনের পশুদের ও পাঠকদের কী বার্তা দিতে চেয়েছে?
উত্তর: বাঘ কুপোকাত হওয়ার পর খরগোশ খুশিতে নাচতে নাচতে গান গেয়ে ওঠে। সে তার গানের মাধ্যমে সবাইকে বেশি করে গাজর, মুলো, পুঁই, পালং ও টাটকা তাজা শালগম খাওয়ার তাগিদ দেয়। সে সবাইকে বার্তা দিতে চায় যে মাংসাশী বাঘের মতো হিংস্র না হয়ে শাকসবজি খেলে মেধা ও শরীরের শক্তি দুই-ই বাড়ে। বুদ্ধির ধার তরবারির মতো তীক্ষ্ণ হয়। শারীরিক শক্তিতে বাঘের চেয়ে ছোট হলেও কেবল সবজি খেয়ে পাওয়া বুদ্ধি ও মেধার জোরেই খরগোশ বাঘের মতো বড় বিপদের মুখোমুখি হয়ে জয়ী হতে পেরেছে। অর্থাৎ, শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বড়—এটিই খরগোশ বোঝাতে চেয়েছে।
শূন্যস্থান পূরণ
১. ‘কুপোকাত’ নাটিকাটি লিখেছেন কবি ________।
উত্তর: মুনীর চৌধুরী।
২. বনের এক পাশে একটি মাটির ________ ছিল।
উত্তর: ঢিবি
৩. বনের পশুরা সবাই মিলে একটি ________ আয়োজন করেছিল।
উত্তর: জনসভার।
৪. পশুদের জনসভায় সভাপতি হয়েছিলেন ________।
উত্তর: মোষ।
৫. বাঘের সাথে আলাপ-আলোচনা করে একটা আপস-রফা করেছিল ________।
উত্তর: শেয়াল।
৬. চুক্তিমতো প্রথম দিন বাঘের খাদ্য হিসেবে ________ যাওয়ার কথা স্থির হয়।
উত্তর: খরগোশের।
৭. সজারু বলে যে তার সর্বাঙ্গে ________ রয়েছে।
উত্তর: কাঁটা।
৮. বাঘের গর্জনকে খরগোশ ________ শব্দের সাথে তুলনা করেছে।
উত্তর: বজ্রনির্ঘোষ।
৯. বাঘের হাত থেকে বাঁচতে খরগোশ বাঘের সামনে ________ সাজার সিদ্ধান্ত নেয়।
উত্তর: হাবা (বা বোকা)।
১০. বাঘ নিজেকে এই অরণ্যের ________ বলে দাবি করেছিল।
উত্তর: রাজা বাহাদুর।
১১. খরগোশ বাঘকে বলে যে তার পথিমধ্যে একটি হৃষ্টপুষ্ট ________-কে অন্য বাঘ খেয়ে ফেলেছে।
উত্তর: সেজ আপা।
১২. বাঘ দিনের বেলায় সব ঠিকমতো ________ করতে পারে না।
উত্তর: ঠাহর।
১৩. কুয়ার পানিতে তাকিয়ে বাঘ আসলে নিজের ________ দেখতে পেয়েছিল।
উত্তর: ছায়া (বা প্রতিবিম্ব)।
১৪. রাগে অন্ধ হয়ে বাঘটি ________ শব্দ করে কুয়ার মধ্যে ঝাঁপ দেয়।
উত্তর: হালুম! হালুম! হালুম!
১৫. বাঘ কুয়ায় পড়ে যাওয়ার পর খরগোশ গেয়ে ওঠে, "বনের রাজা ________"।
উত্তর: কুপোকাত।
শব্দার্থের ওপর ভিত্তি করে শূন্যস্থান পূরণ
১৬. 'কদাকার' শব্দের অর্থ হলো দেখতে ________।
উত্তর: খারাপ।
১৭. 'ক্ষুদ্রকায়' বলতে ________ আকৃতির বোঝায়।
উত্তর: ছোট।
১৮. 'আত্মত্যাগ' শব্দের অর্থ হলো পরের জন্য নিজের ________ দিয়ে দেওয়া।
উত্তর: জীবন।
১৯. 'নেপথ্যে' শব্দের সঠিক অর্থ হলো ________।
উত্তর: আড়ালে।
২০. 'বাজিমাত' শব্দের অর্থ হলো দারুণ ________।
উত্তর: সফলতা।
শাকসবজির গুণাগুণ (ছড়ার অংশ) থেকে শূন্যস্থান পূরণ
২১. সকলে বলে ভেজিটেবিলে শক্তি বাড়ে ________ গড়ায়।
উত্তর: বুদ্ধি।
২২. শাকসবজি খেলে বুদ্ধির ধার হবে ________ মতো তীক্ষ্ণ।
উত্তর: তরবারির।
২৩. শাকসবজি ও গাজর-মুলো খেলে শক্ত হবে হাতের ________।
উত্তর: কবজি।
২৪. পুঁই, পালং ও টাটকা তাজা ________ খেলে সকল কাজে পারঙ্গম হওয়া যায়।
উত্তর: শালগম।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর
১. ‘কুপোকাত’ নাটিকাটি কার রচনা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) মুনীর চৌধুরী
(ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর: (গ) মুনীর চৌধুরী
২. নাটিকাটিতে মোট কতটি চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে?
(ক) ৫টি
(খ) ৬টি
(গ) ৭টি
(ঘ) ৮টি
উত্তর: (গ) ৭টি
৩. বনের পশুদের জনসভার সভাপতি কে হয়েছিলেন?
(ক) বাঘ
(খ) শেয়াল
(গ) মোষ
(ঘ) হরিণ
উত্তর: (গ) মোষ
৪. বাঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কে আপস-রফা (চুক্তি) করেছিল?
(ক) সজারু
(খ) ময়ূর
(গ) শেয়াল
(ঘ) খরগোশ
উত্তর: (গ) শেয়াল
৫. চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দিন বাঘের খাদ্য হিসেবে কার যাওয়ার কথা ছিল?
(ক) হরিণ
(খ) খরগোশ
(গ) সজারু
(ঘ) ময়ূর
উত্তর: (খ) খরগোশ
৬. "জাতীয় স্বার্থে সকলেরই আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত"— উক্তিটি কার?
(ক) শেয়াল
(খ) মোষ
(গ) হরিণ
(ঘ) বাঘ
উত্তর: (খ) মোষ
৭. সজারু বাঘের কাছে যেতে চায়নি কেন?
(ক) সে অলস ছিল
(খ) তার সর্বাঙ্গে কাঁটা ও চেহারা বিদঘুটে ছিল
(ग) সে বাঘকে ভয় পেত না
(ঘ) সে বনের রাজা হতে চেয়েছিল
উত্তর: (খ) তার সর্বাঙ্গে কাঁটা ও চেহারা বিদঘুটে ছিল
৮. ময়ূরের মতে বেশি সুন্দর হওয়ার বড় অসুবিধা কোনটি?
(ক) সবাই তাকে হিংসা করে
(খ) সে ঠিকমতো নাচতে পারে না
(গ) বাঘ তাকে সামনে পেলে সবার আগে খেতে চাইবে
(ঘ) তার পেখম ভারী হয়ে যায়
উত্তর: (গ) বাঘ তাকে সামনে পেলে সবার আগে খেতে চাইবে
৯. সভা শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ভেঙে দেওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?
(ক) বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা ছিল
(খ) বাঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিল
(গ) রাত হয়ে গিয়েছিল
(ঘ) পশুদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল
উত্তর: (খ) বাঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিল
খরগোশের বুদ্ধির চাল ও বাঘের পতন সংক্রান্ত MCQ
১০. বাঘের থাবা থেকে বাঁচতে খরগোশ বাঘের সামনে কী সেজেছিল?
(ক) চালাক পণ্ডিত
(খ) অত্যন্ত সাহসী
(গ) হাবা বা বোকা
(ঘ) অসুস্থ রোগী
উত্তর: (গ) হাবা বা বোকা
১১. বাঘ নিজেকে এই অরণ্যের কী বলে দাবি করেছিল?
(ক) মহারাজ
(খ) সম্রাট বাহাদুর
(গ) রাজা বাহাদুর
(ঘ) প্রধান মন্ত্রী
উত্তর: (গ) রাজা বাহাদুর
১২. বাঘ নিজেকে কোন প্রাণীর "দাদা" বলে উল্লেখ করেছে?
(ক) সিংহ
(খ) বেড়াল
(গ) শেয়াল
(ঘ) চিতা
উত্তর: (খ) বেড়াল
১৩. বাঘের রাগ চরম সীমায় পৌঁছাতে খরগোশ তার কোন কাল্পনিক আত্মীয়ের গল্প বলেছিল?
(ক) বড় ভাই
(খ) সেজ আপা
(গ) ছোট মামা
(ঘ) মেজ কাকা
উত্তর: (খ) সেজ আপা
১৪. খরগোশের বানোয়াট গল্প অনুযায়ী তার সেজ আপার স্বাস্থ্য কেমন ছিল?
(ক) রোগা ও পাতলা
(খ) মাঝারি গোছের
(গ) ইয়া মোটাসোটা ও হৃষ্টপুষ্ট
(ঘ) অতি ক্ষুদ্রকায়
উত্তর: (গ) ইয়া মোটাসোটা ও হৃষ্টপুষ্ট
১৫. বাঘ দিনের বেলায় কোন সমস্যায় ভোগে বলে স্বীকার করেছিল?
(ক) সে কানে কম শোনে
(খ) সে সব ঠিকমতো ঠাহর (পরিষ্কার দর্শন) করতে পারে না
(গ) তার মাথা ঘোরে
(ঘ) সে জোরে হাঁটতে পারে না
উত্তর: (খ) সে সব ঠিকমতো ঠাহর (পরিষ্কার দর্শন) করতে পারে না
১৬. কুয়ার পানিতে উঁকি দিয়ে বাঘ আসলে কী দেখতে পেয়েছিল?
(ক) একটি বড় মাছ
(খ) খরগোশের সেজ আপাকে
(গ) নিজের ছায়া বা প্রতিবিম্ব
(ঘ) অন্য একটি আসল বাঘ
উত্তর: (গ) নিজের ছায়া বা প্রতিবিম্ব
১৭. রাগে অন্ধ হয়ে বাঘটি কোন শব্দ করতে করতে কুয়ায় ঝাঁপ দিয়েছিল?
(ক) হুররে হুয়া!
(খ) কেয়া মজা!
(গ) হালুম! হালুম! হালুম!
(ঘ) বাঁচাও! বাঁচাও!
উত্তর: (গ) হালুম! হালুম! হালুম!
শাকসবজির গুণাগুণ (ছড়ার অংশ) ও শব্দার্থ সংক্রান্ত MCQ
১৮. খরগোশের মতে ‘ভেজিটেবিল’ বা শাকসবজি খেলে শরীরে কী ঘটে?
(ক) অলসতা বাড়ে
(খ) শক্তি বাড়ে ও বুদ্ধি গজায়
(গ) ঘুম বেশি হয়
(ঘ) গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়
উত্তর: (খ) শক্তি বাড়ে ও বুদ্ধি গজায়
১৯. শাকসবজি ও গাজর-মুলো খেলে শরীরের কোন অংশ শক্ত হয়?
(ক) পায়ের গোড়ালি
(খ) পিঠের হাড়
(গ) হাতের কবজি
(ঘ) দাঁতের মাড়ি
উত্তর: (গ) হাতের কবজি
২০. কোন কোন সবজি খেলে সকল কাজে ‘অতিশয় পারঙ্গম’ হওয়া যায়?
(ক) আলু ও পটল
(খ) পুঁই, পালং ও টাটকা তাজা শালগম
(গ) বেগুন ও টমেটো
(ঘ) লাউ ও মিষ্টি কুমড়ো
উত্তর: (খ) পুঁই, পালং ও টাটকা তাজা শালগম
২১. 'কুপোকাত' শব্দটির সঠিক অর্থ কী?
(ক) অত্যন্ত বুদ্ধিমান
(খ) পরাজিত বা ধরাশায়ী
(গ) খুব রাগী
(ঘ) বিজয়ী
উত্তর: (খ) পরাজিত বা ধরাশায়ী
২২. 'নেপথ্যে' শব্দটির অর্থ কী?
(ক) সামনে
(খ) আড়ালে
(গ) কুয়ার ভেতর
(ঘ) বনের মাঝে
উত্তর: (খ) আড়ালে
২৩. 'বাজিমাত' বলতে কী বোঝায়?
(ক) বাজনা বাজানো
(খ) বাজি ধরা
(গ) দারুণ সফলতা
(ঘ) জুয়া খেলা
উত্তর: (গ) দারুণ সফলতা
## ১. বিপরীত শব্দ (Antonyms)
শব্দগুলোর বিপরীত অর্থ প্রকাশকারী শব্দসমূহ:
* সুন্দর → কদাকার / কুৎসিত
* বিপদ → নিরাপদ
* বুদ্ধি → নির্বুদ্ধিতা / বোকামি
* ক্ষুদ্রকায় → বিশালকায় / দীর্ঘকায়
* অবুঝ → সুবুঝ / বুদ্ধিমান
* তাজা → বাসি / পচা
* পরাজিত → বিজয়ী
* কষ্ট → আনন্দ / সুখ
* স্বার্থ → পরার্থ
* অল্প → অনেক / বহু
* শান্ত → অশান্ত / উগ্র
* সুযোগ → দুর্যোগ
* ঘন → পাতলা
* তীব্র → মৃদু
* প্রস্থান → প্রবেশ
* বিসর্জন → আবাহন / গ্রহণ
* অপস → বিরোধ
* দুশমন → দোস্ত / বন্ধু
-----------------------------
২. সমার্থক শব্দ (Synonyms)
শব্দের একই অর্থ প্রকাশকারী একাধিক প্রতিশব্দ:
* অরণ্য → বন, জঙ্গল, কানন, বিপিন
* বাঘ → ব্যাঘ্র, শাদুল, পশুপতি
* হরিণ → মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ
* মোষ → মহিষ
* কুয়া → কূপ, পাতকুয়া, ইন্দারা
* পৃথিবী → ধরণী, ধরা, বসুধা, জগত
* প্রাণ → জীবন, হায়া, জীবাত্মা
* রক্ত → রুধির, লোহিত, শোণিত
* সূর্য → রবি, ভানু, তপন, দিবাকর
* গোঁড়া → শুরু, আদি, মূল
* দুঃখ → কষ্ট, বেদনা, ক্লেশ
* উল্লসিত → আনন্দিত, খুশি, পুলকিত
* গর্জন → হুংকার, জোরালো আওয়াজ
* পারঙ্গম → দক্ষ, পটু, নিপুণ
* সুরভি → সুবাস, সুগন্ধ, ঘ্রাণ
* স্তম্ভ → থাম, খুঁটি, পিলঁড়
* ছায়া → প্রতিবিম্ব, আকৃতি