টেস্ট পরীক্ষার উত্তরপত্র শ্রেণি: পঞ্চম বিষয়: বাংলা (আমার বাংলা বই) পাঠ ১১: কুটির শিল্প

 Shiuly's Class Room 

Aklima Shiuly 

টেস্ট পরীক্ষার  উত্তরপত্র

শ্রেণি: পঞ্চম

বিষয়: বাংলা (আমার বাংলা বই)

পাঠ ১১: কুটির শিল্প 

পূর্ণমান: ৫০

সময়: ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট


১. সঠিক উত্তরটি খাতায় লেখো (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন):

(ক) বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা কত শতকে বাংলাদেশে এসেছিলেন?

১. দ্বাদশ শতকে

২. ত্রয়োদশ শতকে

৩. চতুর্দশ শতকে

৪. পঞ্চদশ শতকে

উত্তর: ৩. চতুর্দশ শতকে

(খ) শরীর ঠাণ্ডা রাখার জন্য নিচের কোন পাটি ব্যবহার করা হয়?

১. নকশি পাটি

২. শীতলপাটি

৩. খেজুর পাটি

৪. চটাই পাটি

উত্তর: ২. শীতলপাটি

(গ) বাঁশের তৈরি বসার আসনকে কী বলা হয়?

১. চেয়ার

২. টেবিল

৩. মোড়া

৪. ধামা

উত্তর: ৩. মোড়া

(ঘ) মসলিন কাপড় তৈরিতে কেমন সুতা ব্যবহার করা হতো?

১. মোটা সুতা

২. পাটের সুতা

৩. সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা

৪. উলের সুতা

উত্তর: ৩. সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা

(ঙ) কুলা, চালুনি ও মোড়া তৈরির কাজে প্রধান কাঁচামাল কোনটি?

১. মাটি

২. বাঁশ

৩. পিতল

৪. সোনা

উত্তর: ২. বাঁশ


২. উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:

(ক) কুটিরে তৈরি হতো বলে এসব জিনিসকে বলা হয় কুটির পণ্য

(খ) মসলিন কাপড় ব্যবহার করতেন মুঘল বাদশাহ ও বেগমরা।

(গ) কাঁসা-পিতল দিয়ে বানানো হয় তেজসপত্র

(ঘ) চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে শীতলপাটি বানানো হয়।

(ঙ) গরমে শরীরকে শীতল করে পাখার বাতাস

(চ) শহরের বা নাগরিক মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।


৩. নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখো:

  • পণ্য: বিক্রির জন্য তৈরি করা জিনিস বা সামগ্রী।

  • কারুশিল্প: হাত দিয়ে তৈরি অত্যন্ত সুন্দর ও শৈল্পিক জিনিসপত্র।

  • সমাদর: কদর, সম্মান বা খুব পছন্দ করা।

  • তেজসপত্র: থালা, বাসন বা রান্নাবান্নার ধাতব সামগ্রী।

  • বিবরণ: কোনো বিষয় বা ঘটনার বর্ণনা।

  • নকশিকাঁথা: সুঁই-সুতা দিয়ে সুন্দর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী কাঁথা।

  • নিদর্শন: প্রমাণ, চিহ্ন বা উদাহরণ।


৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

(ক) কুটির শিল্প কাকে বলে?

উত্তর: কুটিরে বা ঘরে বসে ছোট স্কেলে প্রধানত নিজের হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে যেসব শিল্পকর্ম বা জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।

(খ) বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করা হয় এমন ৪টি জিনিসের নাম লেখো।

উত্তর: বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করা ৪টি জিনিস হলো— কুলা, চালুনি, মোড়া এবং চেয়ার।

(গ) মসলিন কাপড় কেন পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল?

উত্তর: মসলিন কাপড় অত্যন্ত সূক্ষ্ম, হালকা ও মিহি সুতা দিয়ে তৈরি হতো। এর রাজকীয় সৌন্দর্য ও অনন্য বুননশৈলীর কারণে এটি সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল।

(ঘ) প্রাচীনকালে কোন কোন দেশের বণিকরা মসলিন কিনে নিয়ে যেতেন?

উত্তর: প্রাচীনকালে আরব ও ইউরোপের দেশের বণিকরা বাংলাদেশ থেকে মসলিন কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন।

(ঙ) বর্তমানে তাঁতিরা তাঁতে কী কী কাপড় তৈরি করেন?

উত্তর: বর্তমানে তাঁতিরা তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর ও গামছা তৈরি করেন।

(চ) হাতপাখা বানাতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: হাতপাখা বানাতে প্রধানত তালপাতা, বাঁশ, বেতের চটা এবং কাপড় ব্যবহার করা হয়।


৫. বর্ণনামূলক ও কাঠামাবদ্ধ প্রশ্নের উত্তর দাও:

(ক) জামদানি শাড়িকে কেন বিশ্বে সুপরিচিত কুটির শিল্পের নিদর্শন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: জামদানি শাড়ি সম্পূর্ণ হাতে চালিত তাঁত মেশিনে অত্যন্ত নিপুণ কারুকাজ ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি করা হয়। এর সুক্ষ্ম বুনন শৈলী এবং গুণগত মান সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে সমাদৃত। আবহমান বাংলার এই নিজস্ব ও অনন্য শিল্পটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, তাই একে বিশ্বে সুপরিচিত কুটির শিল্পের নিদর্শন বলা হয়।

(খ) গ্রামীণ নারীরা কীভাবে একটি সাধারণ কাঁথাকে নকশিকাঁথায় রূপ দিতেন? নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: গ্রামীণ নারীরা প্রথমে পুরনো কাপড়ের (যেমন শাড়ি বা ধুতি) কয়েকটি স্তর ঘরের মেঝেতে সুন্দর করে মেলে বা পেড়ে কাঁথা সেলাই করতেন। এরপর সেই সাধারণ কাঁথার ওপর তারা সুই আর রঙিন সুতা ব্যবহার করে নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল, লতা, পাতা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ দৃশ্যের কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতেন। এভাবেই তাদের নিপুণ পরিশ্রমে একটি সাধারণ কাঁথা আকর্ষণীয় নকশিকাঁথায় রূপ পেত।

(গ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং গৃহসজ্জায় কুটির পণ্যের গুরুত্ব ৫টি বাক্যে আলোচনা করো।

উত্তর: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং গৃহসজ্জায় কুটির পণ্যের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:

১. মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশের মোড়া, ঝুড়ি ইত্যাদি আমাদের রোজকার নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।

২. ঘরের মেঝেতে বসার বা শোয়ার জন্য শীতলপাটি দারুণ আরামদায়ক ও উপকারী।

৩. নকশিকাঁথা, দেয়ালে ঝুলানো শিকা বা পাটের তৈরি শৈল্পিক সামগ্রী ঘর সাজাতে বা গৃহসজ্জায় সমাদর পায়।

৪. বাঁশ, বেত বা মাটির তৈরি জিনিসপত্র প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ভূমিকা রাখে।

৫. এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে থাকে।

(ঘ) অতীত ও বর্তমানের কুটির শিল্পের উৎপাদন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন এসেছে? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: অতীতে কুটির শিল্পের পণ্যগুলো গ্রামের মানুষ নিজেদের ঘরে বসে সম্পূর্ণ হাতে নিজেদের মেধা ও শ্রমে তৈরি করত। এগুলো কেবল স্থানীয় গ্রামের ছোট বাজারে বা মেলায় নিয়ে অল্প পরিসরে বিক্রি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নাগরিক বা শহরের মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে এই জিনিসগুলো আর শুধু ঘরে বা কুটিরেই সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক কারখানাতেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে এসব পণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এগুলো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।


৬. বামপাশের বাক্যাংশের সাথে ডানপাশের বাক্যাংশের মিল করো (সরাসরি উত্তর):

(ক) সোনা-রূপা দিয়ে বানানো হয় -------> কানের দুল, গলার মালা ও চুড়ি।

(খ) পাটের তৈরি জিনিসের মধ্যে রয়েছে ------> বস্তা, দড়ি, পাপোশ ও শিকা।

(গ) গ্রামীণ নারীরা প্রথমে মেঝেতে -------> কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাত।

(ঘ) বিশ্বে সুপরিচিত বাংলাদেশের -------> জামদানি শাড়ি।

(ঙ) মাটির তৈরি খেলনা হলো -------> হাতি-ঘোড়া ও পুতুল।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url