টেস্ট পরীক্ষার উত্তরপত্র শ্রেণি: পঞ্চম বিষয়: বাংলা (পাঠ ১২: শিষ্যের সাধনা) পূর্ণমান: ৭০
Shiuly's Class Room
Aklima Shiuly
টেস্ট পরীক্ষার উত্তরপত্র
শ্রেণি: পঞ্চম
বিষয়: বাংলা (পাঠ ১২: শিষ্যের সাধনা)
পূর্ণমান: ৭০
নিচের অনুচ্ছেদটি মনোযোগ দিয়ে পড়ো এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
নাম তার একলব্য। সারাদিন তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকে ছেলেটা। অব্যর্থ তার হাতের নিশানা। একলব্য মস্ত বীর হতে চায়। তাই একদিন সে ছুটল গুরু দ্রোণের কাছে। একলব্য শুনেছে, দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাঁর কাছে শিখতে পারলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে। সাহসে বুক বেঁধে একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে। সেখানে রাজপুত্ররা ধনুক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছে। তাদের গুরু দ্রোণ একাদিকে বসে আছেন। একলব্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের তির ছোড়া দেখতে লাগল। তার সাহস হলো না গুরুর কাছে যেতে।
১। প্রদত্ত অনুচ্ছেদটির মূলভাব নিজের ভাষায় ৫টি বাক্যে লেখো। [৫x১=৫]
উত্তর:
অনুচ্ছেদটি মূলত একলব্য নামের এক সাধারণ ছেলের মস্ত বীর হওয়ার স্বপ্ন এবং তার গভীর আকুলতার কথা বলে। একলব্য অত্যন্ত দক্ষ তিরন্দাজ হতে চেয়েছিল এবং তার হাতের নিশানা ছিল একদম নিখুঁত বা অব্যর্থ। সে জানতে পারে যে রাজগুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের পরম যত্নে তির চালনা শিক্ষা দেন। গুরুর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা পাওয়ার আশায় একলব্য মনের ভেতর প্রবল ইচ্ছা নিয়ে গুরু দ্রোণের খোঁজে ছুটে যায়। অবশেষে রাজবাড়ির মাঠে পৌঁছে সে রাজপুত্রদের অনুশীলন দেখতে পেলেও, গভীর সংকোচ ও সাহসের অভাবে সরাসরি গুরুর কাছে যেতে পারে না।
২। নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টি): [২x৫=১০]
(ক) একলব্য সারাদিন কী নিয়ে মেতে থাকত এবং তার নিশানা কেমন ছিল?
উত্তর: একলব্য সারাদিন তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকত। তার হাতের নিশানা ছিল একদম অব্যর্থ, অর্থাৎ যা কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না।
(খ) একলব্য কেন গুরু দ্রোণের কাছে ছুটে গিয়েছিল?
উত্তর: একলব্য মনে মনে মস্ত বড় বীর হতে চেয়েছিল। সে শুনেছিল গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান, তাই নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সে দ্রোণের কাছে ছুটে গিয়েছিল।
(গ) রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা কীসের অনুশীলন করছিল?
উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা গুরু দ্রোণের তত্ত্বাবধানে ধনুক থেকে তির ছোড়ার নিবিড় অনুশীলন করছিল।
(ঘ) রাজবাড়ির মাঠে ঢুকেও একলব্য কেন গুরুর কাছে যেতে পারল না?
উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্রদের রাজকীয় পরিবেশ এবং গুরু দ্রোণের গম্ভীর উপস্থিতি দেখে একলব্যের মনে দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। কেবল সাহসের অভাবেই সে সরাসরি গুরুর সামনে এগিয়ে যেতে পারেনি।
(ঙ) বনের মধ্যে হঠাৎ কোন প্রাণীটি চোখের আড়াল হয়ে গেল?
উত্তর: বনের মধ্যে তৃতীয় রাজপুত্র (অর্জুন) যখন লক্ষ্যভেদ করার জন্য ছুটছিল, তখন হঠাৎ করে একটি হরিণ তার চোখের আড়াল হয়ে গেল।
(চ) শিকারি কুকুরের মুখের চারপাশে কয়টি তির কীভাবে বিঁধে ছিল?
উত্তর: শিকারি কুকুরের মুখের চারপাশে চমৎকার কৌশলে পাঁচটি তির বিঁধে ছিল, যা কুকুরটির ক্ষতি না করে কেবল তার চিৎকার করার মুখটি বন্ধ করে দিয়েছিল।
(ছ) দ্রোণকে দেখে বনের ভেতরের যুবকটি (একলব্য) কী করল?
উত্তর: দ্রোণকে বনের ভেতর নিজের আখড়ায় আসতে দেখে যুবকটি হাতের তির-ধনুক ফেলে একদৌড়ে ছুটে এল এবং পরম ভক্তিতে গুরুর পায়ের ধুলা নিয়ে প্রণাম করল।
৩। নিচের রচনামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (৪টির মধ্যে যেকোনো ৩টি): [৬x৩=১৮]
(ক) গুরু দ্রোণ একলব্যকে তির চালনা শেখাতে রাজি না হওয়ায় একলব্যের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল এবং সে মলিন মুখে ফিরে এসে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? ৫টি বাক্যে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
১) গুরু দ্রোণ যখন একলব্যকে বললেন যে তিনি কেবল রাজকুমারদেরই তির চালনা শেখান, তখন একলব্যের মন ভেঙে যায় এবং তার মুখ কালো হয়ে যায়।
২) সে অত্যন্ত দুঃখ ও মলিন মুখে গুরু দ্রোণের সম্মুখ থেকে একা একা বিদায় নিয়ে বনের দিকে ফিরে আসে।
৩) তবে গুরুর এই প্রত্যাখ্যানের পরেও সে ভেতরে ভেতরে দমে যায়নি বা নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেয়নি।
৪) সে মনে মনে স্থির সিদ্ধান্ত নেয় যে গুরুর সাহচর্য না পেলেও সে এখন থেকে নিজেই নিজের তির চালনা অনুশীলন করবে।
৫) সে গুরু দ্রোণের একটি মাটির মূর্তি তৈরি করে তাকেই সামনে রেখে নিজের একাগ্র সাধনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে।
(খ) বনের ভেতর শিকারি কুকুরটির সাথে কী ঘটেছিল? কুকুরের মুখে তির বিঁধে থাকা সত্ত্বেও কোন দুটি অদ্ভুত বা আশ্চর্য ব্যাপার রাজপুত্র দেখতে পেয়েছিল?
উত্তর: বনের ভেতর শিকারি কুকুরটি চিৎকার করে যখন একলব্যের ধনুর্বিদ্যার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল, তখন একলব্য নিখুঁত নিশানা দিয়ে তার মুখের চারপাশ তির মেরে বন্ধ করে দেয়।
কুকুরটির মুখে তির বিঁধে থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় রাজপুত্র যে দুটি অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক বিষয় লক্ষ্য করেছিলেন তা হলো:
১) এতগুলো তির মুখের চারপাশে বিঁধে থাকা সত্ত্বেও কুকুরটির মুখে কোথাও এক ফোঁটা রক্তের দাগ ছিল না।
২) কুকুরটি কোনো রকম তীব্র যন্ত্রণা বা ছটফটানি প্রকাশ করছিল না, তার মধ্যে কষ্টের কোনো লক্ষণই ছিল না।
(গ) "এখন নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেল"—এখানে কার অহংকার কেন ধুলায় মিশে গেল? গল্প অবলম্বনে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: এখানে গুরু দ্রোণের প্রিয় শিষ্য তথা তৃতীয় রাজপুত্রের (অর্জুনের) অহংকার ধুলায় মিশে গিয়েছিল।
রাজপুত্র দীর্ঘদিন রাজপ্রাসাদে শ্রেষ্ঠ গুরুর অধীনে শিক্ষা লাভ করে নিজেকে পৃথিবীর অদ্বিতীয় এবং সেরা তিরন্দাজ মনে করত। এই নিয়ে তার মনে মনে বেশ অহংকার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বনের মধ্যে শিকারি কুকুরের মুখে করা অভাবনীয় লক্ষ্যভেদ এবং পরবর্তীতে লতাপাতায় ঘেরা একফালি উঠোনে একলব্যের অসাধারণ তির চালনার কৌশল দেখে সে সম্পূর্ণ স্তম্ভিত হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে যে রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও বনের এক সাধারণ যুবক তার চেয়েও অনেক নিখুঁত ও নিপুণভাবে তির ছুঁড়তে পারে। নিজের চেয়েও বহুগুণ শ্রেষ্ঠ বীরের এই অলৌকিক সাধনা চোখের সামনে দেখে রাজপুত্রের দীর্ঘদিনের সেই শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার মুহূর্তের মধ্যে ধুলায় মিশে যায়।
(ঘ) একলব্য কীভাবে গুরু দ্রোণকে নিজের গুরু বলে মেনে নিয়েছিল? দ্রোণ ফিরিয়ে দেওয়ার পরেও সে কীভাবে শেষ পর্যন্ত সেরা তিরন্দাজ হয়ে উঠল?
উত্তর: গুরু দ্রোণ একলব্যকে সাধারণ শিকারির ছেলে বলে রাজকীয় নিয়ম রক্ষার্থে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু একলব্য মন থেকে দ্রোণকেই তার একমাত্র পথপ্রদর্শক ও গুরু বলে স্বীকার করে নিয়েছিল।
সে বনে ফিরে গিয়ে গুরু দ্রোণের একটি মাটির অবয়ব বা মূর্তি নির্মাণ করে। প্রতিদিন সকালে গুরুর সেই মূর্তির চরণে প্রণাম জানিয়ে সে একা একা তির চালনার অভ্যাস শুরু করে। গুরুর প্রতি অটল ভক্তি, তীব্র ইচ্ছাশক্তি এবং দিনের পর দিন করা গভীর ও নিবিড় অনুশীলনই তাকে কোনো বাহ্যিক শিক্ষক ছাড়াই প্রকৃতির বুকে গড়ে তোলে। নিজের চরম একাগ্রতা এবং অবিচল সাধনার ফলেই দ্রোণ তাকে সরাসরি শিক্ষা না দেওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সে পৃথিবীর অন্যতম সেরা তিরন্দাজ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিল।
৪। শব্দার্থ লেখো (৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টি): [১x৫=৫]
(ক) অব্যর্থ = যা বিফল বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।
(খ) সাধনা = গভীর চেষ্টা, আরাধনা বা কঠোর পরিশ্রম।
(গ) নিশানা = লক্ষ্য বা টিপ।
(ঘ) পারদর্শী = কোনো নির্দিষ্ট কাজে অত্যন্ত দক্ষ বা ওস্তাদ।
(ঙ) ব্যাঘাত = বাধা, বিঘ্ন বা গোলমাল।
(চ) হতভম্ভ = স্তম্ভিত, অবাক বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাওয়া।
(ছ) নিবিড় = গভীর, অতিশয় মনোযোগের সঙ্গে বা ঘন।
৫। সঠিক উত্তরটি বাছাই করো (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন): [১x৫=৫]
(১) একলব্য কার ছেলে ছিল?
উত্তর: (গ) শিকারির
(২) শিকারি কুকুরের মুখে তির বিঁধে থাকার পরও কোন জিনিসটি দেখা যায়নি?
উত্তর: (খ) রক্তের দাগ
(৩) রাজপুত্রদের মধ্যে তির চালনায় সবচেয়ে সেরা ও পারদর্শী কে ছিল?
উত্তর: (গ) তৃতীয় জন
(৪) একলব্যকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছিল কোনটি?
উত্তর: (গ) নিবিড় অনুশীলন
(৫) একলব্যের তির চালনা দেখে তৃতীয় রাজপুত্র কীভাবে তাকিয়ে রইল?
উত্তর: (খ) অবাক হয়ে
৬। নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও (৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টি): [১x৫=৫]
(ক) 'বীর' শব্দটির বিপরীত শব্দ লেখো।
উত্তর: ভীরু / কাপুরুষ।
(খ) 'ইচ্ছা' শব্দটির বিপরীত শব্দ লেখো।
উত্তর: অনিচ্ছা।
(গ) 'বিরক্ত' শব্দটির বিপরীত শব্দ লেখো।
উত্তর: সন্তুষ্ট / অনুরক্ত।
(ঘ) 'গুরু' শব্দটির বিপরীত শব্দ লেখো।
উত্তর: শিষ্য / লঘু।
(ঙ) 'নিক্ষেপ' শব্দটির সমার্থক শব্দ লেখো।
উত্তর: ছোড়া / নিক্ষেপণ / চালনা।
(চ) "সেখানে রাজপুত্ররা অনুশীলন করছে"— বাক্যটি কোন কালে আছে?
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।
(ছ) 'শিষ্য' শব্দটির স্ত্রীবাচক রূপ লেখো।
উত্তর: শিষ্যা।
৭। এককথায় প্রকাশ করো (৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টি): [১x৫=৫]
(ক) যা বিফল বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না = অব্যর্থ
(খ) গভীর চেষ্টা বা আরাধনা = সাধনা
(গ) রাজার পুত্র = রাজপুত্র / রাজকুমার
(ঘ) কোনো কাজে যে খুব দক্ষ = পারদর্শী / দক্ষ
(ঙ) তির চালনা করে যে = তিরন্দাজ
(চ) কোনো বিকার বা আবেগ নেই যার = নির্বিকার
(ছ) যা দেখে স্তম্ভিত বা অবাক হতে হয় = আশ্চর্য / আশ্চর্যজনক
৮। যুক্তবর্ণ ভেঙে একটি করে শব্দ তৈরি করো এবং তা দিয়ে বাক্য গঠন করো (৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টি): [১x৫=৫]
(ক) ন্ধ (ন + ধ)
শব্দ: ধনুক
বাক্য: একলব্য সারাদিন তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকত।
(খ) র্ত (ত + রেফ)
শব্দ: অব্যর্থ
বাক্য: শিকারির হাতের নিশানা ছিল একদম অব্যর্থ।
(গ) ন্ত্র (ন + ত + র-ফলা)
শব্দ: রাজপুত্র
বাক্য: দ্রোণ কেবল রাজপুত্রদের ধনুর্বিদ্যা শেখাতেন।
(ঘ) ষ্ট (ষ + ট)
শব্দ: কষ্ট
বাক্য: একলব্য তির মেরেও কুকুরটিকে কোনো কষ্ট দেয়নি।
(ঙ) শ্চ (শ + চ)
শব্দ: আশ্চর্য
বাক্য: যুবকের এই আশ্চর্য ধনুর্বিদ্যা দেখে রাজপুত্র অবাক হলেন।
(চ) ম্ভ (ম + ভ)
শব্দ: হতভম্ভ
বাক্য: কুকুরের অবস্থা দেখে গুরু দ্রোণ হতভম্ভ হয়ে রইলেন।
(ছ) ক্ষ (ক + ষ)
শব্দ: পরীক্ষা
বাক্য: একদিন গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের পরীক্ষা নিতে বনে এলেন।
৯। মনে করো তোমার নাম নিবিড়। 'শিষ্যের সাধনা' গল্পের একলব্যের চরিত্র থেকে "মনোযোগ ও নিয়মিত অনুশীলনের গুরুত্ব" কী শিখেছ, তা জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো। [৫x১=৫]
উত্তর:
তারিখ: ১৭ জুলাই, ২০২৬
মিরপুর, ঢাকা।
প্রিয় অনিক,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গতকাল আমি আমার বাংলা বইয়ের 'শিষ্যের সাধনা' গল্পটি পড়েছি। এই গল্পে একলব্যের চরিত্রটি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং আমি বুঝতে পেরেছি যে জীবনে বড় কিছু করতে হলে মনোযোগ ও নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই।
একলব্যকে যখন গুরু দ্রোণ রাজকীয় নিয়মের কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সে কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। সে বনের মাঝে একা একা দিনের পর দিন গভীর মনোযোগ দিয়ে তির চালনার অনুশীলন করেছে। তার এই অবিচল সাধনা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলেই সে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির বুকে থেকে পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ হতে পেরেছিল। এই গল্প থেকে আমি শিখেছি যে, আমাদের সামনে যত বাঁধাই আসুক না কেন, আমরা যদি আমাদের লক্ষ্যে স্থির থেকে প্রতিদিন নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন বা পড়াশোনা করি, তবে যেকোনো কঠিন কাজেও পারদর্শী হওয়া সম্ভব। তুমিও গল্পটি পড়ে দেখতে পারো।
আজ আর নয়। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম জানিও।
তোমার প্রিয় বন্ধু,
নিবিড়।
১০। নিচের যেকোনো ১টি বিষয়ে অনুচ্ছেদ/রচনা লেখো (কমপক্ষে ১০০ শব্দ): [৫x১=৫]
(ক) গুরুভক্তি ও শিষ্যের সাধনা
ভূমিকা:
মানবজীবনে শিক্ষার আলো জ্বালানোর পেছনে শিক্ষকের বা গুরুর অবদান অপরিসীম। অন্যদিকে, গুরুর দেওয়া সেই শিক্ষাকে কঠোর পরিশ্রম দিয়ে ফুটিয়ে তোলাই হলো শিষ্যের সাধনা। গুরু ও শিষ্যের এই সুন্দর সম্পর্ক প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
গল্পের আলোনে গুরুভক্তি:
'শিষ্যের সাধনা' গল্পে আমরা একলব্যের মধ্যে গুরুভক্তির এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ দেখতে পাই। গুরু দ্রোণ রাজকীয় নিয়মের কারণে একলব্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। কিন্তু একলব্য মন থেকে দ্রোণকেই নিজের গুরু বলে মেনে নিয়েছিল। সে বনে ফিরে গিয়ে গুরুর একটি মাটির মূর্তি তৈরি করে এবং প্রতিদিন সকালে তাকে প্রণাম জানিয়ে নিজের অনুশীলন শুরু করত। গুরুর প্রতি এই গভীর ভক্তিই ছিল তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
সাফল্যের চাবিকাঠি শিষ্যের সাধনা:
শুধু গুরুকে ভক্তি করলেই চলে না, নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন গভীর সাধনা ও নিবিড় চর্চা। একলব্য বনের প্রতিকূল পরিবেশেও দমে যায়নি। সে প্রতিদিন একাগ্র চিত্তে তির চালনার অভ্যাস করেছে। তার এই অবিচল ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর সাধনার ফলেই সে পরবর্তীতে রাজপুত্রদের চেয়েও অনেক বড় ও সেরা তিরন্দাজ হতে পেরেছিল।
উপসংহার:
গুরুভক্তি এবং শিষ্যের নিজের সাধনা—এই দুটি জিনিস যখন একসাথে মিলে যায়, তখন জীবনে যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়। একলব্যের চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে, গুরুকে শ্রদ্ধা করলে এবং নিজের কাজে সৎ থাকলে জীবনে সাফল্য নিশ্চিত আসবেই।
(খ) নিয়মানুবর্তিতা ও অনুশীলন
ভূমিকা:
যেকোনো কাজে বা বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মানুবর্তিতা এবং নিয়মিত অনুশীলন। নিয়মানুবর্তিতা মানে হলো নিয়ম মেনে ঠিক সময়ে কাজ করা, আর অনুশীলন মানে হলো সেই কাজটি বারবার চর্চা করা। এই দুইয়ের গুণেই মানুষ তার জীবনের শ্রেষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
অনুশীলনের গুরুত্ব:
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে—"অনুশীলনই মানুষকে নিখুঁত করে তোলে।" আমরা যতই মেধাবী হই না কেন, নিয়মিত চর্চা বা প্র্যাকটিস না করলে সেই মেধা একদিন হারিয়ে যায়। 'শিষ্যের সাধনা' গল্পে একলব্য কোনো বড় শিক্ষকের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই শুধু দিনের পর দিন নিবিড় অনুশীলন করে পৃথিবীর সেরা তীরন্দাজ হতে পেরেছিল। তার হাতের অব্যর্থ নিশানা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি, বছরের পর বছর তির ছোড়ার অভ্যাসের ফলেই তা সম্ভব হয়েছিল।
ছাত্রজীবনে এর ভূমিকা:
ছাত্রজীবনে নিয়মানুবর্তিতা ও অনুশীলনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা করা, পড়াগুলো বারবার রিভিশন দেওয়া এবং পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখা একজন ভালো ছাত্রের প্রধান লক্ষণ। যে শিক্ষার্থী প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করে এবং নিয়মিত চর্চা করে, পরীক্ষায় সে-ই সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করে।
উপসংহার:
নিয়মানুবর্তিতা ও অনুশীলন ছাড়া কোনো মানুষ বা কোনো জাতি পৃথিবীতে বড় হতে পারেনি। তাই আমাদের সবার উচিত অলসতা পরিহার করে প্রতিদিন নিয়মের মধ্যে চলা এবং নিজের কাজের নিয়মিত অনুশীলন করা। তবেই আমাদের জীবন সুন্দর ও সফল হবে।
(গ) আমার প্রিয় চরিত্র: একলব্য
ভূমিকা:
বাংলা পাঠ্যবইয়ের 'শিষ্যের সাধনা' গল্পের একলব্য আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি চরিত্র। সে ছিল বনের এক সাধারণ শিকারির ছেলে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, বিনয়, গুরুভক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রিয় চরিত্র হওয়ার কারণ:
একলব্য আমার প্রিয় চরিত্র হওয়ার প্রধান কারণ তার হার না মানা মানসিকতা। গুরু দ্রোণ তাকে রাজকুমারদের সমকক্ষ মনে না করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যা যে কাউকে হতাশ করে দিতে পারত। কিন্তু একলব্য মলিন মুখে ফিরে এলেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েনি। সে নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠার এক অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গুরুর মাটির মূর্তি বানিয়ে তার সামনে একমনে ধনুর্বিদ্যা রপ্ত করার কৌশলটি সত্যিই অসাধারণ।
চরিত্রের মহান গুণাবলি:
একলব্যের চরিত্রে কোনো অহংকার ছিল না। বনের মধ্যে রাজপুত্রের শিকারি কুকুরের মুখ সে এমন কৌশলে তির দিয়ে বন্ধ করেছিল যে কুকুরের একটুও কষ্ট হয়নি বা এক ফোঁটা রক্তও পড়েনি। এটি তার পরম মায়া ও অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তাছাড়া, রাজগুরু দ্রোণকে বনের মধ্যে দেখে সে কোনো ক্ষোভ না রেখে একদৌড়ে এসে পায়ের ধুলো নিয়ে প্রণাম করেছিল। তার এই নম্রতা ও গুরুভক্তি সত্যিই অনুকরণীয়।
উপসংহার:
একলব্য চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে, সুযোগ-সুবিধা কম থাকলেও শুধু নিজের চেষ্টা আর একাগ্রতা দিয়ে পৃথিবীর সেরা হওয়া সম্ভব। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হয়, একলব্য আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। তাই সে আমার জীবনের অন্যতম এক আদর্শ ও প্রিয় চরিত্র।